সীমান্তে অস্ত্র মজুদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করল পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ অভিযোগ করেছেন, সীমান্ত এলাকায় ভারত নজিরবিহীন অস্ত্র মজুদ করছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এ তৎপরতা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান। গোলযোগপূর্ণ কাশ্মির নিয়ে যখন পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে তখন এমন অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাষণের বরাত দিয়ে ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি এ খবর দিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ বলেছেন, সীমান্তে নজিরবিহীন অস্ত্র মজুদের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারে না পাকিস্তান। কার্যকর প্রতিরক্ষার জন্য যা কিছু প্রয়োজন পাকিস্তান করবে।
এছাড়া, হিমালয় অঞ্চলে সহিংসতা প্রসঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ভারত অগ্রহণযোগ্য পূর্বশর্ত আরোপ করছে বলেও অভিযোগ করেন নওয়াজ। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির সঙ্গে ইসলামাবাদ শান্তি চায় এবং ২৭ বছরের দীর্ঘ সংঘাত বন্ধে বারবার সংলাপের প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।
পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, দু দেশের স্বার্থেই আলোচনা প্রয়োজন। পাক-ভারতের মধ্যে বিরাজমান মতপার্থক্য বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া, পরিস্থিতিকে আরো উত্তেজনার দিকে ঠেলে দেয়ার বিপদ থেকে রক্ষার জন্য আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।
গত রোববার কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলায় প্রায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছে। পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে এ হামলার জন্য দায়ী করছে ভারত। কিন্তু হামলায় কোনো ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করে ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, তড়িঘড়ি সন্দেহের আঙ্গুল তুলেছে নয়াদিল্লি।
রক্তক্ষয়ী হামলার পর ভারতের কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জবাব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলওসি’র পাকিস্তানের দিকে অবস্থিত কথিত প্রশিক্ষণ শিবিরে বিমান হামলার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তারা।
এ ধরনের ঘটনা ঘটলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দু’দেশের মধ্যকার উত্তেজনা মারাত্মক পর্যায়ে উঠবে। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে এ পর্যন্ত দেশ দু’টি চার দফা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অস্থিরতায় জড়িত সবপক্ষকে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়ার এবং আরো জীবনহানি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/২২