ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে কিংবদন্তি মার্কিন শিকারি ড্রোন ‘রিপার’ বিধ্বস্ত: নিউজউইক
-
মার্কিন শিকারি ড্রোন ‘রিপার’
পার্সটুডে-ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫টি MQ-9 Reaper ড্রোন ভূপাতিত বা বিধ্বস্ত হয়েছে।
নিউজউইক-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংখ্যা দেশটির এই শ্রেণীর মোট ড্রোন বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। একসময় মার্কিন আকাশ-শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত এই ড্রোন উন্নত সামরিক সক্ষমতাসম্পন্ন একটি দেশের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মুখোমুখি হয়ে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
লন্ডনের কিংস কলেজের ফ্রিম্যান এয়ার পাওয়ার বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডসনের মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পশ্চিমা যুদ্ধকৌশলের আরও বড় একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। তা হলো-অত্যন্ত উন্নত ও ব্যয়বহুল অস্ত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, যেগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা উচ্চমাত্রার যুদ্ধের সময় ব্যবহারের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়াকেও এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামরিক বিশেষজ্ঞরা নিউজউইক-কে বলেছেন, ইরানের মতো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধেই রিপারের কিছু বৈশিষ্ট্য দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। ড্রোনটি আকারে বড়, তুলনামূলক ধীরগতির এবং স্টেলথ প্রযুক্তিবিহীন। এটি এমন এক সময়ে তৈরি করা হয়েছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত আকাশে নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত করতে পারত। কিন্তু আধুনিক ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখোমুখি হলে সেই পরিস্থিতি আর থাকে না।
রিপারের উচ্চ মূল্যও এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। নিউজউইক-এর তথ্য অনুযায়ী, একটি আধুনিক রিপার তৈরি করতে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়, যার মধ্যে পরিচালনাগত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে নিউজউইক বলছে, রিপার এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম বহুমুখী ড্রোন। মে মাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এটিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তখন পর্যন্ত ‘সবচেয়ে মূল্যবান’ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, MQ-9-এর মতো এত বেশি আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা অন্য কোনো বিমানের নেই।
যুক্তরাষ্ট্রও ইতোমধ্যে সস্তা ড্রোন ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এক বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির মাধ্যমে কম দামের মার্কিন ড্রোন উন্নয়ন ও কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি পেন্টাগন কম খরচের আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহারে ইরানের অভিজ্ঞতা থেকেও শিক্ষা নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজউইক-এর প্রতিবেদনের সারকথা হলো, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মার্কিন আকাশ-শক্তির অন্যতম প্রতীক MQ-9 Reaper-কে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। কয়েক মাসের মধ্যে রিপার বহরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারানোর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল ও স্টেলথবিহীন ড্রোনটির সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।#
পার্সটুডে/এনএম/১৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।