‘দর্পন অনুষ্ঠান শুনে আমার উপলব্ধি হলো, ইসলামে উগ্রতার কোনো স্থান নেই’
প্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। আমার প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানবেন। দীর্ঘদিন পর আবার প্রিয় বেতার কেন্দ্রটিতে চিঠি লিখতে বসেছি। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগে সর্বশেষ চিঠি লিখেছিলাম গত ২১/০১/২০২২ তারিখে, আর আজ ২২/০২/২০২২ তারিখ। অর্থাৎ গত একমাসে কোনো চিঠি লিখতে পারিনি। এটি আমার জন্য সত্যিই বেদনার, কষ্টের।
আসলে পেশাগত কারণে গত একমাস খুব ব্যস্ত ছিলাম। চিঠি লিখতে না পারলেও অনুষ্ঠান শুনেছি নিয়মিত। এছাড়া রেডিও তেহরানের জন্য আরো কিছু কাজ করেছি প্রতিদিনই। তবে গত একমাসে বেশ কয়েকবার চিঠি লিখতে বসেও শেষ করতে পারিনি। ব্যস্ততার কারণে কিছুটা লিখেই চিঠি শেষ না করে উঠে যেতে হয়েছে।
প্রতিদিনের মত আজও (২২/০২/২০২২, মঙ্গলবার) রেডিও তেহরানের অনুষ্ঠান শুনছিলাম। পুরো অনুষ্ঠানটি শুনেছি ফেসবুক লাইভে। রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগ থেকে আজকের প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলো হল বিশ্বসংবাদ, দৃষ্টিপাত, দর্পন, কথাবার্তা এবং গল্প ও প্রবাদের গল্প। তন্মধ্যে দর্পন খুবই ভালো লেগেছে।
আজ (২২/০২/২০২২, মঙ্গলবার) দর্পনের উপস্থাপনায় ছিলেন আকতার জাহান ও সোহেল আহমেদ। তাদের চমৎকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সত্যিই উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। দর্পনে আজ পাকিস্তানে উগ্র ওহাবি গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের কারণ এবং তাদের প্রতি কয়েকটি ইসলামী রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে বেলুচিস্তানসহ পাকিস্তানের বিভিন্ন স্থানে আফগান শরণার্থীদের বিভিন্ন ক্যাম্পে অর্থ সহায়তা দিয়ে ওহাবি ও সালাফি মতবাদ প্রচারে সহায়তা করে। সৌদি সরকার এসব ক্যাম্পে বই ও ভিডিও সরবরাহ করে ওহাবি-সালাফি মতবাদ প্রচার ও প্রশিক্ষণে ভূমিকা রাখে। তবে এসব মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের সাথে সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠতাও বড় ভূমিকা রেখেছিল বলে মনে করা হয়। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর সময়ে সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠতার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে এবং পরবর্তীতে তা আরো বৃদ্ধি পায়। আর এর ফলে পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে দাতব্য সংস্থার নামে ওহাবি-সালাফি মতবাদ প্রচার করা সৌদি আরবের জন্য সহজ হয়।
এরপর অনুষ্ঠানে ওসামা বিন লাদেনের উত্থান ও আল-কায়েদা গোষ্ঠীর বিস্তার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। মূলতঃ বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনে উগ্র ওহাবি-সালাফি মতবাদ প্রবেশ করায় তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
আজকের অনুষ্ঠান শুনে আমার উপলব্ধি হলো যে, আসলে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। এখানে উগ্রতার কোনো স্থান নেই। কিন্তু কিছু উগ্র গোষ্ঠী ইসলামকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে তরুণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করছে। ফলে ইসলাম ও মুসলমানদেরই ক্ষতি হচ্ছে বেশি। আমরা সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে শান্তিপূর্ণ উপায়ে দাবি আদায়ের ওপর জোর দেয়ার আহ্বান জানাই। কোনো বিষয়ে যদি প্রতিবাদ করতে হয়, তা করতে হবে প্রকাশ্যে, গোপন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে প্রকাশ্য লড়াইয়ের মাধ্যমে, ফিলিস্তিন ভাইয়েরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য লড়াই করছে প্রকাশ্যে। গোপন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কখনোই ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, ইসলাম একে সমর্থনও করে না।
তথ্যবহুল ও শিক্ষণীয় অনুষ্ঠানটির জন্য রেডিও তেহরানের বাংলা বিভাগকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।
ধন্যবাদান্তে,
মোঃ শাহাদত হোসেন
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ- ২৩০০, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।