নিরাপত্তা পরিষদে ইয়েমেন বিষয়ে ইরান-বিরোধী মার্কিন-সৌদি ষড়যন্ত্র বানচাল
ইরান ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ও জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠীগুলোর কাছে কোনো অস্ত্র পাঠায়নি বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে স্বীকার করেছেন।
মার্কিন ও সৌদি সরকারসহ কয়েকটি আরব সরকার অভিযোগ করে আসছিল যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দু-হাজার ২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে ইয়েমেনে অস্ত্র পাঠাচ্ছে।
কিন্তু গত বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক প্রতিবেদনে ঘোষণা করেছে যে, থামিয়ে দেয়া জাহাজ বা নৌকাগুলো ইরান থেকে অস্ত্র পেয়েছে বা সেসব অস্ত্র ছিল ইরানের-এমন কোনো প্রমাণই দেখা যায়নি।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক ওয়াকেফহাল সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের এই রিপোর্ট সৌদি সরকারকে খুবই নাখোশ করেছে এবং এই রিপোর্টটি যাতে নিরাপত্তা পরিষদের সনদ বা রেকর্ড হিসেবে প্রকাশ করা না হয় সে জন্য রিয়াদের রাজতান্ত্রিক সরকার ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরান ইয়েমেনের নানা দল বা গোষ্ঠীকে অস্ত্র দিচ্ছে এই অপবাদ প্রচার করে মার্কিন ও সৌদি সরকার দরিদ্র ইয়েমেনের মজলুম জনগণের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত আরব জোটের আগ্রাসনের পক্ষে সাফাই দেয়ার চেষ্টা করছে।
সৌদি ও মার্কিন সরকার এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে এই অপবাদ প্রচার করছে যখন সৌদি বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা যুদ্ধ-বিমান ও বোমা ব্যবহার করে ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণের ওপর যে গণহত্যা চালাচ্ছে ও সেখানকার বেসামরিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করছে। এমনকি ব্রিটেন ও মার্কিন সরকারসহ পশ্চিমা সরকারগুলো ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর গণহত্যা ও মানবতা-বিরোধী অভিযানগুলো ফাঁস হওয়ার পরও ইয়েমেন বিরোধী সৌদি সরকার এবং তার সহযোগী অন্যান্য আরব সরকারগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রি বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইয়েমেনে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে নির্বিচার আগ্রাসন ও ধ্বংসাত্মক বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সরকারের আজ্ঞাবহ সৌদি সরকার। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৩১