মার্কিনীদের যে কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মোহসেন রেজায়ি
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i163904-মার্কিনীদের_যে_কথা_স্মরণ_করিয়ে_দিলেন_মোহসেন_রেজায়ি
পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, শত্রুপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নতুন হামলায় পরাজিত হয়েছে।
(last modified 2026-10-13T04:41:25+00:00 )
অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১০:৩৮ Asia/Dhaka
  • প্রেস টিভির সঙ্গে মোহসেন রেজায়ি'র সাক্ষাৎকার
    প্রেস টিভির সঙ্গে মোহসেন রেজায়ি'র সাক্ষাৎকার

পার্সটুডে: ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, শত্রুপক্ষ এখন পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি নতুন হামলায় পরাজিত হয়েছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ভর করছে ইরানের জনগণের ওপর। শত্রু ইরানের অধিকার মেনে নতুনভাবে আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত ইরান প্রতিরোধ, দৃঢ়তা ও আত্মরক্ষা থেকে সরবে না।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের ইতিহাসে শত্রুদের জন্য অনেক ভালো গল্প আছে। তাদেরকে আবারও ইরানি জাতির সামনে হাঁটু গেড়ে বসতে হবে।"”

'ইরানে হামলা ছিল মানব ইতিহাসের অন্যতম নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ যুদ্ধ’

"ইরানে আমেরিকার আক্রমণ এবং এই যুদ্ধের প্রকৃতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?"—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমেরিকার এই হামলা মানব-ইতিহাসের অন্যতম নির্বোধ যুদ্ধ। এটি ছিল ইরানের বিরুদ্ধে একটি অত্যাচারী, দুষ্ট ও অমানবিক যুদ্ধ। তাঁর ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসন চোখ বন্ধ করে নেতানিয়াহুর হাতে নিজের লাগাম তুলে দিয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী অশিক্ষিত, আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদকে এফবিআইয়ের পদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন। এমন লোকজন নিয়ে তারা সঠিক হিসাব-নিকাশ ছাড়াই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছে। তারা ভেবেছিল অল্প সময়েই যুদ্ধ শেষ করা যাবে এবং ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের এক মহানায়ক হিসেবে পরিচিত হবেন। কিন্তু আজ সেই একই নির্বুদ্ধিতার কারণে তারা যুদ্ধ থেকে বেরোতে পারছে না।  

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচক্ষণ ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে তাদের হাত ধরে এই যুদ্ধ থেকে বের করে আনতে হবে। অন্যথায়, তাদের এই নির্বুদ্ধিতা সঠিকভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বন্ধ করে দেবে।

‘যুদ্ধের শুরু থেকেই আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল’

"ইরান যুদ্ধ কীভাবে পরিচালনা করেছে এবং আজ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে?"—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, শুরু থেকেই আমরা যুদ্ধের নিখুঁত হিসাব কষেছি এবং সঠিকভাবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছি। যুদ্ধের গতি অনুযায়ী আমরা আমাদের রণকৌশল সাজিয়েছি। যেমন বারো দিনের যুদ্ধে আমরা সামর্থ্যের খুব সামান্যই দেখিয়েছি। অনেক সক্ষমতা ওই বারো দিনে আমরা ব্যবহারই করিনি। আমেরিকার দিক থেকে যুদ্ধ যত তীব্র হয়েছে, আমরাও তত বেশি শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেছি। চল্লিশ দিনের যুদ্ধ ছিল ভিন্ন। তাতে আমরা আরও বেশি সক্ষমতা মাঠে এনেছি ও ব্যবহার করেছি। আজও আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। যুদ্ধ আবার শুরু হলে আমরা নতুন সব সক্ষমতা মাঠে নামাব।

'শত্রু প্রায় প্রতিটি নতুন হামলাতেই ব্যর্থ হয়েছে'

"পরবর্তী সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরানের জবাব কেমন হবে?"—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, "আমেরিকার অর্থনীতির নাড়ি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে। এই অঞ্চলে আমেরিকার অনেক অত্যন্ত ব্যয়বহুল স্থাপনা আছে। এখনো আমরা এগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করিনি। কিন্তু যুদ্ধ হলে অর্থমূল্যে অত্যন্ত দামি অনেক কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্র আমাদের নাগালের মধ্যে আসবে। এই কেবল, ডেটা সেন্টার ও এআই কেন্দ্রের মূল্য দুই হাজার বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। প্রচুর বিদ্যুৎ লাগে বলে এগুলো আমেরিকা ও ইউরোপ থেকে এখানে আনা হয়েছে। তাই শুরু থেকেই আমরা এমন কিছু করিনি যে প্রথম সপ্তাহেই সব সক্ষমতা দেখিয়ে ফেলি আর পরে খালি হাতে থাকি। আজ কোনো সংঘর্ষ হলে নিশ্চিতভাবেই আরও বিস্তৃত পরিকল্পনা নিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করব।"

