দ্বীপ নিয়ে দ্বন্দ্ব; শান্তির খোঁজে পুতিন এখন জাপানে
https://parstoday.ir/bn/news/world-i28363-দ্বীপ_নিয়ে_দ্বন্দ্ব_শান্তির_খোঁজে_পুতিন_এখন_জাপানে
ভৌগোলিক দ্বন্দ্বসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারি সফরে জাপান গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ও জাপান কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িত রয়েছে এবং বিগত দশকগুলোতে তা ছিল দু দেশের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হওয়ার পথে বড় ধরনের অন্তরায়।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ১৫, ২০১৬ ২২:৫৭ Asia/Dhaka
  • ভ্লাদিমির পুতিন (বামে) ও শিনজো অ্যাবের বৈঠক
    ভ্লাদিমির পুতিন (বামে) ও শিনজো অ্যাবের বৈঠক

ভৌগোলিক দ্বন্দ্বসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরকারি সফরে জাপান গেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ও জাপান কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িত রয়েছে এবং বিগত দশকগুলোতে তা ছিল দু দেশের মধ্যে সম্পর্ক গভীর হওয়ার পথে বড় ধরনের অন্তরায়।

জাপান পৌঁছে আজ (বৃহস্পতিবার) ভ্লাদিমির পুতিন স্বাগতিক দেশের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নাগাতো শহরে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা মস্কোর নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রশান্ত মহাসাগরে চারটি দ্বীপসহ অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

এ চারটি দ্বীপের ওপর জাপানও মালিকানা দাবি করে আসছে। রাশিয়ার দক্ষিণে এবং জাপানের উত্তরে অবস্থিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দেশ দুটির মধ্যে মূল দ্বন্দ্ব। এ কারণে গত ৭০ বছর ধরে দু দেশের মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে পারে নি। মস্কো ও টোকিও দীর্ঘদিন ধরে শান্তি চুক্তির চেষ্টা করছে যার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার শত্রুতার অবসান ঘটবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে সোভিয়েত বাহিনী দ্বীপ চারটি দখল করে নেয়।  

জাপান বলে আসছে রাশিয়া বৈধভাবে দ্বীপগুলো দখল করে আছে। অন্যদিকে, ১৯৫১ সালে সই হওয়া স্যানফ্রান্সিসকো চুক্তির কথা উল্লেখ করে রাশিয়া বলছে, ওই চুক্তির মাধ্যমে জাপান দ্বীপের সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দিয়েছে; ফলে জাপানের দাবি ভিত্তিহীন।

বৈঠকের পর অ্যাবে জানান, পুতিনের সঙ্গে তার আলোচনার বেশিরভাগ জুড়ে ছিল ভৌগোলিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি। শান্তি চুক্তির বিষয়ে দু নেতা গভীরভাবে আলোচনা করেছেন বলে জানান অ্যাবে।  

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানান, তার দেশ শান্তি চুক্তি সইয়ের জন্য পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। সে কারণে আশা করা যায় এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া, সিরিয়া যুদ্ধ ও এশিয়ায় মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও পুতিন এবং অ্যাবে আলোচনা করেছেন বলে জানান ল্যাভরভ।

এদিকে, ক্রেমলিনের অর্থনৈতিক বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যৌথভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরুর বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে দু পক্ষ একটি বিবৃতি দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়টি আলোচিত হলেও কেউই দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি না ছাড়ার কারণে যৌথ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করা সম্ভব হয় নি। এ দফায় কীভাবে বিষয়টির সমাধান হবে তা শুক্রবারের বিবৃতিরে মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।#     

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/১৬