'আফগানিস্তান-ইরাকে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ চালিয়েছে মার্কিন কমান্ডো বাহিনী সিল'
-
\'সিল-৬\'র অভিযান (ফাইল ফটো)
মার্কিন বহুল আলোচিত কমান্ডো বাহিনী ‘সিল-৬’ ইরাক ও আফগানিস্তানে নির্বিচারে হত্যা, শত্রুর লাশ বিকৃতি করাসহ যুদ্ধাপরাধমূলক নানা তৎপরতায় জড়িত ছিল। ইন্টারসেপ্ট ওয়েবসাইটের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে সাড়া জাগানো তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন-লাদেনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছিল সিল-৬। এ বাহিনীর আনুষ্ঠানিক নাম হলো ‘স্পেশাল ওয়ারফেয়ার ডেভলপমেন্ট গ্রুপ’ বা ডেভগ্রু।
ইন্টারসেপ্ট ওয়েবসাইটে ১৬ হাজার শব্দের এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সিল-এর কর্মকর্তারা মার্কিন কমান্ডোদের মানবতাবিরোধী তৎপরতা বন্ধের কোনো চেষ্টা তো করেনই নি বরং তাদের অপরাধ ধামাচাপা দেয়ার যথাসাধ্য প্রয়াস চালিয়েছেন। এছাড়া, যুদ্ধকালীন আইন, যুদ্ধক্ষেত্রের আচরণ এবং জেনেভা কনভেনশন মেনে চলতে সিল কমান্ডোদের বাধ্য করা হয় নি বলে নিরীহ বেসামরিক মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিন লাদেনের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানকে পুঁজি করে বই লিখে বা মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে সিলের অনেক সদস্য বিপুল অর্থ আয় করেছেন- এমন অনেক সদস্যকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে সিল।
লাদেন বিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে লেখা বইয়ে অভিযানে অংশ গ্রহণকারী অনেক সিল সদস্য নিজেদের ভূমিকাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তুলে ধরেছেন। লাদেনের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে লেখা জনপ্রিয় বই ‘নো ইজি ডে’র লেখক ম্যাট বিসনোনেট এ রকমই এক ব্যক্তি বলে ইন্টারসেপ্ট ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিল-৬’র ১৮ জন সাবেক এবং সক্রিয় সদস্য এবং সাবেক চার কমান্ডারের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। দুই বছরের পরিশ্রমের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়েছে, সিল সদস্যদের অপরাধ তৎপরতা বন্ধে কোনো না নেয়ায় তা ভয়াবহ ভাইরাসের মত বিস্তার লাভ করেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময়ে কেটে গেলেও মার্কিন প্রশাসন বা পেন্টাগন এখনো এ সম্পর্কে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নি।#
পার্সটুডে/মূসা রেজা/১২