মার্কিন আগ্রাসনের সাথে থাকার ফল অপমান ছাড়া কিছুই নয়: ড্যানিশদের অভিজ্ঞতা
-
মার্কিন দূতাবাসের সামনে আফগানিস্তানে নিহত ডেনিশ সৈন্যদের স্মরণে পতাকা
পার্সটুডে: কোপেনহেগেনে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে নিহত ডেনিশ সৈনিকদের স্মরণে রাখা পতাকা সরানোর ঘটনা প্রাক্তন সৈনিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।
পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক্তন সৈনিকরা বুধবার কোপেনহেগেনে মার্কিন দূতাবাসের সমালোচনা করেন। কারণ, দূতাবাস আফগানিস্তানে নিহত ডেনিশ সৈনিকদের সম্মানে তাদের জাতীয় পতাকা যা দূতাবাসের সামনে রাখা ছিল, তা সরিয়ে দিয়েছিল। পরে দূতাবাস সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এবং দাবি করে, যদি তারা মূল উদ্দেশ্য জানত, তবে পতাকাগুলো কখনোই সরাত না।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ২২ জানুয়ারি মন্তব্য করেছিলেন যে, আফগানিস্তানে ২০ বছরের যুদ্ধে ডেনিশ সৈনিকরা সামনের লাইন থেকে কিছুটা দূরে ছিল, যা ডেনমার্ক এবং অন্যান্য মিত্র দেশের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
এর প্রতিবাদে, মঙ্গলবার কোপেনহেগেনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে ৪৪টি ডেনিশ পতাকা লাগানো হয়, প্রতিটি পতাকায় আফগানিস্তানে নিহত একজন করে ডেনিশ সৈনিকের নাম লেখা ছিল। তবে দূতাবাস বুধবার এই পতাকা সরিয়ে ফেলে। শুরুতে দূতাবাস জানিয়েছিল, পতাকাগুলো অনুমতি ছাড়া বসানো হয়েছে, যা প্রাক্তন সৈনিকদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনার কারণ হয়।
ডেনিশ প্রাক্তন সৈনিকদের সমিতির সভাপতি কার্সটেন রাসমুসেন এফ্রান্স সংবাদ সংস্থাকে বলেন: “এটি একটি অর্থহীন পদক্ষেপ ছিল, যা অনেক ডেনিশকে প্ররোচনামূলক মনে হয়েছে।”
অনেক প্রাক্তন সৈনিক ট্রাম্পের মন্তব্যকে তাদের সঙ্গী সৈনিকদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
কোপেনহেগেনের একজন কর্মকর্তা যেন্স-ক্রিস্টিন লুটকেন (ভেনস্ট্রে/লিবারাল পার্টি) দূতাবাসের সিদ্ধান্ত এবং ডেনমার্কের আফগানিস্তানে অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলেছেন। তিনি বলেন: “আমরা আফগানিস্তান, ইরাক ও অন্যান্য স্থানে মার্কিনদের পাশে লড়াই করেছি এবং আফগানিস্তানে অনেক সৈনিক হারিয়েছি—প্রতিটি জীবনই মার্কিনদের মতোই মূল্যবান।”
শেষ পর্যন্ত, বুধবার নতুন পতাকা পুনরায় বাগানে স্থাপন করা হয় এবং দূতাবাস সংবাদপত্র বারলিংস্কে-কে জানায়, এগুলো স্থায়ীভাবে সেখানে থাকবে। রাসমুসেন বলেন: “যদি মার্কিন রাষ্ট্রদূত পুরোপুরি ডেনমার্কে ঘটমান বিষয়গুলো বোঝেন, তবে তিনি বুঝবেন এটি একটি প্ররোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
ডেনিশ প্রাক্তন সৈনিকরা ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে ৩১ জানুয়ারি কোপেনহেগেনে নীরব পদযাত্রা করার পরিকল্পনা করেছেন।
আফগানিস্তানে নিহত ড্যানিশ সেনাদের স্মরণে লাগানো পতাকা অপসারণে মার্কিন দূতাবাসের পদক্ষেপ এবং ড্যানিশ সৈন্যরা আফগানিস্তানে যুদ্ধের সামনের লাইন থেকে দূরে ছিল বলে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্য প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন মূলত আফগানিস্তানে নিহত ন্যাটো জোটের সেনাদের জন্য কোন সম্মান বা মর্যাদা রাখে না, এমনকি ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে মার্কিন দূতাবাসের সামনে তাদের স্মরণে পতাকা স্থাপনও সহ্য করতে প্রস্তুত নয়। সর্বশেষ কথা হলো, ড্যানিশদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, আমেরিকার আগ্রাসনের সাথে থাকার ফল অপমান ও লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছুই নয়।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৯