অবশেষে পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিল ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
-
ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরানের পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের বিতর্কিত মন্তব্যের জের ধরে এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং বিশ্বের স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে প্যারিস এই সমঝোতা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে আরো বলেছে, ২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়া ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত করা হয়েছে। কাজেই এটি লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ নেই।
এর আগে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরার্ড আর্ভ্ড সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় দাবি করেন, ২০২৫ সালে ইরানের পরমাণু সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার রাখবে না। তিনি এমন সময় এ দাবি করেন যখন ওই সমঝোতা পরিষ্কার বলা হয়েছে, ১০ বছর পর সমঝোতার মেয়াদ শেষ হলে উচ্চমাত্রায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
ফরাসি কূটনীতিকের ওই টুইটার বার্তার প্রতিবাদে রোববার তেহরানে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।
এ ছাড়া, ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরমাণু বিষয়ক শীর্ষ আলোচক সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি পাল্টা টুইটার বার্তায় হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, যদি আর্ভ্ডের বক্তব্য ফ্রান্স সরকারের রাষ্ট্রীয় অবস্থান হয়ে থাকে তাহলে প্যারিস নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে বলে ধরে নিতে হবে। তিনি এ ব্যাপারে প্যারিসকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে তেহরান উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আরাকচির ওই হুঁশিয়ারির পর ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাখ্যা দিল।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জেরার্ড আর্ভ্ড অবশ্য এরইমধ্যে তার টুইটার পেজ থেকে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সম্পর্কিত তিনটি পোস্ট সরিয়ে ফেলেছেন।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১৬