রুশ প্রতিনিধিদলের তুরস্ক সফর: নয়া সমঝোতার সম্ভাবনা
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i77336-রুশ_প্রতিনিধিদলের_তুরস্ক_সফর_নয়া_সমঝোতার_সম্ভাবনা
সিরিয়ার ইদলিবে সেদেশের সেনা ও মিত্রবাহিনীর অভিযানের ঘটনায় তুরস্ক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অপরদিকে রাশিয়া সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দ্বিপক্ষীয় এই মতবিরোধের ঘটনায় রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তুরস্ক সফর করেছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২০ ১৫:০৬ Asia/Dhaka
  • আঙ্কারায় রুশ-তুরস্ক বৈঠক
    আঙ্কারায় রুশ-তুরস্ক বৈঠক

সিরিয়ার ইদলিবে সেদেশের সেনা ও মিত্রবাহিনীর অভিযানের ঘটনায় তুরস্ক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। অপরদিকে রাশিয়া সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। দ্বিপক্ষীয় এই মতবিরোধের ঘটনায় রাশিয়ার উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল তুরস্ক সফর করেছে।

আঙ্কারায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পর আলোচনা চালিয়ে যাবার ব্যাপারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ভারশিনিন এবং সিরিয়ায় রাশিয়ার বিশেষ দূত আলেকজান্ডার লভরেন্তিভ। তুরস্কের প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাদাত ওনাল। আঙ্কারায় রাশিয়ান ও তুর্কি প্রতিনিধিদের মধ্যে গতকালের ওই বৈঠকে উভয় পক্ষ ইদলিবকে শান্ত রাখতে এবং সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেয়।

রুশ প্রতিনিধি দলে রাজনীতিবিদ,সামরিক এবং গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে উভয় পক্ষই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনা করছে এবং সেটা চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই হতে পারে। গুরুত্বের দিক থেকে আদানা'চুক্তি-২ বলা যেতে পারে এই চুক্তিকে। ১৯৯৮ সালের ২০ অক্টোবরে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তিতে দু'পক্ষই সম্মত হয়েছিল যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোকে কেউই নিজেদের ভূমিতে ঢুকতে দেবে না। তুরস্কের সেনারাও সন্ত্রাসীদের দমনে সিরিয়ার ভূখণ্ডের পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢোকার অনুমতি পাবে। চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে প্রয়োজনে তুরস্কের সীমান্তে সেনা মোতায়েন করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তুরস্কের সেনাদের তো আর সিরিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশের প্রয়োজন পড়ে না। সিরিয়া তাই তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রায়ই ওই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে এসেছে।

সের্গেই ল্যাভরভ

তুর্কি সরকার আদানা চুক্তি মেনে চললেই কেবল স্থগিত হয়ে যাওয়া ওই চুক্তি আবার বাস্তবায়ন হতে পারে। সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়া এবং সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে তুর্কি সেনা প্রত্যাহার করার মধ্য দিয়ে ওই চুক্তিতে ফিরে যাওয়া যেতে পারে। তাহলেই সিরিয়া এবং তুরস্ক দুদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ২০১৯ সালের অক্টোবরে বলেছিলেন: আমরা সীমান্ত নিরাপত্তার ব্যাপারে তুরস্কের উদ্বেগের বিষয়টি উপলব্ধি করি।এটি আদানা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী বিশ্লেষণ করা উচিত।তুরস্কের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বেগের কথা বলে রাশিয়া মূলত সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং নিজেদের ভূখণ্ডের ওপর কেন্দ্রিয় সরকারের নিয়ন্ত্রণের কথাই বোঝাতে চেয়েছে।রাশিয়া চায় দামেশ্ক এবং আঙ্কারার মধ্যকার উত্তেজনা কমাতে এবং সিরিয়ার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে। রাশিয়া বর্তমান সিরিয়া সরকারের ঘনিষ্ট মিত্র হিসেবে সবসময়ই অনুমতি ছাড়া বিদেশি সেনা উপস্থিতির বিরুদ্ধে এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে এসেছে। ইতোপূর্বে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বলেছেন:মস্কো মনে করে সিরিয়া থেকে বিদেশি সেনা চলে যাওয়া উচিত। সিরিয়ার ভূখণ্ডে আন-নুসরা ফ্রন্টের মতো কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠি হামলা চালালে তাদের প্রতিহত করতে সেনা অভিযান চালানোর অধিকার দামেশকের রয়েছে।#

পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/৯

 বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।