হোয়াইট হাউস-কংগ্রেসে বিভাজন: ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে প্রতিনিধি পরিষদে রায়
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163162-হোয়াইট_হাউস_কংগ্রেসে_বিভাজন_ইরান_যুদ্ধের_বিপক্ষে_প্রতিনিধি_পরিষদে_রায়
পার্সটুডে-মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।
(last modified 2026-09-17T14:09:09+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৭:৪৭ Asia/Dhaka
  • মার্কিন কংগ্রেস
    মার্কিন কংগ্রেস

পার্সটুডে-মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ তৃতীয়বারের মতো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে।

পরিষদ এমন একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবটি ২২০-২০৪ ভোটে পাস হয়। চলতি বছরের গ্রীষ্মে প্রতিনিধি পরিষদের আগের উদ্যোগগুলোর সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আগের ভোটগুলোতে অল্পসংখ্যক রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। তবে এসব প্রস্তাবের কোনোটিই প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায় নি। ট্রাম্প এমন কোনো প্রস্তাব পেলে তা ভেটো করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে তৃতীয়বারের এই ভোট এমন সময় হলো, যখন প্রায় সাত মাস ধরে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রস্তাবটি একদিকে সামরিক অভিযানের ওপর সীমা আরোপের প্রতিনিধি পরিষদের আগের প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি, অন্যদিকে এটি দেখায় যে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিরোধিতাকে শুধু সাধারণ দলীয় মতপার্থক্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। এবারের ভোটে সব ডেমোক্র্যাট এবং ৭ জন রিপাবলিকান প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়াকে মনে করা হচ্ছে। সংঘাতের সময়কাল ও ব্যাপ্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে যে চিত্র দিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার থেকে দূরে সরে গেছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও প্রস্তাবটির সমর্থক সেথ মোল্টন এ বিষয়টির ওপর জোর দিয়ে কংগ্রেসকে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে আরও কঠোর প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইনি দিক থেকেও মূল বিতর্ক প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে। মার্কিন সংবিধান যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে দিয়েছে। আর War Powers Act কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষমতা সীমিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। ফলে সাম্প্রতিক ভোটকে প্রেসিডেন্টের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ক্ষমতা এবং যুদ্ধ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্বের সীমারেখা পুনর্নির্ধারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী ১ আগস্ট পর্যন্ত এই যুদ্ধের ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে প্রতি মাসে আরও প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। একই সময়ে জ্বালানি ও পেট্রলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করেছে। ফলে অনেক আইনপ্রণেতার কাছে ইরানের যুদ্ধ এখন শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়; এটি জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি বাজেট, মূল্যস্ফীতি এবং ভোটারদের সন্তুষ্টির সঙ্গেও যুক্ত হয়ে গেছে।

এই পরিবর্তনে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসন ভোটের মুখোমুখি হবে। এমন পরিস্থিতিতে যেসব নির্বাচনী এলাকায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সামরিক হতাহতের আশঙ্কা কিংবা যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, সেসব এলাকার প্রতিনিধিদের ওপর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান ব্যাখ্যা করার চাপ বাড়তে পারে।

তবে সাম্প্রতিক ভোটের তাৎক্ষণিক ফল যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। প্রতিনিধি পরিষদের আগের প্রস্তাবগুলো প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায় নি এবং এমন কোনো প্রস্তাব পেলে ট্রাম্প তা ভেটো করতে পারেন। একইসঙ্গে সিনেটের অভিজ্ঞতাও দেখিয়েছে যে, সেখানে একই ধরনের প্রস্তাব পাস হলেও তা বাস্তবে সরকারের সামরিক কার্যক্রম সীমিত করবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।

তবুও সাম্প্রতিক ভোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে একই ধরনের ভোটের পুনরাবৃত্তি দেখায় যে, ইরানের যুদ্ধ কংগ্রেসে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সীমিত সংখ্যায় হলেও রিপাবলিকানদের ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেওয়া ইঙ্গিত করে যে কিছু আইনপ্রণেতা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে আরও জবাবদিহি এবং একটি স্পষ্ট আইনি কাঠামো চান।

সামগ্রিকভাবে, প্রতিনিধি পরিষদের নতুন ভোটের পেছনে যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়া, সামরিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া সামরিক অভিযান চালানোর প্রশ্ন এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন-এই কয়েকটি বিষয় কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

এই ভোট নিজে থেকে ট্রাম্পের সামরিক ক্ষমতা বন্ধ করছে না। তবে এটি প্রমাণ করে-যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া নিয়ে বিরোধিতা এবং প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতার সীমা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে কংগ্রেসের যুদ্ধসংক্রান্ত ভূমিকা এবং ২০২৬ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইরান যুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।#

পার্সটুডে/এনএম/১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।