মার্চ ২৮, ২০২২ ২১:১২ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠকবন্ধুরা! স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ক সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্যকথার আসরে স্বাগত জনাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করি আপনারা সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন। আজ আমরা নাক কান গলার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার নিয়ে কয়েক পর্বে কথা বলব। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ-ভারতসহ বিশ্বের দেশে দেশে নাক-কান-গলার সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঠান্ডার কারণে সমস্যা সৃষ্টি হতে দেখা দেয়। কিন্তু ঠান্ডাজনিত সমস্যা ছাড়াও নাক-কান-গলার আরও অনেক জটিল অসুখ হতে পারে। আর তাই নাক-কান-গলার নানা রকমের সমস্যা ও চিকিৎসা নিয়ে রেডিও তেহরানের স্বাস্থ্যকথার আজকের আসরে আলোচনা করবেন ই এন টি স্পেশালিস্ট ডা, এম মইনুল হাফিজ।

জনাব, ডা. এম. মইনুল হাফিজ রেডিও তেহরানে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।

ডা. এম মইনুল হাফিজ: ধন্যবাদ

রেডিও তেহরান: ড, এম মইনুল হাফিজ, আলোচনার শুরুতেই ই এন টি বা নাক কান গলার কি ধরনের সমস্যা নিয়ে মানুষ সাধারণ আসে?

ডা. এম মইনুল হাফিজ: দেখুন, নাক কান গলার যে চিকিৎসা আমরা মানুষকে দেই সেখানে কিন্তু কয়েকটি অঙ্গ আছে। অর্থাৎ কয়েকটি অঙ্গ নিয়ে আমাদের কাজ। দৈনন্দিন জীবনে এমন কোনো মানুষ নেই যাদের জন্ম থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত  এসব অঙ্গের সমস্যা হয় না। নাক কান গলার রোগগুলো সব বয়সের মানুষেরই হয়ে থাকে। নারী-পুরুষ সবারই নাক কান গলার রোগ হতে পারে। তবে এরমধ্যে কিছু কিছু রোগ ছোটদের বেশি হয় আবারও কোনো কোনো রোগ বড়দের বেশি হয়ে থাকে। আবার নাক কান গলার এমন কিছু রোগ আছে সেটি কেবলমাত্র বৃদ্ধদের  হয়ে থাকে।

রেডিও তেহরান: ডা, এম মইনুল হাফিজ- আমরা শুরুতেই তাহলে গলার সমস্যা নিয়ে কথা বলি। আসলে গলার কি ধরনের সমস্যা হতে পারে?

ডা. এম মইনুল হাফিজ: প্রথমে যদি আমরা গলার রোগ নিয়ে আলোচনা করি তাহলে দেখা যাবে জন্মগতভাবেই কিছু রোগ হয়ে থাকে গলার। ধরুন- আমরা যে নিঃশ্বাস নেই সেটি নাকের ফুটো দিয়ে বের হয় কিন্তু অপর প্রান্তে যেখান থেকে শ্বাসটি তৈরি হয়ে আসবে অর্থাৎ নাকের অপর প্রান্তের যে ফুটো সেটি জন্মের সময়ই বন্ধ থাকতে পারে। আর এই রোগটিকে আমরা কোনাল অ্যাকটেশিয়া বলি। এই ধরনের রোগীর সংখ্যা খুব যে বেশি তা বলব না। তবে এ ধরনের অনেক রোগী আমাদের কাছে এসে থাকে।

এরপর গলার একটি রোগের বিষয়ে বলি- গলার লেরিংস যেটি যেখান থেকেও শ্বাস আসতে পারে সেটির একটি অংশ ফুসফুসের মধ্যে চলে যায় সেখানেও একধরনের রোগ হয় যাকে বলা হয়' লেরিঙ্গ মেলিশিয়া' বা ট্রেকনো মেলিশিয়া'। হুইচপাইপ যেটি শক্ত থাকার কথা কিন্তু জন্মগতভাবে ঐ পাইপটি নরম থাকে। যখন একটি শিশু নিঃশ্বাস নিতে যায় তখন ঐ পাইপটি চেপে যায়। সে কারণে বাচ্চার নিঃশ্বাসে কষ্ট হয়। এ অবস্থায় বাচ্চার মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

শ্রোতাবন্ধুরা! স্বাস্থ্যকথার আসরে ই এন টি স্পেশালিস্ট ডা. এম মইনুল হাফিজের সাক্ষাৎকার শুনছেন। ফিরছি খুব শিগগিরিই। আমাদের সাথেই থাকুন।

নাক কান ও গলার সমস্যা

রেডিও তেহরান: আবার ফিরে এলাম আলোচনায়। ডা, এম মইনুল হাফিজ, আপনি মিউজিক বিরতির আগে শিশুদের জন্মগত গলার সমস্যা নিয়ে কথা বলছিলেন। তো গলায় আর কি কি সমস্যা হতে পারে ?

