লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নয় বরং সংকটের কারণ অনেক ঊর্ধ্বে
ইরানের ব্যাপারে সত্য কথাই বলেছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী: জানালেন দুশ্চিন্তার কারণ
সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল আরাবিয়া টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, 'বৈরুতের সঙ্গে রিয়াদের সমস্যা লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও অনেক ঊর্ধ্বে। লেবাননসহ সমগ্র পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের মিত্রদের শক্তি বৃদ্ধি সৌদি আরবের জন্য সমস্যার মূল কারণ।'
সম্প্রতি লেবাননের তথ্যমন্ত্রী জর্জ কোরদাহি কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেছেন, "ইয়েমেনে এখন সৌদি আগ্রাসন বন্ধ করার সময় এসেছে। ইয়েমেন যুদ্ধকে তিনি 'বাজে যুদ্ধ' বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং বলেছিলেন আরব দেশগুলোর মধ্যে যুদ্ধকে তিনি সমর্থন করেন না। তিনি আরো বলেছিলেন যে, ইয়েমেনে সামরিক বাহিনী এবং হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের যোদ্ধারা বাইরের আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য লড়াই করছেন। ইয়েমেন যুদ্ধে বর্তমানে সৌদি আরবই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।"
তার এই মন্তব্যের পর সৌদি আরব রিয়াদে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে। একই পথ অনুসরণ করেছে বাহরাইন এবং কুয়েত। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরবের এ কঠোর প্রতিক্রিয়া থেকে প্রথম থেকেই বোঝা যাচ্ছিল ইয়েমেন বিষয়ে লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রধান সমস্যা নয় বরং মূল সমস্যা এসবেরও অনেক ঊর্ধ্বে আর সেটা হচ্ছে ইরান। আল-আরাবিয়াকে দেয়া সাক্ষাতকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য থেকে থেকে বোঝা যায় পশ্চিম এশিয়ার পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং এ অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য ইরানের নেতৃত্বে ইসলামি প্রতিরোধ শক্তিগুলোর অনুকূলে চলে যাওয়ায় সৌদি আরব খুবই অসন্তুষ্ট।
সৌদি সরকার লেবাননের হিজবুল্লাহকে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ মিত্র বলে মনে করে। সে কারণে ইয়েমেন ইস্যুতে লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অজুহাত করে সৌদি সরকার লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, 'লেবাননের সমাজে বড় ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন দরকার। কেননা লেবানন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইরান সমর্থক হিজবুল্লা বড় ভূমিকা রাখছে এবং এ ক্ষেত্রে অবশ্যই পরিবর্তন আনা দরকার।' তিনি আরো বলেন, 'লেবাননের রাজনৈতিক অঙ্গনেও হিজবুল্লাহর একক আধিপত্য ও প্রভাব সৌদি আরবকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ অবস্থায় লেবাননের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো লাভ হবে না।'
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব গত এক দশক ধরে নানা কৌশলে ইসরাইল বিরোধী ইসলামি প্রতিরোধ শক্তিগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে রিয়াদ ব্যর্থ হচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, সৌদি আরবের তেল বেচা ডলার পাশ্চাত্যের বৃহৎ শক্তিগুলো বিশেষ করে আমেরিকার পকেটে চলে যাচ্ছে। এই অর্থের মালিক সৌদি আরব হলেও তারা এ অঞ্চলে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। সৌদি সরকার মনে করে ইরানের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ শক্তিগুলোর কারণেই প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ বা পরাজিত হয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে সৌদি আরবে সামান্যতম গণতন্ত্রও নেই অথচ তারা ইরাক ও লেবাননে ইরানের মিত্র ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধাদেরকে পরাজিত করার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তারা আরব দেশগুলোতে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে কিংবা আইএস সন্ত্রাসীদেরকে লেলিয়ে দিয়ে ইরানের মিত্রদেরকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেবাননের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অজুহাত বানিয়ে সেই একই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সৌদি আরব এমন সময় লেবাননের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যখন আগামী মার্চে ওই দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। যেহেতু সৌদি আরব জানে যে হিজবুল্লাহকে ঠেকানো সম্ভব নয় সে কারণে তারা ভিন্ন কৌশলে ওই দেশটির রাস্তায় সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।#
পার্সটুডে /এমআরএইচ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।