সৌদি আরব ও জর্দানের সঙ্গে রেল-যোগাযোগের প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল
দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল মালামাল পরিবহনের জন্য সৌদি আরব ও জর্দানের সঙ্গে রেল-যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ এই খবর দিয়েছে।
ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর পরিবহনমন্ত্রী ‘ইয়িসরায়েল কাজ’ গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য-দূত জ্যাসন গ্রিনব্ল্যাটের কাছে এই প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বলে জানান।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে ইসরাইলি পণ্য জর্দানের মধ্য দিয়ে অধিকৃত ফিলিস্তিনের হাইফা বন্দর ও রেলপথে সৌদি আরবের দাম্মাম বন্দরে পাঠানো সম্ভব হবে।
আরব সরকারগুলো ইসরাইলি এই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানাতে রাজি হননি ইসরাইলের পরিবহনমন্ত্রী।
২০১১ সালে সিরিয়ায় চাপানো যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইল তুরস্ক ও ইউরোপ থেকে আসা পণ্য হাইফা বন্দরের মাধ্যমে পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি আরব দেশে পাঠানোর সুযোগ করে দেয়। তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও সীমিত সক্ষমতার কারণে এই পণ্য-প্রবাহ খুব একটা বিস্তৃত হয়নি।
রেলপথ চালু করা হলে উত্তেজনাপূর্ণ সীমানাগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের সংযোগ-পথগুলো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
ইসরাইল প্রতিবেশী আরব সরকারগুলোর সঙ্গে তিন বার যুদ্ধ করলেও মিশর ও জর্দানের ওপর কথিত শান্তি-চুক্তি বা আপোষ-রফা চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। ইসরাইল এখনও প্রকাশ্যে সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেনি। যদিও আঞ্চলিক শক্তি ইরানকে নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগের কারণে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব সরকারগুলোর ঘনিষ্ঠতা দিনকে দিন বাড়ছে।
ইসরাইলের পরিবহনমন্ত্রী ‘কাজ’ রেল-সংযোগ গড়ার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে গভীর আশাবাদী এবং তিনি শিগগিরই লিকুদ দলের প্রধান হওয়ারও আশা করছেন যা এখন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দখলে।
এর আগে ২০০৯ সালেও পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে ‘কাজ’ গাজার উপকূলে একটি কৃত্রিম দ্বীপ গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত ওই দ্বীপে ইসরাইলের একটি বিমান ও সমুদ্র-বন্দর গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি।
নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ইসরাইল গাজার ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। গাজায় স্থল-পথে পণ্য ঢুকতে দেয়ার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের বাধা দিয়ে আসছে দখলদার ও বর্ণবাদী এই শাসক-চক্র। ইসরাইল গাজার সীমান্তের সঙ্গে সামরিক দেয়ালও গড়ে তুলেছে।
অন্যদিকে মিশর সরকারও গাজার সংগ্রামী হামাস সরকারের বিরোধী হওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই গাজা-সীমান্ত বন্ধ করে রাখে।
২০১৬ সালের পর থেকে সৌদি আরব, পারস্য উপসাগরীয় শেখ-শাসিত নানা রাষ্ট্রে ও মিশরে ইহুদিবাদীদের সফরের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। আর এ থেকেই এই আরব সরকারগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের অপ্রকাশ্য ঘনিষ্ঠতা স্পষ্ট।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো গত আগস্ট মাসে জানিয়েছিল যে গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬০০ ইহুদিবাদী ইসরাইলি নাগরিক জর্দানের মধ্য দিয়ে সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সফর করেছে। আগের বছরের তুলনায় এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল নয় দশমিক তিন শতাংশ। আর ওই একই সময়ে অর্থাৎ গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসে ৯৯ হাজার ২০০ ইহুদিবাদী তাবা সীমানা দিয়ে মিশরের সিনাই উপত্যকা সফর করেছিল। আর ২০১৫ সালের সাত মাসের তুলনায় এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪৪ দশমিক নয় শতাংশ যা রীতিমত নাটকীয়।
গত বছরের জুলাই মাসে সাবেক সৌদি জেনারেল আনোয়ার ইশকির নেতৃত্বে সৌদি সরকারের এক প্রতিনিধিদল ইসরাইল সফর করে।
সৌদি সরকারের কৌশলগত গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান ইশকি ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ডোর গোল্ড এবং যুয়াভ মর্দেখাইয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। এ দুই ইসরাইলি কর্মকর্তা অধিকৃত ফিলিস্তিনে দমনকামী সহিংস তৎপরতায় সমন্বয় করে থাকেন।
ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ বলেছে, সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন সরকারের অনুমতি নিয়েই ইশকি ও তার দলবল ইসরাইল সফর করেছে। #
পার্সটুডে/মু.আ.হুসাইন/৬