সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন দাবি ও বাস্তবতা
আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কথিত সন্ত্রাস বিরোধী দফতরের সমন্বয়কারী জাস্টিন অ্যাস্পিরাল প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির বৈঠকে দাবি করেছেন, তার ভাষায় ইরান সমর্থক সন্ত্রাসী চক্রগুলোকে মোকাবেলা করা হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সারা বিশ্ব জানে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৃষ্টিতে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তারপরও মার্কিন এ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের প্রতি ইরান সমর্থন দিচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবেলা করা মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী দফতরের প্রধান দায়িত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান যখন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ ব্যাপারে স্পষ্ট নীতি গ্রহণ করেছে ঠিক তখন আমেরিকা সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন দেয়ার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করল। অথচ আমেরিকার অস্ত্র ও অর্থ সহায়তায় গড়ে ওঠা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডে ইরান নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমেরিকার সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীরা ইরানের পূর্ব সীমান্তে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং মার্কিন সবুজ সংকেতে তারা ইরানের বেশ ক’জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা করেছে।
বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থনকে আমেরিকা সন্ত্রাসীদের প্রতি সমর্থন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এ থেকে বোঝা যায় মার্কিন কর্মকর্তারা সন্ত্রাসবাদকে তাদের অশুভ লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছ। অথচ ইরান এমনসব সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে লড়াই করছে যারা এলাকার পর এলাকা জুড়ে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং এ সব সন্ত্রাসীরা আমেরিকারই পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে উঠেছে। আমেরিকার অস্ত্র, অর্থ ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা আল কায়দা, আইএসআইএল বা দায়েশ, আন্ নুসরা, জয়সুল ইসলাম, আহরার আশ্ শামসহ এ ধরণের আরো বহু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরাক ও সিরিয়ায় নিরীহ মানুষের ওপর গণহত্যা ও ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞ চালাচ্ছে।
লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাক ও সিরিয়ার সেনা ও গণবাহিনী আমেরিকার হাতে গড়া এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। ফলে ইসলামী ইরান শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য প্রতিরোধ সংগ্রামীদের প্রতি সমর্থন জানাবে এটাই তো স্বাভাবিক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মের নামে গড়ে ওঠা বিভিন্ন নামের এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আসলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যাপারে মার্কিন কর্মকর্তাদের কথাবার্তা থেকেই তাদের পরস্পর বিরোধী নীতি বা অবস্থানের বিষয়টি ফুটে ওঠে। গত পাঁচ বছর ধরে চলা সিরিয়া সংকটের ব্যাপারে মার্কিন অবস্থান থেকে প্রমাণিত হয়েছে, দায়েশ ও আন্ নুসরার মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো মার্কিন লক্ষ্য পূরণের জন্য তাদের সেবাদাস হিসেবে কাজ করছে।
আমেরিকা মুখে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা বলছে এমনকি এ লক্ষ্যে প্রায় ৬০টি দেশ নিয়ে সন্ত্রাস বিরোধী জোটও তারা গঠন করেছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে আমেরিকা দায়েশকেই বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন জঙ্গি বিমানগুলো ইরাকে অবস্থিত দায়েশ সন্ত্রাসীদের অবস্থানের ওপর প্যারাসুটের সাহায্যে অস্ত্রের চালান নিক্ষেপ করছে।
সম্প্রতি মার্কিন সিনেট ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভূমিকার জন্য সৌদি আরবের নিন্দা করে একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। এটাও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে মার্কিন দ্বিমুখী নীতির আরেকটি প্রমাণ এবং এক ধরণের প্রতারণা মাত্র ও বিশ্বকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা। কারণ সৌদি আরব ও আমেরিকা যৌথভাবে সন্ত্রাসীদেরকে সমর্থন দিচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সৌদি আরবের সহযোগিতায় দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/২০