বিশ্ব অঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে ইসরায়েল
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i159112-বিশ্ব_অঙ্গনে_ক্ষতিগ্রস্ত_ভাবমূর্তি_পুনরুদ্ধারের_চেষ্টা_করছে_ইসরায়েল
পার্সটুডে- ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, সরকার বিজ্ঞাপন এবং তথাকথিত 'পাবলিক ডিপ্লোমেসি' বা জন কূটনীতির জন্য একটি বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে।
(last modified 2026-05-03T13:03:58+00:00 )
মে ০৩, ২০২৬ ১৯:০১ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট
    ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট

পার্সটুডে- ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, সরকার বিজ্ঞাপন এবং তথাকথিত 'পাবলিক ডিপ্লোমেসি' বা জন কূটনীতির জন্য একটি বিশাল বাজেট বরাদ্দ করেছে।

ইসরায়েলি সূত্র ২০২৬ সালের জন্য বিজ্ঞাপন এবং তথাকথিত "পাবলিক ডিপ্লোমেসি"র জন্য প্রায় ৭৩০ মিলিয়ন ডলারের এক নজিরবিহীন বাজেট বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের পর বিশ্ব জনমতে সরকারের ক্ষতিগ্রস্ত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা।

পার্সটুডে জানিয়েছে, "টাইমস অফ ইসরায়েল" পত্রিকার একটি প্রতিবেদন বলা হয়েছে, নেসেট গত মার্চে এই বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছে। এই অঙ্কটি গত বছরের বাজেটের (১৫০ মিলিয়ন ডলার) প্রায় পাঁচ গুণ এবং তিন বছর আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সা'আর ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে মানুষের মন জয়ের যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। তার এই ঘোষণা চলমান সামরিক অভিযানের পাশাপাশি প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়টিকে তুলে ধরে।

এই বাজেট শুধু গণমাধ্যম প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কেন্দ্রীয় জন কূটনীতি ইউনিট গঠন এবং ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থা সম্পর্কিত শত শত গণমাধ্যম ও হাজার হাজার বিষয়বস্তু দৈনিক ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মিডিয়া অপারেশনস রুম চালু করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গুগল, ইউটিউব এবং এক্স-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে এবং রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় নেতাসহ শত শত বিদেশি প্রতিনিধিদলকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য আরও ৪০ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলি বয়ানকে বিভিন্ন মাধ্যমে তুলে ধরা।

হাসবারা: গণমাধ্যমের সরঞ্জামের চেয়েও বেশি কিছু

গবেষণায় দেখা গেছে যে, “হাসবারা” শুধু একটি প্রচারণার মাধ্যম নয় বরং এটি গণমাধ্যম, কূটনীতি এবং লবিংয়ের একটি জটিল ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলি বয়ানকে তুলে ধরা। এই ব্যবস্থাটি, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য বার্তা তৈরি করে এবং ডিজিটাল প্রভাব বিস্তারের কৌশল ব্যবহার করে এবং লক্ষ্য অনুযায়ী জনমতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার জনগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিবলী তালহামি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে যা ঘটছে তা এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন, যা তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে ‘গাজা প্রজন্ম’ গড়ে ওঠার মাধ্যমে হয়েছে। এমন একটি প্রজন্ম যারা ইসরায়েলের নীতিগুলোকে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করে।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন