পরমাণু স্থাপনায় হামলা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদকে সোচ্চার হতে বলল ইরান
-
রেজা নাজাফি
পার্সটুডে- জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ভিয়েনা কার্যালয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি রেজা নাজাফি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সাধারণ সম্মেলনের ৭০তম অধিবেশনে আইএইএর সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতাধীন পারমাণবিক স্থাপনা ও সাইটে যেকোনো হামলা বা হামলার হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইএইএর সাধারণ সম্মেলনের ৭০তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে রেজা নাজাফি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশ্ব দুটি বিপরীত প্রবণতার সাক্ষী হয়েছে।
একদিকে, পারমাণবিক শক্তি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎসগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় সশস্ত্র হামলার সংখ্যা ও তীব্রতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এসব হামলাকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
নাজাফি বলেন, এই প্রবণতা উদ্বেগজনক। পারমাণবিক স্থাপনায় সশস্ত্র হামলার প্রভাব সংঘাতের অঞ্চল ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, আইএইএর মূল দায়িত্বের দিক থেকে এসব হামলা শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের দেশগুলোর স্বীকৃত অধিকারকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে এসব হামলা আইএইএর কর্তৃত্বকে দুর্বল করে এবং এর সুরক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি আইএইএর সুরক্ষা ব্যবস্থার আওতাধীন স্থাপনায় কোনো শাস্তি ছাড়াই বোমা হামলা চালানো হয়, তাহলে আইএইএর প্রতি আস্থা দুর্বল হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও আইএইএর সংবিধানের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
নাজাফি আরও বলেন, এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের সশস্ত্র হামলাকে আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে আগ্রাসনের অপরাধ সর্বোচ্চ গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধগুলোর একটি। একই সময়ে তিনি অভিযোগ করেন, তারা গুরুতর মাত্রায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধও করেছে।#
পার্সটুডে/এসএ /১৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।