নতুন দুটি বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ৩১ ডিসেম্বর রোববারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। শুরুতেই ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- ক্যান্সারের ওষুধও নকল! এ কোন বাংলাদেশ?-দৈনিক যুগান্তর
- বিদায়ী বছরে রেকর্ড সংখ্যক নারী ধর্ষণ-দৈনিক ইত্তেফাক
- বিমানবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নতুন দুই ঘাঁটি-দৈনিক প্রথম আলো
- ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ-দৈনিক মানবজমিন
- ঘটনাবহুল বছর নিস্তরঙ্গ রাজনীতি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- কাশ্মিরে সিআরপিএফ ক্যাম্পে গেরিলা হামলা: নিহত জওয়ান, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা-দৈনিক আনন্দবাজার
- হিন্দু অনুষ্ঠানে তিন তালাক প্রসঙ্গ কেন টানলেন প্রধানমন্ত্রী? -দৈনিক আজকাল
- শিশুর ক্যানসারের নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, ফের সক্রিয় অসাধু চক্র-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
বিমানবাহিনীতে যুক্ত হচ্ছে নতুন দুই ঘাঁটি-দৈনিক প্রথম আলো
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে নতুন দুটি বিমানঘাঁটি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বরিশাল ও সিলেটে নতুন দুটি বিমানঘাঁটি স্থাপনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আমার বিশ্বাস, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী আরও শক্তিশালী হবে এবং বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।’
আজ সকালে যশোরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে ৭৪তম বাফা কোর্সে এবং ডিরেক্ট এন্ট্রি ২০১৭ কোর্সের মোট ৭৯ জন ফ্লাইট ক্যাডেটকে কমিশন প্রদান করেন। সেখানেই তিনি এসব কথা বলেন।
বিদায়ী বছরে রেকর্ড সংখ্যক নারী ধর্ষণ-দৈনিক ইত্তেফাক
বিদায়ী বছরে নারীদের অর্জন কম নয়। কিন্তু সেই অর্জন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে রেকর্ড সংখ্যক নারী ধর্ষণের ঘটনায়। বাদ যায়নি শিশুদের উপর নির্যাতনও। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ৪ হাজার ৫৩৮ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ধর্ষণ, গণধর্ষণের ঘটনা সব চেয়ে বেশি। রয়েছে হত্যা, আত্মহত্যা, উত্যক্তকরণ, যৌতুকের কারণে নির্যাতন, শ্লীলতাহানির মত ঘটনাও। যেগুলো বার বারই উঠে এসে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, নারী নির্যাতনের বিষয়টি এখনো রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছে না। যে কারণে চোখের সামনে নির্যাতনের ঘটনা দেখলেও সবাই তা মেনে নিচ্ছে। দুর্বল আইনের শাসনও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তাই এ ধরনের সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে, নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। তারা বলছেন, রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন আর পেশিশক্তির প্রভাবের কারণে সমাজে নারীদের উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি আর ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে।
ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রীকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ-দৈনিক মানবজমিন
মিথ্যা তথ্য দিয়ে মামলা করার অভিযোগে কবি-প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার ও তার স্ত্রী ফরিদা আক্তারকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ ঢাকা মহানগর হাকিম শুব্রত ঘোষ শুভ প্রসিকিউশন মামলা আমলে নিয়ে তাদের আগামী ৩০শে জানুয়ারির মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ২৮শে ডিসেম্বর ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আদাবর থানার নন-জিআর শাখায় এ প্রসিকিউশন মামলাটি ডাকযোগে পাঠান মামলার বাদী ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মাহাবুবুল ইসলাম। তিনি ফরহাদ মজহার ও ফরিদা আক্তারকে পলাতক দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।
