আমরা ভূ-রাজনৈতিক মোড়লিপনার শিকার হয়েছি: কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i42932-আমরা_ভূ_রাজনৈতিক_মোড়লিপনার_শিকার_হয়েছি_কাতারের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রহমান আলে সানি বলেছেন, তার দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীরা ভূ-রাজনৈতিক বলদর্পিতা চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে দোহার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। তিনি দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে আরো বলেছেন, "কাতার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে ভূ-রাজনৈতিক দাদাগিরি বা মোড়লিপনার শিকার হয়েছে।"
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ২৭, ২০১৭ ১৪:২৩ Asia/Dhaka

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুর রহমান আলে সানি বলেছেন, তার দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীরা ভূ-রাজনৈতিক বলদর্পিতা চাপিয়ে দেয়ার মাধ্যমে দোহার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। তিনি দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টকে দেয়া সাক্ষাতকারে আরো বলেছেন, "কাতার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর পক্ষ থেকে ভূ-রাজনৈতিক দাদাগিরি বা মোড়লিপনার শিকার হয়েছে।"

বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কাতার নিয়ে সৃষ্ট সংকটের ফলে এ অঞ্চলে কী ধরনের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পারস্য উপসাগরের দক্ষিণে অবস্থিত দ্বীপদেশ কাতারের ভৌগোলিক আয়তন ১১ হাজার ৫৮৬ বর্গ কিলোমিটার। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাসের মজুদ রয়েছে কাতারে। সৌদি আরব ও ইসলামী ইরান হচ্ছে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী দু'টি প্রতিবেশী দেশ। এ ছাড়া, আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের সঙ্গে কাতারের সমুদ্র সীমানা রয়েছে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কাতার সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ব্যাপক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। হুমকির কারণে কাতার সরকার নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেইমন্ড হেনা বুশ মনে করেন, এ অঞ্চলে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনায় কাতারসহ সব আরব দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মার্কিন জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের দোহা শাখার অধ্যাপক মেহরান কামরাও মনে করেন, কাতার সরকার উপলব্ধি করছে পরিচয়হীনতা নিরাপত্তা দিতে পারে না। তাই ওই দেশটির সরকার আল জাজিরা টিভি চ্যানেল প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন, বিশ্বকাপ খেলার আয়োজন প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ব অঙ্গনে নিজের শক্তিশালী অবস্থান ও পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাতারের অগ্রগতি যদিও ক্ষুদ্র এ দ্বীপ দেশটির সরকারের নিরাপত্তা অনেকখানি দিতে পেরেছে কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ভূ-রাজনৈতিক হুমকি থেকে কাতার পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারবে না। কারণ ভৌগোলিক অবস্থান স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় নয়। বর্তমানে কাতারের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব। সৌদি নেতৃত্বে বাহরাইন, আমিরাত ও মিশর সরকার কিছু অযৌক্তিক দাবি নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে দোহার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করায় ওই অঞ্চলে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

কাতারের বিশেষজ্ঞরাসহ অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, কাতারসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যে কোনো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতির প্রচণ্ড বিরোধী সৌদি আরব। এ অবস্থায় কাতারের স্বাধীনচেতা নীতি মোকাবেলা করার জন্য সৌদি আরব দেশটির ওপর ব্যাপক ভূ-রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছে। সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইন স্থল, আকাশ ও সমুদ্র পথে কাতারের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করে রেখেছে। তারা কাতারকে অবরুদ্ধ ও কোণঠাসা করে ফেলেছে। এ কারণে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের এ আচরণকে ভূ-রাজনৈতিক দাদাগিরি হিসাবে অভিহিত করেছেন।

তবে ভৌগোলিক দিক থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার কারণে কাতারকে কোণঠাসা করার প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। ইরানের সঙ্গে কাতারের রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্র সীমা। নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরপরই আকাশ ও সমুদ্র পথে ইরান পণ্য সরবরাহ করায় কাতার নিষেধাজ্ঞার ধকল কাটিয়ে উঠতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে কাতারে আমেরিকার বৃহৎ সামরিক ঘাঁটি থাকলেও ওয়াশিংটন আরব দেশগুলোর মধ্যকার উত্তেজনা হ্রাসে ব্যর্থ হয়েছে এমনকি আমেরিকা সৌদি আরব ও তার মিত্রদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। #

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২৭