ডা. এম মইনুল হাফিজ: দেখুন, লেরিংস কর্ড, ভোকাল কর্ড এবং যেটাকে ভয়েস বক্স বলা হয় যেখান থেকে মানুষ শব্দ তৈরি করে সেখানে কিছু কিছু সমস্যা হতে পারে। স্বরতন্ত্রীর শুরুর দিকটায় যেটাকে লেরিংজাল ওয়েভ বলা সেই ছিন্দ্রটি অনেকসময় জন্মগতভাবে খোলা থাকে না। ওটার মধ্যে পর্দার মতো কিছু লেগে থাকে। কোনো বাচ্চা হওয়ার পরপরই যদি সে শ্বাস নিতে না পারে তখন বুঝতে হবে তার লেরিংজাল ওয়েব ছিদ্রটি বন্ধ। আর এ সমস্যার কারণে কিন্তু বাচ্চার মৃত্যু হতে পারে। আবার দেখা যায় পুরোপুরি বন্ধ না কিন্তু আংশিক বন্ধ তখনও বাচ্চার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। তখন ঐ বাচ্চাটিকে এন্ডোস কপি করে তারপর আমরা ডায়াগনসিস করে থাকি। এছাড়া আরও কিছু সমস্যা আছে যেগুলো জন্মগতভাবে হয়ে থাকে।

রেডিও তেহরান: ডা, এম মইনুল হাফিজ, শিশুর জন্মগত গলার সমস্যা স্বরতন্ত্রীর শুরুটা যেখানে যাকে বলা হয় লেরিনজাল ওয়েভ। দেখা যায় জন্মের সময় ঐ স্বরতন্ত্রীর ছিদ্রটা খোলা থাকে না। কিছু পর্দার মতো লেগে থাকে জন্মের পর পরই যদি এমন থাকে তাহলে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হতে পারে। আচ্ছা এতো গেল জন্মের সময়কার গলার সমস্যা- একটু বড় হওয়ার পর শিশুর গলার কি রোগ হতে পারে ?

ডা. এম মইনুল হাফিজ: বাচ্চারা একটু বড় হলে টনসিলের সমস্যা হয়। দেখা যায় কোনো কোনো বাচ্চার টনসিল অনেক বড় হয়ে যায়। আর নাকের পেছনে একটি জায়গা আছে যেটিকে আমরা 'এডিনয়েড' বলে থাকি। এটাকে বলা ন্যাজোফ্রেন্সিয়াল টনসিল। এরগঠনও টনসিলের মতো। শিশু বড় হতে থাকলে এ জায়গাটি অনেক সময় ছোটো হয়ে যায়।  এ প্রসঙ্গে টনসিলাইটিস কী তা একটু বলে রাখছি, জিভের পিছনে গলার দু’পাশে যে দু’টি লিম্ফ নোড থাকে, তাদেরই বলা হয় টনসিল। বিশেষজ্ঞদের কথায়, এই অংশ দু’টি বাইরের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে শরীর ভিতরের অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে। এরা প্রতিরোধক অঙ্গের মতো কাজ করে। তবে বেশ কয়েকটি বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রমণে টনসিলই সংক্রামিত হয়ে পড়ে। এতে ওই অংশ দু’টি ফুলে ওঠে। ডাক্তারি পরিভাষায় এই সংক্রমণেরই নাম টনসিলাইটিস।

রেডিও তেহরান: ডা. এম মইনুল হাফিজ, এই যে টনসিল ফুলে যাওয়ার কথা বলছিলেন তো এই ফুলে যাওয়ার কারণ কি?

ডা. এম মইনুল হাফিজ: দেখুন, টনসিল ফুলে যাওয়ার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আবার কখনও কখনও কারণ ছাড়াও টনসিল ফুলে যেতে পারে। আর এক দেড় বছরের বাচ্চার এটি হলে বাচ্চার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তার নিঃশ্বাসের সময় বেশ জোরে জোরে আওয়াজ হচ্ছে। বাচ্চাটি তখন ছটফট করছে, উপুড় হয়ে ঘুমাতে চাচ্ছে। এইসব বাচ্চার গ্রোথ কম হয়ে থাকে। এ ধরনের বাচ্চাদের নিয়ে যখন আমাদের কাছে আসে তখন আমরা কখনও এক্সরে করি অথবা এন্ডোস্কোপি করাই। আর এন্ডোস্কোপি হল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা একটি টিস্যু বা অভ্যন্তরীণ অঙ্গকে বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ছোট সার্জারি এবং ইমেজিং চালানোর জন্য সহায়ক। তো এন্ডোস্কোপি করানোর পর এমনটি দেখা গেলে আমরা এই রোগটিকে বলি এনলার্জ এডিনয়েড। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, ঘনঘন সর্দি লাগার কারণে নাকের পেছনে এডিনয়েড নামক লসিকাগ্রন্থি বড় হয়ে যায়।   অর্থাৎ এডিনয়েড বড় হয়ে যাওয়া। এরকম হলে আমরা সঙ্গে অপারেশন করে ফেলি।

তো ডা.এম মইনুল হাফিজ নাক কান গলার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকার নিয়ে স্বাস্থ্যকথার আসরে আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ডা. এম মইনুল হাফিজ: আপনাকেও ধন্যবাদ।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৬

ট্যাগ