ভারতের আসামে অবতরণের মুহূর্তে মালবাহী বিমান বিধ্বস্ত, তদন্ত শুরু
-
বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ
আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি ‘এএন-৩২’ মালবাহী বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। আজ (শনিবার) সকালে রানওয়েতে নামার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং উদ্ধারকাজের জন্য জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিমানটি কী কারণে দুর্ঘটনার শিকার হলো তা এখনো জানা যায়নি। এছাড়া এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।
ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, “একটি বিমান জোরহাটের ফোর্স স্টেশনে ল্যান্ড করার সময় বিধ্বস্ত হয়েছে। এটি ছিল একটা কার্গো বিমান, এটি সাপ্লাই ট্রান্সপোর্ট করার জন্য ব্যবহার করা হয়। দুর্ঘটনাটি যখন ঘটেছে তখন বিমানটি ওই এয়ারবেসে ল্যান্ড করার চেষ্টা করছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই দুর্ঘটনায় পাইলটের সম্ভবত মৃত্যু হয়েছে। আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।"
এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, "আমরা জোরহাটে বিমান বাহিনীর এই বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি এবং এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছি।"
এএন-৩২ বিমানের পরিচয়:
আন্তনভ এএন-৩২ হলো দুটি ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী সামরিক মালবাহী বিমান, যাকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান চালিকাশক্তি বলা হয়। মূলত ভারতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে এটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে এই ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান রয়েছে। প্রতিকূল পরিবেশ, পাহাড়ি এলাকা এবং প্রচণ্ড গরমেও এই বিমানগুলো দারুণ কাজ করতে পারে। এটি সাড়ে সাত টন মালামাল, ৫০ জন যাত্রী অথবা ৪২ জন প্যারাট্রুপার বহন করতে সক্ষম। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ ও রসদ সরবরাহে এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়।
উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েক মাস আগেই আসামের কার্বি আংলং জেলায় বিমান বাহিনীর একটি ‘সুখোই সু-৩০এমকেআই’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুজন পাইলটের মৃত্যু হয়েছিল। গত ৫ মার্চ জোরহাট বিমান ঘাঁটি থেকেই ওড়ার পর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরে জোরহাট থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের এক পাহাড়ি এলাকায় সেটি ভেঙে পড়ে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৩