ইইউ'র সদস্যপদ লাভের পক্ষে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট
রাশিয়াকে দুর্বল করার এটাই মোক্ষম সুযোগ বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র
ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ'র সদস্যপদ লাভের জন্য ইউক্রেন যে আবেদন জানিয়েছিল তা গ্রহণ করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। মঙ্গলবার রাতে ওই পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে আবেদনের পক্ষে ৬৩৪ ভোট পড়ে। বিপক্ষে ভোট দেন ১৩ জন এবং ২৬ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউক্রেনের আবেদন গৃহীত হওয়ার অর্থ ইইউ'তে দেশটির সদস্যপদ পেয়ে যাওয়া নয় বরং এই ভোটাভুটির মাধ্যমে ইউক্রেনকে ইইউতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হলো মাত্র। ইইউতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য একটি দেশকে 'কোপেনহেগেন ঘোষণা' নামক কিছু সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করতে হয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, স্থিতিশীল গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ইউরোসহ ইইউ'র সকল আইন মেনে নিতে প্রস্তুত থাকা। এ ছাড়া অভিন্ন মুদ্রা ইউরোতেও যুক্ত হতে হবে আবেদনকারী দেশকে।
ধারণা করা হচ্ছে, ইইউ'র সদস্যপদ লাভের জন্য ইউক্রেনের আবেদনের প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্ট যে সাড়া দিয়েছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পাশ্চাত্যের প্রচারণাগত ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা এবং রাশিয়ার সাথে কোনো ধরনের সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতিতে না যাওয়ার জন্য ইউক্রেনকে উৎসাহিত করা। ইউরোপীয়দের ধারণা এ ভাবে যুদ্ধের আগুনকে প্রজ্বলিত করা যাবে এবং রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকে ফেলা যাবে।
অন্যদিকে, মার্কিন নেতৃত্বে পাশ্চাত্য বিশ্ব মনে করছে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের অজুহাতে মস্কোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা চাপানো যাবে। এ ছাড়া, রাশিয়াকে এমন একটি দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধে জড়ানো যাবে যাতে দেশটি বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং দেশের ভেতরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতা, মর্যাদা ও যোগ্যতা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। মোটকথা, পাশ্চাত্যের দেশগুলো বিশেষ করে আমেরিকার ধারণা রাশিয়াকে দুর্বল করার এটাই মোক্ষম সুযোগ।
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল ইউক্রেন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা সম্পর্কে বলেছেন, ইউরোপ মুখে শান্তির কথা বলছে কিন্তু ইউক্রেনে রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী। বিবৃতিতে ২০১৪ সালে পাশ্চাত্যপন্থীদের ব্যাপক প্রতিবাদ বিক্ষোভের কথা বলা হয় যাদের পেছনে আমেরিকা ও ইউরোপের রাজনৈতিক, প্রচারণা ও অর্থ সহায়তার ইন্ধন ছিল এবং অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টোর ইয়ানোকোভিচকে অপসারণ করে সেখানে পাশ্চাত্যপন্থী সরকার বসানো হয়েছিল। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে ইউক্রেনে ইউরোপের অস্ত্র পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নিজেদেরকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরার দিন শেষ।
খ্যাতনামা রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্কিন সাময়িকী ফরেন এফেয়ার্সে লেখা এক নিবন্ধে বলেছেন, রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা ইউক্রেন সংঘাতকে আরো দীর্ঘায়িত করবে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।