‘মার্চ বা এপ্রিলে পাক-ভারতের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে পারে’
https://parstoday.ir/bn/news/world-i26695-মার্চ_বা_এপ্রিলে_পাক_ভারতের_মধ্যে_পূর্ণাঙ্গ_যুদ্ধ_শুরু_হতে_পারে’
পাকিস্তানের অনুসন্ধানী সাংবাদিক নাভিদ আহমেদ মনে করেন, তার দেশের সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছে ভারত সরকার। মার্চ বা এপ্রিল মাসে দু’দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশংকা রয়েছে বলেও ধারণা করেন তিনি।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ২৫, ২০১৬ ১৪:৫৬ Asia/Dhaka
  • ‘মার্চ বা এপ্রিলে পাক-ভারতের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে পারে’

পাকিস্তানের অনুসন্ধানী সাংবাদিক নাভিদ আহমেদ মনে করেন, তার দেশের সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে নিয়ে যেতে চাইছে ভারত সরকার। মার্চ বা এপ্রিল মাসে দু’দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশংকা রয়েছে বলেও ধারণা করেন তিনি।

ইরানের ইংরেজি নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভিতে পাক-ভারত উত্তেজনা নিয়ে বিতর্কের  সময় তিনি আরো বলেন, ভারত 'কোল্ড স্টার্ট ডকট্রিন' বা 'ধীরে শুরুর নীতি' নিয়ে এগিয়ে চলেছে। কাশ্মির সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছের লক্ষ্যবস্তুগুলোকে চূড়ান্ত হামলার আগে 'নরম করার' চেষ্টা করছে ভারত। মার্চ বা এপ্রিল মাসে পাক-ভারত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশংকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে কাশ্মির থেকে এ যুদ্ধ শুরু হবে। 

নাভিদ আহমেদ আরো বলেন, ভারত যেসব অভিযোগ তুলছে, ভারতীয় সামরিক বাহিনী যে সব মহড়া চালাচ্ছে এবং গোটা ভারতজুড়ে যে মনোভাব বিরাজ করছে তার প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনাকে তুঙ্গে নিয়ে যেতে এবং তৃতীয় দফা দেশটির সঙ্গে যুদ্ধে বাধিয়ে দিতে চাইছে ভারত সরকার।

এ বিশ্লেষক আরো মনে করেন,  গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের মুদ্রামান কমার মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি ঘোরানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা তুঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

চীনের দিকে পাকিস্তানের ঝুঁকে পড়া এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক করিডর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মোটেও খাপ খায় না বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া, ভারতের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য পাকিস্তানের প্রস্তুতির বিষয়েও কথা বলেন নাভিদ আহমেদ। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনা দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া।

তিনি জোরালো ভাষায় বলেন, দুই সরকারের মধ্যে আস্থা এবং পর্যাপ্ত পুঁজি বিনিয়োগ ছাড়া পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। ভারত অনেকবারই শান্তি প্রক্রিয়া বাতিল করতে চেয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আলোচনায় অংশ নেয়া অপর সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সোবহান সাক্সেনা বলেন, কাশ্মির সংকট নিরসনে পাকিস্তান ও ভারতের একযোগে কাজ করা উচিত। কিন্তু দুই পক্ষের যুদ্ধংদেহী মনোভাব বিরাজমান সংকট নিরসনে কোনো সহায়তা করবে না।

পাকিস্তান ও ভারত দু দেশের হাতে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে ফলে দুই দেশেরই সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

পূর্ণাঙ্গ  যুদ্ধ যদি শুরু হয় তাহলে দু দেশ এবং গোটা অঞ্চলের ওপর নিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে যাবে তা সহজেই অনুমান করা যায় বলে উল্লেখ করেন সোবহান সাক্সেনা। তিনি বলেন, পরমাণু যুদ্ধ সম্ভব নয় এবং এ নিয়ে কথা বলা উচিতও হবে না। 

পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সব সমস্যার জন্য ভারতকে দায়ী করা থেকে বিরত থাকার জন্য ইসলামাবাদ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিজেদেরই সমাধান করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে নেয়া নীতির ফলই পাকিস্তান ভোগ করছে। 

পাকিস্তান ও ভারত ২০০৩ সালের ২৬ নভেম্বরে কাশ্মির নিয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর পরের বছরই দুদেশ শান্তি প্রক্রিয়া শুরু করে। অবশ্য, তারপর থেকে মাঝে মাঝে দুদেশের মধ্যে সংঘর্ষও ঘটেছে। এ জন্য দু দেশ পরস্পরকে দায়ী করেছে।#

পার্সটুডে/মূসা রেজা/২৫