ইরানে হামলা হলে আমরা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি পরিবর্তন করব: ইরান
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163272-ইরানে_হামলা_হলে_আমরা_যুদ্ধের_ভৌগোলিক_পরিধি_পরিবর্তন_করব_ইরান
পার্সটুডে-বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা হলে আমরা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি পরিবর্তন করব এবং এমন অস্ত্র উন্মোচন করব, যা বিশ্বকে বিস্মিত করবে।
(last modified 2026-09-21T11:55:06+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৭:৫১ Asia/Dhaka
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি
    ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি

পার্সটুডে-বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি বলেছেন, ইরানে কোনো হামলা হলে আমরা যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি পরিবর্তন করব এবং এমন অস্ত্র উন্মোচন করব, যা বিশ্বকে বিস্মিত করবে।

সোমবার আল-আলম নিউজ নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে আইআরজিসির মূল্যায়ন হলো-এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে এবং এটি একটি ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক পরাজয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পরাজয় স্বীকার করার সাহস দেখাচ্ছে না।

তিনি বলেন, সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় স্বীকার করছেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরের অনেক পর্যবেক্ষকও এই পরাজয় দেখতে ও উপলব্ধি করতে পারছেন বলে তিনি দাবি করেন।

মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের অন্যতম দিক হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ব্যর্থতা। বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী থাকা সত্ত্বেও এবং জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে মধ্যপ্রাচ্যে উপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে নি বলে তিনি দাবি করেন।

আইআরজিসি'র মুখপাত্র আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, কয়েক দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরানের পূর্ব ও পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্র যেসব সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল, সেগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলার আওতায় এসেছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য করা মার্কিন বিনিয়োগই উল্টো নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, গোয়েন্দা ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ব্যবস্থাকে অত্যাধুনিক ও প্রতিপক্ষের নাগালের বাইরে বলে যে ধারণা ছিল, ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা মার্কিন গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলো আক্রান্ত হওয়ার পর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি বলেন।

সামরিক প্রযুক্তি নিয়েও মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক প্রযুক্তিকে এতদিন অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও, এই যুদ্ধে ইরানের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার মুখে সেই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নিয়েও তিনি বলেন, মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবা স্কুলে বোমা হামলা, লামার্দে নতুন অস্ত্রের ব্যবহার এবং একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র তার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে-এমন দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র শুধু একটি যুদ্ধে পরাজিত হয় নি, বরং পুরোনো ব্যবস্থারও পরাজয় হয়েছে এবং নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা এখন ইরান নির্ধারণ করছে।

মোহেব্বি আরও বলেন, ইরান এই যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছে এবং এখন সেই বিজয়কে স্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতায় রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পরাজয়কে বিজয়ে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু তা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে এবং ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিল এবং এখন আরও বেশি প্রস্তুত।#

পার্সটুডে/এনএম /২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।