শহীদ রুদাকি যুদ্ধজাহাজ: দূর সাগরে আধিপত্য বাড়াতে ইরানের অভিনব উদ্ভাবন
-
শহীদ রুদাকি মহাসাগরীয় যুদ্ধজাহাজ
পার্সটুডে: ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ দ্রুত গতিতে নিজেদের আধুনিকায়ন করছে। দ্রুতগামী বোট থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ, ড্রোন এবং লজিস্টিক সাপোর্টের নানা সরঞ্জাম যুক্ত করে নিজেদের শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে নিয়েছে তারা।
২০২০ সালে তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব এক অভিনব আইডিয়া থেকে এমন একটি বড় যুদ্ধজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করে, যা দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজবুত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এর নাম দেওয়া হয় ‘শহীদ রুদাকি মহাসাগরীয় যুদ্ধজাহাজ’।
সে সময় ইরানের নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলীরেজা তাংসিরি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের বাইরে দূর সাগরে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা দেওয়া তাঁদের দায়িত্ব এবং এই সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করছেন।
যুদ্ধজাহাজটির মূল বৈশিষ্ট্য ও ক্ষমতা:
- কম খরচে বড় সাফল্য: এটি মূলত ইতালির তৈরি একটি সাধারণ বেসামরিক মালবাহী বা কার্গো জাহাজ (গ্যালাক্সি এফ) ছিল। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ইরানের নৌ-কারখানায় সামান্য কিছু গাঠনিক পরিবর্তন এনে একে একটি শক্তিশালী সামরিক জাহাজে রূপান্তর করা হয়। ফলে অত্যন্ত কম খরচে ইরান একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজ পেয়ে যায়।
- বিশাল আকৃতি ও গতি: ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ২২ মিটার প্রস্থের এই জাহাজটির ওজন প্রায় ১২,০০০ টন। এটি দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকতে পারে, যা ইরানের নৌবাহিনীর জন্য একটি বড় রেকর্ড।
- অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান পরিবহন: জাহাজটি আগে একটি ‘রো-রো’ (Ro-Ro) কার্গো জাহাজ হওয়ায় এর ভেতরে সহজেই কয়েক ডজন সাঁজোয়া যান, গাড়ি ও ছোট স্পিডবোট রাখা যায়। এর পেছনের বিশেষ ঢালু পথ (র্যাম্প) দিয়ে ক্রেন ছাড়াই সরাসরি স্পিডবোট সাগরে নামানো বা তোলা সম্ভব।
- লজিস্টিক বা মাদার শিপ: এটি একসাথে কয়েকশ নৌ-কমান্ডো বহন করতে পারে। এছাড়া সাগরে থাকা অন্যান্য ছোট ছোট বোটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, পানি, খাদ্য ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে একটি 'মাদার শিপ' বা মাতৃ-জাহাজ হিসেবে কাজ করতে পারে।
- শক্তিশালী আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষা: জাহাজটিতে শত্রুপক্ষের ওপর হামলা চালানোর জন্য যেমন ৩০০ কিলোমিটার রেঞ্জের শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তেমনি সুরক্ষার জন্য রয়েছে ইরানের বিখ্যাত ‘৩ খোরদাদ’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি শত্রুর ফাইটার জেট, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে দিতে পারে।
- ড্রোন ও হেলিকপ্টার ডেক: এর বিশাল ডেকে ড্রোন উড্ডয়ন ও হেলিকপ্টার ল্যান্ডিংয়ের চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ঝাঁকে ঝাঁকে ‘আবাবিল-২’ সুইসাইড ড্রোন ওড়ানোর জন্য এই ডেক অত্যন্ত উপযোগী।
কেন এই জাহাজ ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
১. সীমানা পেরিয়ে মহাসাগরে: এই জাহাজের কল্যাণে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনীর অভিযানের পরিধি কেবল পারস্য উপসাগরে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি ভারত মহাসাগরের মতো উন্মুক্ত জলসীমায় বিস্তৃত হয়েছে।
২. নতুন প্রযুক্তির দুয়ার: একটি বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজকে নিখুঁত সামরিক রূপ দেওয়ার এই অভিজ্ঞতা ইরানকে ভবিষ্যতে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে আরও বড় বড় আধুনিক যুদ্ধজাহাজ তৈরির আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএআর/১৪