মে ৩০, ২০১৭ ১২:১৩ Asia/Dhaka

পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানদের করণীয় কাজ ও এ মাসের শ্রেষ্ঠ আমল সম্পর্কে আমরা কথা বলছিলাম গত কয়েক পর্বে। বিশ্বনবী (সা)’র পরামর্শ অনুযায়ী রমজান মাসে সবচেয়ে ভালো আমল হল গোনাহ থেকে দূরে থাকা।

আর গোনাহ থেকে দূরে থাকার নানা  উপায় প্রসঙ্গে আমরা খোদা-প্রেম, কুরআন ও হাদিস চর্চাসহ জ্ঞান-চর্চা, নিজেকে সবচেয়ে বড় অপরাধীর মতো মনে করে মহান আল্লাহর সামনে সবচেয়ে বেশি বিনম্র থাকার চেষ্টা করা, মৃত্যু, কবরের আজাব ও পরকালের শাস্তির কথা স্মরণ করা এবং মনকে সব সময় খোদামুখী করার সাধনার কথা উল্লেখ করেছি।

খোদাভীতি ও সব-সময় আল্লাহকে স্মরণও মানুষকে পাপ থেকে দূরে রাখে। পবিত্র কুরআনের সুরা রাদে’র ২৮ নম্বর আয়াতের একাংশে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যারা মু’মিন বা বিশ্বাসী তাদের অন্তর আল্লাহর জিকিরের মাধ্যমে শান্তি পায়; জেনে রাখ,  কেবল আল্লাহর জিকিরেই অন্তরগুলো শান্তি পায়।’

পবিত্র কুরআন মু’মিন বা বিশ্বাসীদেরকে সর্বোত্তম চরিত্র গঠন করতে বলে।  একজন মু’মিন অন্যদের সঙ্গে কখনও অভদ্র আচরণ করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করা হচ্ছে একজন প্রকৃত বিশ্বাসীর বৈশিষ্ট্য। পরস্পরকে উপহাস করা, গুজব ছড়ানো, গিবত বা পরনিন্দা ও পরচর্চা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা-বার্তা বলা কোনো মু’মিনের কাজ হতে পারে না। পবিত্র রমজানে এ বিষয়ে সচেতন ও সতর্ক থাকার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত যাতে সারা বছরে এসব দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা সহজ হয়।

Image Caption

মানুষের বহু পাপ ঘটে জিহ্বার মাধ্যমে। জিহ্বার পাপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে মহান আল্লাহ  বলেছেন, ‘যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে নিজেকে জড়াবে না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর- এসব বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। (ইসরা, ৩৬)

 গুজব ছড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন: গিবত থেকে দূরে থাকতে হলে মনে রাখা দরকার যে আল্লাহ আমাদের সব কথা ও  কাজই দেখছেন। আর আমরা কেউই ত্রুটিমুক্ত নই এবং এটাও মনে রাখতে হবে, শয়তান মু’মিনদের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস উস্কে দিতে চায়। মহানবী (সা) বলেছেন, কেউ যদি নিজেকে (আত্মিকভাবে) পরিচ্ছন্ন বা সুন্দর করতে চায় তাহলে তাকে সুন্দর ব্যবহারের ও দীর্ঘ সময় ধরে নীরব থাকার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে। অন্য এক সময় তিনি বলেছেন, যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তাদেরকে হয় সুন্দর কথা বলতে হবে অথবা চুপ থাকতে হবে।

কোথাও কারো সম্পর্কে কুৎসা রটনা করা হলে বা কারো নিন্দা করা হলে মুমিনের উচিত নিন্দার শিকার ব্যক্তির পক্ষ নেয়া। অন্যদের দোষ-ত্রুটি সব সময় ঢেকে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য নানা অজুহাতও তৈরি করা উচিত। মোটকথা অন্যদের সম্পর্কে নেতিবাচক কথা বলার অভ্যাস দূর করার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করতে হবে।  মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে গিবত, অপবাদ ও পরনিন্দা ও গোয়েন্দাবৃত্তির মত মহাপাপগুলো থেকে দূরে থাকার তৌফিক দিন।#

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আশরাফুর রহমান/৩০