ইরানে নিরাপত্তাকর্মী হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইরানের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তারক্ষী সাইয়্যেদ আব্বাস ফাতেমিয়ার হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত মোহরাব আবদুল্লাহজাদেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত রায় বহাল রাখার পর আজ ভোরে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উরুমিয়ার একটি এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে সহিংসতার কেন্দ্রে পরিণত হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ, ভাঙচুরসহ নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়।
নিহত আব্বাস ফাতেমিয়া ছিলেন নুশিনশহরের বাশলান-বুশলু গ্রামের একজন কৃষক। তিনি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় একদল দাঙ্গাকারী তাকে ঘিরে ধরে মারধর করে, যার ফলে তিনি মারা যান।
তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে মোহরাব আবদুল্লাহজাদে ছিলেন মূলহোতা।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “আমি বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলাম। আমরা নিরাপত্তা সদস্যদের দিকে আক্রমণ করি। তারপর দেখি তিনজন সদস্য পিছিয়ে পড়েছে, আমরা তাদের অনুসরণ করি। প্রথম সদস্যের কাছে পৌঁছানোর সাথে সাথেই একজন তার পায়ের নিচে আঘাত করে এবং সে গাছের পাশে মাটিতে পড়ে যায়। আমি তার কলার ধরে মুখের দিকে কয়েকটি আঘাত করি। পরে আমি অন্যদের কাছে এই ঘটনাটি বর্ণনা করেছি, কীভাবে আমরা ওই সদস্যকে মারধর করেছি।”
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল হলে আদালতে বিচার শুরু হয়। শুনানিতে আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা, ভুক্তভোগীর পরিবার, প্রসিকিউটর এবং বিচারকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তার বিরুদ্ধে “পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি” অভিযোগ প্রমাণিত বলে রায় দেয়।
রায় অনুযায়ী, অভিযুক্তরা নিজেদের পরিচয় গোপন করতে মুখোশ ব্যবহার করে এবং ভুক্তভোগী অচেতন হয়ে পড়ার পরও লোহার রড ও তার দিয়ে অন্তত ১৯ বার আঘাত করে।
বিচার শেষে আদালত মোহরাব আবদুল্লাহজাদেকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। তবে অপর দুই অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় এবং মানসিক পরিপক্বতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তাদের কারাদণ্ড ও সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে মামলাটি সর্বোচ্চ আদালতে পর্যালোচনা করা হয় এবং রায় বহাল রাখা হয়। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ ভোরে মোহরাব আবদুল্লাহজাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/৩