দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি
সাবেক আইজিপি বেনজীরের গ্রেফতার পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
-
বেনজীর আহমেদ
দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। গত ১২ জুন (২০২৬) আমিরাত পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
আজ (রোববার) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই গ্রেফতারকে ‘বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হব। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এই বার্তাটি আমরা জাতিকে দিতে চাই। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।"
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে একটি রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই রেড নোটিশের ভিত্তিতেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো একটি ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। বর্তমানে তিনি সেখানে আটক রয়েছেন।
দেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ (এক্সট্রাডিশন রিকোয়েস্ট) পাঠাতে হবে।
সাবেক এই আইজিপিকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হবে। সদর দপ্তরের শাখা এনসিবি ঢাকা, ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করছে। খুব দ্রুতই তাঁকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও অতীত রেকর্ড
২০২৪ সালে ছাত্র–গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্তে নামলে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ২৬(২) ও ২৭ ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পাওয়া সাত র্যাব কর্মকর্তার মধ্যেও তাঁর নাম ছিল।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৪