ইয়েমেন ইস্যুতে মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করল ইরান; বিপর্যয়ের জন্য আমেরিকা দায়ী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162168-ইয়েমেন_ইস্যুতে_মার্কিন_অভিযোগ_প্রত্যাখ্যান_করল_ইরান_বিপর্যয়ের_জন্য_আমেরিকা_দায়ী
পার্সটুডে- জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও উপ-প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দার্যি জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে ইয়েমেন ইস্যুতে আমেরিকার ইরানবিরোধী অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
(last modified 2026-08-14T11:03:50+00:00 )
আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৬:৩৮ Asia/Dhaka
  • গোলাম হোসেইন দার্যি
    গোলাম হোসেইন দার্যি

পার্সটুডে- জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ও উপ-প্রতিনিধি গোলামহোসেইন দার্যি জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতির কাছে পাঠানো চিঠিতে ইয়েমেন ইস্যুতে আমেরিকার ইরানবিরোধী অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রদূত তার চিঠিতে লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি এবং নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি সদস্য রাষ্ট্র ‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি’ শীর্ষক আলোচনায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যেসব ভিত্তিহীন ও প্রমাণবিহীন অভিযোগ তুলেছেন, তা আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির এই দাবি যে, ইরান ইয়েমেনে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে অথবা সামরিক বাহিনী বা সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর এবং নিরাপত্তা পরিষদের ২২১৬ (২০১৫) নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো সানার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে—তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।”

তিনি বলেন, এসব “মনগড়া অভিযোগ” নিরাপত্তা পরিষদকে বিভ্রান্ত করা, নিজেদের বেআইনি কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া এবং ইয়েমেন ও পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের দায় এড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ভণ্ডামিপূর্ণ প্রচেষ্টা।

জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ তোলা দুঃখজনক—বিশেষ করে এমন একটি দেশের পক্ষ থেকে, যে কিনা নিজেই বারবার অবৈধভাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, যার ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

ইরানের সাম্প্রতিক সানা অভিমুখী ফ্লাইটগুলো ছিল মানবিক প্রকৃতির। দীর্ঘদিন ধরে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং এর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি অবরোধের কারণে ইয়েমেনের জনগণের ওপর অত্যন্ত গুরুতর মানবিক দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

২০১৬ সালে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ ইয়েমেনি অবাধে চলাচলের মৌলিক অধিকার এবং জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা গ্রহণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলন এবং মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার।

ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রায় এক দশক ধরে ইয়েমেনের জনগণ একটি বিধ্বংসী সংঘাতের পরিণতি ভোগ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক ও অবকাঠামোর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ, যা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থনের কারণে সম্ভব হয়েছে।

এই পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় এখনো বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সংকট হিসেবে ইয়েমেনে বিদ্যমান। সেখানে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলেও অপরাধীরা শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

ইয়েমেনে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৫ সালের মার্চে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে এবং জাতিসংঘ সনদ ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের পরিপন্থী ছিল। একইসঙ্গে এটি জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় পরিচালিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার পথে আরও বাধা সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া, নিরাপত্তা পরিষদের ২৭২২ (২০২৪) নম্বর প্রস্তাব গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রচেষ্টা এবং পরবর্তীতে ওই প্রস্তাবকে নিজেদের স্বার্থে বেছে বেছে ব্যাখ্যা করে ইয়েমেন ও দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করাও ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা আবারও লঙ্ঘন করেছে। এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দুর্বল হয়েছে।#

পার্সটুডে/এসএ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।