'যুদ্ধের ফলাফল আলোচনার টেবিলে চূড়ান্ত হবে'
আমেরিকা-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমরা কৌশলগত বিজয় লাভ করেছি: আরাকচি
-
সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছে, তবে যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জনগুলো আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী রূপ দিতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ‘ইরনা’র বরাত দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, শুক্রবার ইরানের ‘শাবাকে খাবার’ (নিউজ চ্যানেল)-এর একটি বিশেষ টকশোতে অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, "রণক্ষেত্র এবং কূটনীতি একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। কূটনীতির মূল দায়িত্বই হলো রণক্ষেত্রের অর্জনগুলোকে স্থায়ী ও সুসংহত করা।"
আরাকচি আরও বলেন, "ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর রণক্ষেত্রের অর্জনগুলো কূটনীতির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। এই আন্তর্জাতিক বৈধতাই পরবর্তীতে ইরানের জনগণের অধিকারে পরিণত হয়।"
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, "বিশ্ব আজ ইরানের জনগণকে বীর এবং প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে চেনে। টানা ৪০ দিন ধরে ইরান বিশ্বের বৃহত্তম শক্তির বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়িয়েছিল এবং একই সময়ে যুদ্ধে লিপ্ত থাকা আরেকটি সেনাবাহিনীর পাশে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল; অথচ প্রতিপক্ষের উভয় পক্ষই পারমাণবিক অস্ত্রসহ বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রে সজ্জিত ছিল। আমরা শত্রুর লক্ষ্য পূরণ হতে দিইনি এবং একটি বিশাল কৌশলগত বিজয় অর্জন করেছি। স্বাভাবিকভাবেই, এমন বিজয়ের পর একটি চুক্তি বা সমঝোতার মাধ্যমে সেটিকে স্থায়ী রূপ দেওয়া জরুরি।"
আলোচনা ও কূটনীতিকে রণক্ষেত্রেরই একটি অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এখনো কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবে ইরানের জনগণের এই বিজয়কে অবশ্যই নথিবদ্ধ ও স্থায়ী করতে হবে।"
হরমুজ প্রণালিকে ইরানের একটি অন্যতম প্রধান 'প্রতিরক্ষামূলক হাতিয়ার' হিসেবে উল্লেখ করে আরাকচি বলেন, "হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ আর আগের মতো থাকবে না। ইরান ও ওমান খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য একটি নতুন যৌথ ব্যবস্থার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে।"
ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সমঝোতাটি একটি ১৪-দফা প্যাকেজের আওতায় তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "প্রথম ধাপে ইরান ও আমেরিকার এই সমঝোতা স্মারকটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হবে। আগামী এক বা দুই দিনের মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।"
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার এই সমঝোতার প্রথম ধাপ হবে এবং চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা হবে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৩