আল-আকসা মসজিদে নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশের নিন্দা জানাল হামাস
https://parstoday.ir/bn/news/event-i163260-আল_আকসা_মসজিদে_নেতানিয়াহুর_অবৈধ_প্রবেশের_নিন্দা_জানাল_হামাস
পার্সটুডে: ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব আল-কুদসে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস।
(last modified 2026-09-20T15:27:22+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২১:১৮ Asia/Dhaka
  • ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
    ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

পার্সটুডে: ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব আল-কুদসে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হামাস।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ফিলিস্তিনের অধিকৃত পূর্ব আল-কুদসে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

রোববার সকালে নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করেন। এতে দেখা যায়, আগের রাতে তিনি অধিকৃত পূর্ব আল-কুদসের ব্যস্ত পুরনো শহর এবং আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের নিচে অবস্থিত সুড়ঙ্গগুলোতে একটি ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি পবিত্র ইসলামী স্থাপনায় নেতানিয়াহুর অবৈধ প্রবেশের নিন্দা জানায়।

হামাস বলেছে, নেতানিয়াহুর “পবিত্র আল-আকসা মসজিদ ও আল-বুরাক প্রাচীরের নিচে অবস্থিত সুড়ঙ্গ ও খননস্থলে উসকানিমূলক বক্তব্যসহ প্রবেশ এর পরিচয় ও মর্যাদার ওপর স্পষ্ট আক্রমণ।”

হামাস জোর দিয়ে বলেছে, “আল-আকসা মসজিদ—এর প্রাঙ্গণ, নামাজের স্থান, দেয়াল ও ফটকসহ সম্পূর্ণ অংশ—চিরকাল একান্তই একটি ইসলামী মসজিদ হিসেবে থাকবে।”

পবিত্র স্থানটির ইসলামী পরিচয়ের পক্ষে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বাস্তব প্রমাণের কথাও উল্লেখ করেছে হামাস।

“এটি একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য: দখলদারদের খননকাজ, অনুপ্রবেশ, ধর্মীয় আচার এবং তাদের বাইবেলভিত্তিক বর্ণনা চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা কখনোই এই স্থানের পরিচয় পরিবর্তন করতে বা এর নিদর্শন মুছে ফেলতে সফল হবে না।”

রোববার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নেতানিয়াহু, কয়েকজন মন্ত্রী এবং হাজার হাজার ইসরায়েলি অধিকৃত পূর্ব আল-কুদসে পশ্চিম প্রাচীরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

আল-কুদস গভর্নরেট এক বিবৃতিতে জানায়, হাজার হাজার ইসরায়েলি দখলদার পুরনো শহরের ওয়াদি সড়ক দিয়ে প্রবেশের পর ওই প্রাঙ্গণে যায়।

গভর্নরেট আরও জানায়, তাদের প্রবেশের পর আল-আকসা মসজিদের অন্যতম ফটক বাব আল-রহমার কাছে নামাজের আহ্বান ও ধর্মীয় আচার পালন করা হয়। এতে বলা হয়, বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায় এবং পুরনো শহরে কেনাকাটার জন্য এলাকাটিতে এসেছিলেন।

ইহুদিদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইয়োম কিপ্পুর ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে দখলদারদের অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে এবং “দখলদারিত্বের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে” ফিলিস্তিনিদের আল-আকসা মসজিদে আসার আহ্বান জানানো হয়।

ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর বাহিনী পশ্চিম প্রাচীরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইহুদিদের কথিত পবিত্র স্থান হিসেবে তারা এই প্রাচীরের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে। বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলিরা সেখানে বারবার প্রবেশ করেছে।

আল-কুদস জেরুজালেম ইসলামিক ওয়াক্‌ফ প্রশাসন এবং গভর্নরেট বলেছে, পশ্চিম প্রাচীর ইসলামী পবিত্র স্থাপনাগুলোর অংশ।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা পশ্চিম প্রাচীরের প্রাঙ্গণটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। সেখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, নামাজ এবং ইসরায়েলি দখলদার শাসকচক্রের বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা তল্লাশি ও পরীক্ষা করা হয়।

পশ্চিম প্রাচীরটি ‘ওয়েলিং ওয়াল’ নামেও পরিচিত। আরবিতে এটি ‘হায়িত আল-বুরাক’ নামে পরিচিত। এটি ইহুদিদের একটি প্রাচীন প্রার্থনাস্থল।

তবে ইহুদিবাদীরা প্রাচীরটির ওপর প্রকৃত মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে আসছে।

এই দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, কারণ প্রাচীরটি হারাম আল-শরিফের সীমানা-প্রাচীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সামনে থাকা প্রাঙ্গণটি একটি জনসাধারণের চলাচলের পথ ও আবু মিদিয়ান ওয়াক্‌ফের সম্পত্তির অংশ।

কর্তৃপক্ষ সবসময় ইহুদিদের প্রাচীরে কোনো কিছু ঝোলানো কিংবা এর সামনে বেঞ্চ বা চেয়ার রাখার ক্ষেত্রে বাধা দেয়। কারণ এতে জনসাধারণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় এবং মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত তৈরি হয়।

কিছু ইহুদি প্রাচীরের পাথরের মধ্যকার ফাঁকে প্রার্থনা লেখা কাগজের টুকরো ঢোকানোর ওপর জোর দেয়। এতে স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে।

ফিলিস্তিনিরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের ইসলামী ঐতিহ্য রক্ষা করে আসছেন।

ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর প্রচেষ্টা এবং আলকুদস নামক পবিত্র ইসলামী স্থানটি বিভক্ত করা বা ইহুদিকরণের লক্ষ্যে সমসাময়িক ইহুদিবাদী ষড়যন্ত্র—যে স্থানটির উল্লেখ মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনে রয়েছে এবং যা মুসলমানদের কাছে প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত—সবসময়ই প্রতিহত হয়েছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ /২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।