গত কয়েক মাসে শত্রুর একের পর এক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রথম বারো দিনে শত্রু বড় ধরনের পরাজয় বরণ করেছে। এরপর চল্লিশ দিনের যুদ্ধেও বড় পরাজয় হয়েছে। তারা আবার নৌ-অবরোধে নেমেছিল, কিন্তু কোনো ফল পায়নি। সম্প্রতি তারা অবরোধ ও অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার অভিযান শুরু করেছে। প্রায় প্রতিটি নতুন হামলাতেই তারা ব্যর্থ হয়েছে। আমরা পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের জায়গায় অটল ছিলাম এবং নিখুঁত হিসাবে তাদের হামলা নিষ্ক্রিয় করেছি। আজও আমাদের প্রস্তুতি পূর্ণ এবং আমরা নিজেদের রক্ষায় তৈরি।"

'ইরাকি জনগণের আয় এখনো আমেরিকার হাতে'

রেজায়ি বলেন, "সম্প্রতি চল্লিশ দিনের যুদ্ধের সময় ইরাকে মার্কিনীদের থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তখন প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে এই দাবিতে যে, কেন তারা ইরাক ছাড়ছে না। পেন্টাগনের হিসাবে তাদের বিরুদ্ধে ছয়শ' হামলা হয়েছে। তবে আমাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিরোধ ফ্রন্ট আমেরিকার বিরুদ্ধে দেড় হাজারেরও বেশি প্রক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। মার্কিনীরা প্রথমে বাগদাদ থেকে ইরবিলে গেল, সেখানেও হামলার মুখে পড়ল এবং বেরিয়ে যেতে বাধ্য হলো। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার পর এটি ছিল আরেকটি বিরাট বিজয়। এটি দেখিয়ে দিল, অন্য দেশে সামরিক হামলা চালিয়ে সেখানে ঘাঁটি গেড়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করার যুগ শেষ।"

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "আমরা এখন আমেরিকানদের সঙ্গে যে যুদ্ধে আছি, তাতে তারা অচলাবস্থায় পড়েছে। এই অবস্থায় আমেরিকানদের বহিষ্কার আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বহিষ্কার সম্ভব হয়েছে এজন্য যে, তারা ইরানে সফল হয়নি। ইরানে সফল হলে তারা আরও চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার সেনা বাগদাদে পাঠাত, এই সরকার ও সংসদ ভেঙে দিত এবং আমেরিকার পোষা বাথিস্ট ও দায়েশপন্থীদের দিয়ে সাদ্দামের মতো একটি স্বৈরশাসন গড়ে তুলত। কিন্তু ইরানে আমেরিকার হামলা ব্যর্থ হয়েছে, আবার ইরাকের ভেতরেও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের রুখে দিয়েছে। তাই ইরাক ছাড়া তাদের আর কোনো পথ ছিল না। এই বিজয়ের জন্য আমরা ইরাকি জনগণ, মারজায়িয়াত (শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্ব) ও প্রতিরোধ বাহিনীকে অভিনন্দন জানাই। তবে এখনো ইরাকি জনগণের আয় আমেরিকার হাতে এবং ইরাকের আকাশ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। ইরান থেকে ইরাকে বিমান চলাচল বন্ধ থাকা দেখায়, আমেরিকানরা স্থলবাহিনী সরিয়ে নিলেও ইরাকের অর্থনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ এখনো চলছে।"

রুবিওকে জবাব

গ্রিসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরানের ইতিহাস নিয়ে দেওয়া বক্তব্য সম্পর্কে প্রেস টিভির উপস্থাপকের প্রশ্নে রেজায়ি বলেন, "আমরা আমেরিকায় একদল অশিক্ষিত ও নির্বোধ লোকের মুখোমুখি। তারা ইতিহাসও পড়েনি, ইরানি জাতিকেও চেনে না। আমি জনাব রুবিওকে বলতে চাই, আপনাদের চেয়ে অনেক বড় বড় শক্তি আগেও বহুবার ইরানে আসার স্বপ্ন দেখেছে। কয়েক হাজার বছর ধরে তারা ইরান দখল করতে ও ইরানি জাতিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। ইরানি জাতি তাদের সবাইকে পরাজিত করেছে। ইতিহাসে আজ তাদের নামও নেই, কিন্তু ইরানি জাতি মাথা উঁচু করে, মর্যাদা নিয়ে ইতিহাসে টিকে ছিল, আছে এবং থাকবে। স্পষ্ট করে বলছি, এসব চেষ্টা আপনারা যত বাড়াবেন, জলাভূমিতে আরও ডুবে যাওয়া ছাড়া আর কোনো ফল হবে না। আমাদের ইতিহাসে আপনাদের জন্য অনেক ভালো গল্প আছে। আবারও আপনাদের ইরানি জাতির সামনে হাঁটু গেড়ে বসতে হবে এবং ইরানি জাতির মহত্ত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে হবে।"

