লাইসেন্স বাতিলের মাধ্যমে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে: আদ্-দ্বীন হাসপাতালের মালিক
https://parstoday.ir/bn/news/event-i160360-লাইসেন্স_বাতিলের_মাধ্যমে_আমাকে_ফাঁসি_দেওয়া_হয়েছে_আদ্_দ্বীন_হাসপাতালের_মালিক
বাংলাদেশের রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর জেরে হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলকে নিজের ‘ফাঁসি’র সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। একই সঙ্গে, হাসপাতাল বাঁচাতে তিনি কোটি কোটি টাকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে ঘুরেছেন— মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
(last modified 2026-06-15T12:20:43+00:00 )
জুন ১৫, ২০২৬ ১৮:১২ Asia/Dhaka
  • সংবাদ সম্মেলনে ডা. শেখ মহিউদ্দিন
    সংবাদ সম্মেলনে ডা. শেখ মহিউদ্দিন

বাংলাদেশের রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর জেরে হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলকে নিজের ‘ফাঁসি’র সমতুল্য বলে মন্তব্য করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। একই সঙ্গে, হাসপাতাল বাঁচাতে তিনি কোটি কোটি টাকা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে ঘুরেছেন— মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

আজ (সোমবার) বিকেল ৪টায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লাইসেন্স বাতিল, ভেন্টিলেশন সমস্যা, শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন ডা. শেখ মহিউদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “শিশু মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের মাধ্যমে মূলত আমাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। অথচ ঠিক কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। যেসব শিশু মারা গেছে তাদের ময়নাতদন্তও করা হয়নি।”

এর আগে গত ১৩ জুন নরসিংদীর এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেছিলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাইসেন্স বাঁচাতে কোটি কোটি টাকা নিয়ে তার পেছনে ঘুরেছে, কিন্তু সরকার দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছে।

মন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরব? আমি টাকা নিয়ে ঘুরিনি। মন্ত্রী মহোদয় যদি এ বিষয়ে কিছু বলে থাকেন, তবে তাকেই সেটি প্রমাণ করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির বরাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপর গত ১১ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালটির নিবন্ধন বাতিল করে। এর মাঝেই ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ, আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রতিষ্ঠানটির।

সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছে, বুয়েটের প্রকৌশলীসহ বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। একজন বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার, একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও একজন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের সমন্বয়ে গঠিত এই দলের পর্যবেক্ষণে মূল উদ্বেগের বিষয় ছিল ভেন্টিলেশন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা।

ইতিমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও অক্সিজেন পরিমাপের আধুনিক যন্ত্র কিনে প্রতিটি রুম পরীক্ষা করছে। তবে পরীক্ষায় কোনো রুমেই ক্ষতিকারক মাত্রার বিচ্যুতি পাওয়া যায়নি দাবি করে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, “নবজাতকদের শারীরিক সহনশীলতা বড়দের চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় ভেন্টিলেশনের সামান্য পরিবর্তনও সংবেদনশীল হতে পারে। তবে বর্তমানে যে মাত্রা পাওয়া গেছে, তা শিশু মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো নয়।”

তিনি আরও জানান, সিলগালা করা শিশু ওয়ার্ডটির চাবি চাওয়া হয়েছে এবং এক সপ্তাহের মধ্যেই সব সংস্কার শেষ করা সম্ভব হবে। এছাড়া হাসপাতালের ওপরের তলার বিতর্কিত বেকারিটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে অন্য জায়গায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৬০ জন আশঙ্কাজনক রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারের কোনো আশ্বাস না পেলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনিভাবে আপিল করবে এবং এর আবেদনপত্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়।#