যুদ্ধে জড়িয়ে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেহাল দশা সৌদি আরবের
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i21700-যুদ্ধে_জড়িয়ে_আর্থ_রাজনৈতিক_ক্ষেত্রে_বেহাল_দশা_সৌদি_আরবের
সৌদি আরবের সপ্তম রাজা দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে সংস্কার এবং অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর জন্য ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজ পুত্রের হাতে দেশের শাসনভার তুলে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
অক্টোবর ০১, ২০১৬ ১৭:৫৮ Asia/Dhaka
  • যুদ্ধে জড়িয়ে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেহাল দশা সৌদি আরবের

সৌদি আরবের সপ্তম রাজা দেশের পররাষ্ট্র নীতিতে সংস্কার এবং অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর জন্য ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়ে নিজ পুত্রের হাতে দেশের শাসনভার তুলে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ওয়াশিংটনে আল খালিজ গবেষণা কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ সম্প্রতি তার ভাইদের সঙ্গে দেখা করেছেন। ওই সাক্ষাতে তিনি খুব শিগগিরি রাজার পদ ছেড়ে দেশের ক্ষমতা তারই পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে ন্যস্ত করার বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। প্রতিবেদনে আরো এসেছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে দেশের ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার জন্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থন পাওয়ার জন্য রাজা সালমান বিন আব্দুল আজিজ লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেছেন। সৌদি রাজা তার পুত্রের হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা অর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ক্ষমতা বদলের এ পদক্ষেপ নিলেন।

ভবিষ্যৎ রাজা মোহাম্মদ বিন সালমান বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পিতাকে সহযোগিতা করে আসছেন। তবে তার অযোগ্যতার কারণে এ দুই ক্ষেত্রেই সৌদি আরব চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। গত দুই বছরে সৌদি আরব নজিরবিহীন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে এবং এর ফলে জনগণের মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে বেশ কিছু দায়িত্ব বা ক্ষমতা দেয়ার পর তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়া ছাড়াও দেশটি ইয়েমেনের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে এবং সিরিয়া যুদ্ধে পরাজিত হয়েছে। এ ছাড়া ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত থাকার সঙ্গে সৌদি আরবের নাম উঠে আসায় মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল পাশ হয়েছে যার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আদালতে মামলা করতে পারবে। এটাও সৌদি রাজ পরিবারের জন্য বিরাট মাথাব্যথার কারণ হয় দাঁড়িয়েছে।

সৌদি আরবে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়ার পর দেশটির কর্মকর্তারা নতুন অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে। এরই মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে সৌদি জনগণ তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। গণঅসন্তোষ এখন ছাই চাপা আগুনের মতো বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি চাকরিজীবীদের বেতন কমিয়ে আনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার তার বিরুদ্ধে যে কোনো আন্দোলনের ব্যাপারে জনগণকে হুশিয়ার করে দিয়েছেন সৌদি ওয়াহাবি মুফতি আব্দুল আজিজ আশ্‌ শেইখ।

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় এবং বিকৃত ওয়াহাবি মতবাদ ও সন্ত্রাস বিস্তারের পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ হয়ে যাওয়ায় সৌদি সরকার অর্থনীতিতে কৃচ্ছতা সাধনের নীতি নিয়েছে। এ বছর সৌদি আরবের বাজেট ঘটতির পরিমাণ ৯০০০ কোটি ডলার। গত বছরও তাদের বাজেট ঘাটির পরিমাণ ছিল দশ হাজার কোটি ডলার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবাদ না করার জন্য সৌদি মুফতি জনগণের প্রতি যে হুশিয়ারি দিয়েছেন তা থেকেই তাদের অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। #                

পার্সটুডে/ মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১