'ইরানি জাতি আত্মসমর্পণ করার জাতি নয়, বরং শত্রুকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে'

তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আপনারা কী উদ্দেশ্যে এসেছিলেন আর ইরানে কী করেছেন? বিপ্লবের শুরুতে ইমাম খোমেনি বিশ মিলিয়নের সেনাবাহিনী গড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনাদের হামলার পর ত্রিশ মিলিয়ন মানুষ জীবন উৎসর্গ করার জন্য নাম লিখিয়েছে, যারা অস্ত্র হাতে আপনাদের মুখোমুখি দাঁড়াতে প্রস্তুত। এটা কি আপনাদের বিজয়? এটা তো আপনাদেরই কাজের ফল। আপনারা ইরানি জাতিকে চেনেন না। ইরানি জাতি আত্মসমর্পণ করার জাতি নয়। সে অন্যদের নিজের সামনে আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। আপনাদের সামনে সে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না এবং নিজের অধিকার আদায় না করা পর্যন্ত কোনোভাবেই আপনাদের পিছু ছাড়বে না।"

মার্কিন অর্থমন্ত্রী প্রসঙ্গে

মার্কিন অর্থমন্ত্রীর অতিকথন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রেজায়ি বলেন, "আমেরিকায় অর্থমন্ত্রী 'মিথ্যাবাদী মন্ত্রী' হিসেবে পরিচিত হয়ে গেছেন। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি যা-ই বলেছেন, যে প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন, রাখতে পারেননি। যেমন তিনি ঘোষণা করেছিলেন, আমেরিকার আবাসন বাজারকে স্থবিরতা থেকে বের করবেন, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বলেছিলেন মূল্যস্ফীতি কমাবেন, উল্টে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তারপর বলেছিলেন মার্কিন বন্ডের সুদের হার কমাবেন, অথচ তা এক শতাংশ থেকে পাঁচ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আমেরিকার অর্থনীতি তাঁর হাতে এবং আর্থিক নীতিও তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের দায়িত্বের খাতটুকুও সামলাতে পারেননি। এখন সরকারি কর্মচারী ও সেনাদের বেতন দেওয়ার মতো বাজেট ঘাটতিতে পড়ে তিনি বারবার বন্ড ছাপিয়ে বিক্রি করছেন, যাতে বাজার থেকে টাকা তুলে বেতন দিতে পারেন। আর এখন তিনি ইরানি জনগণের খাবারের টেবিলের বিরুদ্ধে লড়তে এসেছেন! আমি নিশ্চিত, তিনি কঠিন পরাজয় বরণ করবেন। সামরিক যুদ্ধে যেমন তারা হেরেছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধেও আমরা তাদের হারাব। আমরা আমাদের পরিকল্পনা তৈরি রেখেছি। শিগগিরই অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষা বিন্যাসের পরিকল্পনা ঘোষণা করব। সম্ভবত একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ পরিষদও আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্যে আছে এবং তা গঠিত হতে পারে। আমরা ট্রাম্প ও অর্থমন্ত্রীকে দেখিয়ে দেব অর্থনৈতিক যুদ্ধ কাকে বলে এবং এই যুদ্ধে তাঁরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন।"

'আমাদের কূটনীতি বদলে গেছে, আগের কূটনীতিতে আর ফিরব না'

