কেন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i161888-কেন_ইরানের_বিরুদ্ধে_নতুন_হামলার_হুমকি_থেকে_সরে_এলেন_ট্রাম্প
পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কথিত সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।
(last modified 2026-08-02T12:42:59+00:00 )
আগস্ট ০২, ২০২৬ ১৮:৪০ Asia/Dhaka
  • • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
    • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

পার্সটুডে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কথিত সামরিক হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এর জবাবে ইরান সতর্ক করে জানায়, এমন কোনো "বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ" নেওয়া হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এরপর ট্রাম্প আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর দায় চাপিয়ে এবং একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কথা উল্লেখ করে তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার দিক থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। তবে তিনি আরও দাবি করেন, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খসড়ায় সম্মত হওয়ার পর হামলা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী ট্রাম্পের নতুন সামরিক হামলা বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ঝুঁকি ও চাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ হলো:

  • আঞ্চলিক মিত্রদের জরুরি মধ্যস্থতা: মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন ট্রাম্পকে ফোন করে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীও যুক্তরাষ্ট্র সফরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেন। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর তেল ও গ্যাস স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও পাকিস্তানও উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছে।
  • ইরানের কঠোর সতর্কবার্তা: কূটনৈতিক চ্যানেল ও প্রকাশ্য বিবৃতির মাধ্যমে ইরান জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো "দুঃসাহসিক পদক্ষেপের" জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় ও সমানুপাতিকভাবে দেবে।

ইরানের সামরিক কমান্ডাররাও জানান, তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারের গ্যাস স্থাপনা এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানো হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নিরাপত্তা ঝুঁকির এই বার্তাই ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ প্রসঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন উল্লেখ করেছে, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও ইরান এখনো পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ধরে রেখেছে, যার প্রমাণ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আল-আহদ সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের আশঙ্কাই ট্রাম্পকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

  • মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ঝুঁকি: ২০২৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির জনপ্রিয়তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
  • যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের ঘাটতি: রয়টার্স/ইপসোসের ২৭ জুলাইয়ের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন, যা সংকট শুরুর পর সর্বনিম্ন। অনেকেই মনে করেন, সরকারকে বিদেশে নতুন সংঘাতে জড়ানোর বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত তার দীর্ঘদিনের "সর্বোচ্চ চাপ" এবং "সমঝোতার রাজনীতি"—এই দুই কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একদিকে তিনি কঠোর অবস্থান প্রদর্শন করেছেন, অন্যদিকে আঞ্চলিক যুদ্ধের সম্ভাবনা ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যয়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আপাতত পিছু হটে নতুন আলোচনার সঙ্গে পরিস্থিতিকে যুক্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।