সৌদি-কাতার উত্তেজনা প্রশমনে জাতিসংঘের সাহায্য চাইল দোহা
-
জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
সৌদি আরব ও তার তিন মিত্রের সঙ্গে নিজের চলমান সংকট নিরসনে জাতিসংঘের সাহায্য চেয়েছে কাতার। দোহা বলেছে, কাতারের ওপর অবরোধ আরোপকারী দেশগুলো ‘চরম জেদি’ মনোভাব দেখানোর কারণে এ সংকট সুরাহার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
জুন মাসে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটির ওপর ভয়াবহ অবরোধ আরোপ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর।
ওই নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছেন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুররহমান আলে সানি। নিউ ইয়র্ক সফররত আলে সানি বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাতে ওই মন্তব্য করে বলেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এ উত্তেজনা নিরসনে জাতিসংঘের উচিত ‘সার্বিক প্রচেষ্টা’ চালানো।
গুতেরেসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অবরোধ আরোপকারী দেশগুলো এতটা জেদি যে, তারা সংকট নিরসনের কোনো মানসিকতাই দেখাচ্ছে না। তবে এ সংকট নিরসনের জন্য কাতার সংলাপে বসতে আগ্রহী বলে জানান আলে সানি। তিনি নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন চার আরব দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে গত মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কোনো কোনো সদস্যের সাহায্য চেয়েছিল কাতার। কিন্তু জাতিসংঘ মহাসচিব আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতায় এ সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তখন কুয়েত ও তুরস্ক যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। এমনকি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মধ্যপ্রাচ্য সফরে এসেও উত্তেজনা প্রশমন করতে পারেননি। এ কারণে, শেষ পর্যন্ত কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউ ইয়র্ক সফরে গিয়ে বলেছেন, চার আরব দেশের সঙ্গে তার দেশের উত্তেজনা প্রশমনের ‘সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান’ হচ্ছে জাতিসংঘ।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/২৮