সিরিয়ায় ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতি মার্কিন সমর্থন
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর তেলআবিব সফরের একই সময়ে ইসরাইলের জঙ্গি বিমানগুলো সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশের খান আরনাবা এলাকার একটি সামরিক ঘাঁটিতে দু'টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাথিস তেলআবিবে ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতে সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইসরাইল সফরের পরপরই সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো থেকে বোঝা যায়, সিরিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইল একে অপরকে সহযোগিতা করছে। এমনকি তারা সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সমর্থন যোগাচ্ছে। ইসরাইলি হামলার আগে আমেরিকাও সিরিয়ার হোমস প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় এবং তেলআবিবও ওয়াশিংটনের ওই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছিল।
আমেরিকা ও ইসরাইল এমন সময় সিরিয়ার বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে যখন সেদেশে যুদ্ধের ময়দান থেকে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সম্প্রতি কুনেইত্রা শহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হামলা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পরই ইসরাইলি হামলা চালানো থেকে সন্ত্রাসীদের প্রতি ইসরাইলের সরাসরি সমর্থনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে।
এর আগেও গত মার্চে ইসরাইলি জঙ্গিবিমান থেকে সিরিয়ার হোমসের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। ওই হামলা চালানোর সময় সিরিয়া সেনাবাহিনীর পাল্টা হামলায় ইসরাইলের একটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত হয়। গতরাতেও ইসরাইল যে হামলা চালিয়েছে তা ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রথম হামলারই ধারাবাহিকতা মাত্র। এ বছর থেকে ইসরাইল সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে বিমান দিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলের একের পর এক আগ্রাসন থেকে সন্ত্রাসীদের প্রতি তাদের সমর্থনের বিষয়টি ফুটে ওঠে। ইসরাইল ও সন্ত্রাসীদের এ সহযোগিতার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ অঞ্চলে প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোকে দুর্বল করে দেয়া। এ লক্ষ্যে সন্ত্রাসীরা ইসরাইলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই সন্ত্রাসীরা যখনই সিরিয়ার সেনাবাহিনী কিংবা লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে পরাজিত হয় তখনই ইসরাইল সন্ত্রাসীদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।
সিরিয়ার কুনেইত্রা প্রদেশে ইসরাইলের সীমান্ত থাকার কারণে ওই এলাকার সন্ত্রাসীদের প্রতি ইসরাইলের সবসময়ই নজর ছিল। জাবহাত আন্ নুসরা ফ্রন্টের সন্ত্রাসীরা ওই এলাকায়ই থাকে। আহতরা ইসরাইলের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং সেখান থেকেই সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর যে তালিকা করেছে তাতে জাবহাত আন্ নুসরার নামও রয়েছে। #
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২২