সৌদি-কাতার উত্তেজনা চরমে: ইরানের বিরুদ্ধে ফের রিয়াদের মিথ্যাচার
সৌদি আরব কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়ার পর ইসলামী ইরানের বিরুদ্ধেও ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেছে।
সৌদি সরকার এক বিবৃতিতে সেদেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও বাহরাইনে সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতি কাতারের সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। বিবৃতিতে গণআন্দোলনকারীদেরকে ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করে রিয়াদ দাবি করেছে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করাই এসব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেয়ার উদ্দেশ্য।
এদিকে, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশরও সন্ত্রাসীদের প্রতি কাতারের সমর্থন এবং এসব দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে দোহার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে। কাতারের বিরুদ্ধে এসব আরব দেশের অভিযোগের পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে তা নিয়ে নানা মত ও বিশ্লেষণ রয়েছে। অনেকের মতে, বাহরাইন ও ইয়েমেনে সৌদি অন্যায় সামরিক হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা তুলে ধরা কাতার বিরোধী অবস্থানের লক্ষ্য হতে পারে। যদিও ইয়েমেন ইস্যুতে কাতার ও আমিরাতসহ অন্য আরব দেশগুলোর মধ্যে মারাত্মক টানাপড়েন শুরু হয়েছে।
সৌদি আরব দাবি করেছে, কাতারের সমর্থনপুষ্ট সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাহরাইনকে রক্ষার জন্যই তারা বাহরাইনে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, বাহরাইনের জনগণ তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্যই আলে খলিফা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে এবং ওই দমনপীড়নে সৌদি আরবও শামিল হয়েছে। ইয়েমেনের ব্যাপারেও সৌদি আরব একই ভুল করেছে এবং সেদেশের জনগণের ওপর সৌদি আরব ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে।
সৌদি সরকার এমনকি ন্যায়সঙ্গত দাবিতে আন্দোলনকারী নিজ দেশের জনগণের ওপরও ব্যাপক জুলুম নির্যাতন, হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। সৌদি রাজ পরিবারের ধারণা সাধারণ মানুষকে হত্যা করে, কারাগারে নিক্ষেপ করে ও প্রখ্যাত শিয়া আলেম শেখ নিমরের মতো ব্যক্তিত্বদের ফাঁসির মাধ্যমে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা ও জনগণর আন্দোলন স্তব্ধ করে দেয়া সম্ভব। ঠিক একই মনোভাব ও ভুল চিন্তার কারণে আরব দেশগুলোর সঙ্গেও সৌদি আরব খারাপ ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব তেল বেচা ডলার দিয়ে সবসময়ের জন্য কাতারের মতো আরব দেশগুলোকে রিয়াদের স্বেচ্ছাচারিতা, অযৌক্তিক ও অন্যায় কর্মকাণ্ডে শামিল করতে পারবে না। রিয়াদের ভুল নীতির কারণেই আরব দেশগুলো একে একে সৌদি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা শুরু করেছে। কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরবের সঙ্গে বিরাট ব্যবধান তৈরি হয়েছে যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে সৌদি আরব যে নীতি নিয়েছে তা সব আরব দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ওমানও সৌদি নীতির তীব্র সমালোচনা করেছে। কিন্তু সৌদি সরকার এসব বিরোধিতাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিয়েও সৌদি আরব তার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে না পারায় এবং ইয়েমেনে হামলা চালিয়েও এখন পর্যন্ত সফল না হওয়ায় এতে বোঝা যায় রিয়াদ এ অঞ্চলে নতুন কোনো পরিকল্পন বা ষড়যন্ত্র আঁটছে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের হাজার হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তির পরই তার আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের রিয়াদ সফরকালে সৌদি কর্মকর্তারা সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন এবং এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির জন্য ইরানকে দায়ী করেন যার লক্ষ্য হচ্ছে নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা।#
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/৫