রেডিও তেহরানের রংধুন আসর সম্পর্কে ভারতের দুই শ্রোতার ভালোলাগার অনুভূতি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i97516-রেডিও_তেহরানের_রংধুন_আসর_সম্পর্কে_ভারতের_দুই_শ্রোতার_ভালোলাগার_অনুভূতি
শিশু-কিশোরদের জন্য রেডিও তেহরানের সাপ্তাহিক পরিবেশনা রংধনু আসর। অনুষ্ঠানটি ছোটদের জন্য নির্মিত হলেও বড়রাও এ অনুষ্ঠানটি পছন্দ করেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত রংধনু আসর সম্পর্কে ভালোলাগার অনুভূতি জানিয়ে ভারতের দুই শ্রোতা ইমেইল করেছেন। তাদের অভিমত এখানে তুলে ধরা হলো:
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১ ০৬:৫৬ Asia/Dhaka
  • রেডিও তেহরানের রংধুন আসর সম্পর্কে ভারতের দুই শ্রোতার ভালোলাগার অনুভূতি

শিশু-কিশোরদের জন্য রেডিও তেহরানের সাপ্তাহিক পরিবেশনা রংধনু আসর। অনুষ্ঠানটি ছোটদের জন্য নির্মিত হলেও বড়রাও এ অনুষ্ঠানটি পছন্দ করেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত রংধনু আসর সম্পর্কে ভালোলাগার অনুভূতি জানিয়ে ভারতের দুই শ্রোতা ইমেইল করেছেন। তাদের অভিমত এখানে তুলে ধরা হলো:

প্রিয় মহোদয়,

রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগের সকল কলাকুশলী ও শ্রোতৃবৃন্দকে আমার অন্তরের ভালোবাসা ও প্রীতিময় শুভেচ্ছা জানাই। আশা করি সকলে ভালো আছেন, সুস্থ ও সুন্দর আছেন।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর সান্ধ্য অধিবেশনে 'রংধনু আসর' অনুষ্ঠানটিতে একটি রূপকথার গল্প শুনে নিজের ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানটি শিশু-কিশোরদের জন্য হলেও সকল বয়সের শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নিতে সক্ষম। গাজী আব্দুর রশিদ ও আকতার জাহানের কণ্ঠে এই গল্পপাঠ অনুষ্ঠানটিকে বেশ জমজমাট করে তোলে। আশরাফুর রহমানের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি আমাদের চেতনাকে সমৃদ্ধ করে।

গল্পের মূল বিষয়টি হল- এক বনে এক সিংহ বাস করত। স্বাভাবিকভাবেই সে ছিল বনের রাজা। কার্যত প্রচণ্ড অহংকারী। একদিন সে এক বানর ও শেয়ালকে মানুষের ভয়ে পালাতে দেখল। তাদের কাছে জানল মানুষ ভীষণ ভয়ংকর প্রাণি। পরদিন সিংহ মানুষের খোঁজে বেরল মানুষকে জব্দ করবে বলে। পথে হাতি, উট ও গরুর সঙ্গে দেখা হলে জানতে পারল যে, মানুষের অত্যাচারে এরা সবাই অস্থির ও অসহায়। পরে এক ঘোড়া তাকে মানুষের সন্ধান দিল। মানুষের সাথে দেখা হতেই সিংহ হম্বিতম্বি করে নিজেকে জাহির করতে লাগল। মানুষ কিন্তু ভীষণ নরম সুরে সিংহকে তোয়াজ করতে লাগল এবং তার জন্য বিশ্রামাগার তৈরির ইচ্ছাপ্রকাশ করল।

সিংহ রাজি হতেই কাঠ ও লোহা দিয়ে তৈরি হল সেই ঘর। সিংহ ঘরে ঢুকতেই বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিল মানুষ। তারপর সিংহের গায়ে ঢালা হল গরম পানি। প্রচণ্ড যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মানুষের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করল সিংহ। মানুষকে শ্রেষ্ঠ প্রাণি হিসেবে মেনে নিল। তারপর মানুষটি দরজা খুলে দিলে একদৌড়ে বনের দিকে পালিয়ে গেল।

গল্পটি শুনে মানুষ হিসেবে পৃথিবীর বুকে জন্মাতে পেরেছি বলে ভীষণ গর্বিত হলাম। তবে, শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব পালন করা উচিত। মানুষ হয়ে আমরা অন্য মানুষের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করেছি। একশ্রেণির মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে আমরা তাদের বঞ্চিত করেছি। আবার যথেচ্ছভাবে পরিবেশকে দূষিত করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে অন্য প্রাণিদের বাঁচার অধিকার কেড়ে নিয়েছি। তাই একদিকে যেমন অসহায়, মজলুম মানুষের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে, তেমনি যেসব প্রাণি ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব আজ সংকটে তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখার অঙ্গীকার করতে হবে। তবেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে আমাদের মনুষ্যজন্ম সার্থক হবে।

সুন্দর গল্পটি শুনিয়ে আমাদের চেতনাকে জাগ্রত করবার জন্য রেডিও তেহরানকে ধন্যবাদ জানাই।

 

শুভেচ্ছান্তে,

ভাস্কর পাল, মহেন্দ্রনগর (অগ্রগামী ক্লাবের নিকটে)

পোস্ট: নাটাগড় (সোদপুর), জেলা: উত্তর ২৪ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

 

জনাব,

আসসালামু আলাইকুম। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ তারিখে যথারীতি প্রাত্যাহিক অনুষ্ঠানের পর শুরু হলো কিশোর-কিশোরী তথা আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকল শ্রোতা বন্ধুদের কাঙ্ক্ষিত ও প্রাণপ্রিয় অনুষ্ঠান রংধনু আসর। যার পরিবেশনায় ছিলেন শ্রদ্ধেয় ভাই গাজী আব্দুর রশিদ ও বোন আকতার জাহান। আর প্রযোজনা ও রচনায় ছিলেন শ্রদ্ধার সুহৃদ ভাই আশরাফুর রহমান।

অনুষ্ঠানটিতে ইরানের ইস্কান্দারনামা গ্রন্থ থেকে বনের রাজা সিংহ, বানর ও শিয়ালের একটি মনোরম ও চমৎকার মনোরঞ্জনের গল্প প্রচার করা হয়। এর মাধ্যমে মানুষ যে মেধা ও জ্ঞান-গরিমায় সবার উর্ধ্বে এবং পশুদের ওপর প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে তা সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

সেই সাথে ছোট্টবন্ধু আফিফা ইয়াসমিন মারিয়ামের অসাধারণ কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য বিষয়গুলো ছিল বেশ আকর্ষণীয়। এখানে একটি কথা উল্লেখযোগ্য যে, ভাই গাজী আব্দুর রশিদ ও বোন আকতার জাহান-এর অসাধারণ বাচনভঙ্গি ও অভিনয়ের মাধ্যমে সুন্দর উপস্থাপন ও হৃদয়গ্রাহী অভিব্যক্তি- সত্যি পাঠক শ্রোতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। অসাধারণ অনুভূতির স্বাদ ও বিনোদনের অনুষ্ঠান উপহার দেবার জন্য রেডিও তেহরান ও অনুষ্ঠান এ অংশগ্ৰহণকারী সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই চিঠির যবনিকা টানছি। ধন্যবাদান্তে-

 

আব্দুস সালাম সিদ্দিক

সভাপতি, সকাল-সন্ধ্যা রেডিও লিসেনার্স ক্লাব,

কান্দুলিয়া, বনঘূগী,বড়পেটা, আসাম, ভারত।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।