কূটনীতি ও আলোচনার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে প্রেস টিভির উপস্থাপকের প্রশ্নে রেজায়ি জোর দিয়ে বলেন, "আমাদের কূটনীতি বদলে গেছে এবং আমরা আর আগের কূটনীতিতে ফিরব না। কারণ আমরা তিন দফা আলোচনা করেছি, আর প্রতিবারই আমেরিকানরা আলোচনা অর্ধেক রেখে ইরানে হামলা করেছে। তাই আগের সেই কূটনীতির ধাঁচে আমরা আর ফিরব না। যে ব্যক্তি নিজেই একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে পরে তা থেকে সরে আসে, তার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ভিন্ন পদ্ধতিতে কূটনীতিতে যেতে হবে। তবে আমরা কখনো কূটনীতি ছাড়িনি, ছাড়বও না। আমরা শুধু কূটনীতির ধরন বদলেছি। গত দুই মাসে আমেরিকানরা তিনটি মাধ্যমে, অর্থাৎ পাকিস্তান, কাতার এবং এমনকি ইরাকের মাধ্যমে, আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং আমাদের প্রস্তাব দিতে বলেছে। আমরা আমেরিকানদের সাতটি শর্ত জানিয়েছি। বলেছি, এই শর্ত পূরণ না করলে হরমুজ প্রণালিও আপনাদের জন্য খুলবে না, আলোচনাও হবে না। আমেরিকানরা এখন একটি জবাব দিয়েছে। সেই জবাবে তারা আমাদের কিছু শর্ত মেনেছে, আর কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা আছে। অর্থাৎ আমেরিকানরা আমাদের জবাব দিয়েছে, আমরা তাদের জবাব দিচ্ছি না। আমরা তাদের জবাবকে অপর্যাপ্ত মনে করি। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের অস্পষ্টতাগুলো তাদের দূর করতে হবে। দেখতে হবে তারা আমাদের অস্পষ্টতা দূর করতে পারে কি না, যাতে পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে।"

হরমুজ প্রণালি

হরমুজ প্রণালির সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, "হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আমাদের জন্য একটি বিরাট জাতীয় সম্পদ ও জাতীয় পুঁজি। আমরা শুধু শুল্ক আদায় করতে চাই, তা নয়। বিষয়টি এর চেয়ে বড়। আমরা হরমুজ প্রণালিতে ভালো একটি অর্থনৈতিক কাজ করতে পারি এবং যে জাহাজগুলো পার হয় তাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা, বিমা ও পরিবেশের খরচ নিতে পারি। কিন্তু আমাদের জন্য হরমুজ ব্যবস্থাপনার আসল পুঁজি এর চেয়েও অনেক বেশি, আর তা হলো নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ। অভিজ্ঞতা আমাদের প্রমাণ করেছে, হরমুজে ইরানের ব্যবস্থাপনা না থাকলে পারস্য উপসাগর নিরাপদ থাকে না। এখন যে ঘটনা ঘটেছে এবং প্রণালি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে, তার কারণ যুদ্ধ, আমেরিকানদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতা। নইলে যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি খোলা ছিল এবং কোনো সমস্যা ছিল না। তাই এখন থেকে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আমাদের হাতে থাকবে, যাতে অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। এ ব্যাপারে আমরা ছাড় দেব না।"

যুদ্ধের পরিণতি

সর্বশেষ প্রশ্ন, "যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী হবে?"—এর জবাবে মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বলেন, "যুদ্ধের সমাপ্তি বিশ্বের সব সামরিক তত্ত্ব ও চিন্তাবিদদের কাছে একটি গুরুতর বিষয়। কেউ কেউ বলেন, যুদ্ধ কে শুরু করল তা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। যুদ্ধ তো হবেই, আসল হলো তার সমাপ্তি। তাই তারা যুদ্ধতত্ত্বকে সমাপ্তির দিক থেকে বিচার করেন। আমেরিকানরা এই যুদ্ধ থেকে বেরোতে যুদ্ধ-সমাপ্তির সব তত্ত্বই প্রয়োগ করেছে, কিন্তু সফল হয়নি। কারণ তারা জানে না, ইরানে যে শক্তিশালী শক্তি যুদ্ধ শেষ করতে পারে তা কী এবং কোথা থেকে আসে। যেমন সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে কার সঙ্গে কথা বলতে হবে তিনি জানেন না। এটা তো স্পষ্ট, ইরানি জাতির সঙ্গে কথা বলতে হবে। আপনারা বলেন, ইরানি জাতিকে মুছে দেবেন, ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করবেন। এতে আপনারা ইরানের মানুষকে আপনাদের বিরুদ্ধে আরও সংগঠিত করছেন। আপনারা ইরানের মানুষের সঙ্গে অভদ্রভাবে কথা বলেন, আর ইরানের মানুষ আরও দৃঢ়সংকল্প হয় আপনাদের জলাভূমিতে আরও গভীরে ডুবিয়ে দিতে। তাই যুদ্ধের সমাপ্তি ইরানি জাতির হাতে। আপনাদের নিজের অধিকারের প্রতি আত্মসমর্পণ করানো ছাড়া সে প্রতিরোধ, দৃঢ়তা ও আত্মরক্ষা থেকে সরবে না। ইরানি জাতি তার সমস্ত অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধে অটল থাকবে এবং নিজেকে রক্ষা করবে।"

পার্সটুডে/এমএআর/১৩