গোলান মালভূমির সঙ্গে লেবাননের ‘শেবা’ কৃষি খামারও কি গিলে খাবে ইসরাইল?
-
শেবা কৃষি খামার
মার্কিন সরকার অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের কথিত মালিকানাকে স্বীকৃতি দেয়ার পর ওই মালভূমি সংলগ্ন ‘শেবা’ কৃষি খামারের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে লেবানন। সিরিয়ার গোলান মালভূমির মতো লেবাননের শেবা কৃষি খামারও ইসরাইলের দখলদারিত্বে রয়েছে।
লেবানন ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী ছোট্ট এই ভূখণ্ডটি ইহুদিবাদী ইসরাইল ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় দখল করে নেয়।
ইসরাইল ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও শেবা কৃষি খামারের মালিকানা নিয়ে ‘লেবানন ও সিরিয়া সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে’ বলে অজুহাত তুলে সেখান থেকে সেনা সরিয়ে নেয়নি। অথচ দামেস্ক ও বৈরুত উভয়ই বলে আসছে শেবা কৃষি খামার লেবাননের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
ইহুদিবাদী ইসরাইল দাবি করছে, এই কৃষি খামার অধিকৃত গোলান মালভূমির অংশ। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোলানের ওপর ইসরাইলের কথিত সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ায় লেবানন মনে করছে, দেশটির কৃষি খামারটিও হয়তো এই সুযোগে কব্জা করে ফেলবে দখলদার ইসরাইল। লেবাননের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা দেশটি থেকে প্রকাশিত সৌদি মালিকানাধীন পত্রিকা আশশারকুল আওসাতকে বলেছেন, শেবা কৃষি খামার কখনোই গোলান মালভূমির অংশ ছিল না।
তবে দুবাইভিত্তিক প্রতিরক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘ইনেগমা’র প্রধান রিয়াদ কাহওয়াজি দাবি করেছেন, ইসরাইল শেবা কৃষি খামারকে গোলান মালভূমির অংশ মনে করে বলে সাম্প্রতিক মার্কিন সিদ্ধান্ত ওই কৃষি খামারের ওপরও বর্তায়। তার মতে, মার্কিন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেবা এখন গোলান মালভূমির অংশ হিসেবে ইসরাইলি মালিকানায় চলে গেছে।
তবে মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সমাজ স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায় মিলে ১৫ সদস্য দেশের মধ্যে আমেরিকা ছাড়া বাকি ১৪ দেশ ওয়াশিংটনের এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। #
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/আশরাফুর রহমান/৩০