ক্যান্সারের ওষুধও নকল! এ কোন বাংলাদেশ?-দৈনিক যুগান্তর
নকল ওষুধের দৌরাত্ম্য এখন ক্যান্সার পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ক্যান্সারের নকল ওষুধ উদ্ধার করেছে পুলিশের তদন্ত বিভাগ সিআইডি। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর তাঁতীবাজারে অভিযান চালিয়ে একটি গোডাউন থেকে ক্যান্সারের এমটিএক্স, ক্লোমাইড ও রিভোকন নামের ওষুধের ৪০ হাজার পাতা জব্দ করেছেন সিআইডির সদস্যরা। একই সঙ্গে তারা গ্রেফতার করেছেন তিন অপরাধীকে। ক্যান্সারের নকল ওষুধ উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর নিশ্চয়ই এ রোগে আক্রান্তরা ও তাদের আত্মীয়স্বজন ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ক্যান্সার এমনিতেই এক দুরারোগ্য জটিল ব্যাধি। এর চিকিৎসাও ব্যয়বহুল। ক্যান্সারে আক্রান্তের স্বজনরা রোগীর চিকিৎসা করতে হিমশিম খান। এ অবস্থায় যদি বাজার থেকে তাদের নকল ওষুধ ক্রয় করতে হয়, তাহলে অবস্থাটা কী দাঁড়ায়? রোগীর স্বজনরা হয়তো বুঝতেও পারেন না, নকল ওষুধে কোনো কাজ হয়নি অথবা এ ওষুধে রোগ আরও জটিল হয়ে রোগী মারা গেছে।
ক্যান্সারের নকল ওষুধের ব্যবসা করছে যারা, তাদের অপরাধের ক্ষমা নেই। মানবিক গুণাবলীর লেশমাত্র নেই তাদের মধ্যে। আমরা চাইব, এসব জঘন্য অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। দ্বিতীয়ত, ক্যান্সারের নকল ওষুধের বিস্তার কতটা ঘটেছে, তা-ও খুঁজে বের করতে হবে।
ঘটনাবহুল বছর নিস্তরঙ্গ রাজনীতি-দৈনিক নয়া দিগন্ত
গুম-খুনের পীড়ন, দ্রব্যমূল্যের কশাঘাত আর নিষ্প্রভ-নিস্তরঙ্গ রাজনীতির মোড়কে বিদায় নিচ্ছে ২০১৭। বিদায়ী বছরে সাধারণ মানুষ যতটা না আশায় বুক বেঁধেছিল, তার চেয়ে ঢের বেশি নিমজ্জিত ছিল হতাশায়। দেশের কাঠামোগত উন্নয়ন তাদের নিত্যদিনের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি। চালের দেশে ভাতের ক্ষুধা, বছর শেষে পেঁয়াজের দামে স্বর্ণের ছোঁয়া বিড়ম্বনাই বাড়িয়েছে। গুম-খুনের শিকার হওয়া পরিবারের দুঃসহ কষ্ট নিবারণ হয়নি। স্বজন হারানোর বেদনা তাদের গুমরে গুমরে কাঁদিয়েছে। অশ্রু শুকিয়ে গেছে, ফিরে আসেনি আপনজন। রাজনীতিতে কোনো সুখবর ছিল না। মাঠের বিরোধী দল বিএনপি পারেনি জনপ্রত্যাশা পূরণ করতে।
এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত
হিন্দু অনুষ্ঠানে তিন তালাক প্রসঙ্গ কেন টানলেন প্রধানমন্ত্রী?-দৈনিক আজকাল
হিন্দু তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রসঙ্গ টানলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সপ্তাহেই লোকসভায় পাস হয়েছে তিন তালাক বিল। রোববার ৮৫তম শিবগিরি তীর্থযাত্রীদের উদযাপন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বলেন, ‘বছর পর বছর ধরে তিন তালাক প্রথার জন্য মুসলিম মহিলাদের কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এখন তাঁরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত।’ইতিমধ্যে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড বিল প্রত্যাখ্যান করে কেন্দ্রকে বিল প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের মতে এই বিল শরিয়ত সম্মত নয়। তাছাড়া বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন এর তীব্র বিরোধীতা করছে সে খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় এসেছে।
শিশুর ক্যানসারের নামে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা, ফের সক্রিয় অসাধু চক্র-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
প্রতারণার পর্দা ফাঁস হয়ে গিয়েছে আগেই। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর চিকিৎসার জন্য গলায় আই-কার্ড ঝুলিয়ে রোগাক্রান্তর নথি ভরা ফাইল হাতে নিয়ে ট্রেন, বাসে বা রাস্তায় যে ‘স্বেচ্ছাসেবীদের’ সাহায্য চাইতে দেখা যায়, তার গোটাটাই ভাঁওতাবাজি। কুপন কেটে শিশুদের চিকিৎসার নামে দৈনিক হাজার হাজার টাকা তুলছে তারা। মাসে লাখ লাখ টাকা। আর দিনের শেষে ‘কালেকশন’-এর অর্ধেক পায় এজেন্টরা। বাকিটা যায় ভুঁইফোঁড় সংস্থার মালিকের পকেটে। অসহায় শিশুর চিকিৎসার জন্য যে সহৃদয় মানুষেরা সাহায্য দিচ্ছেন, তাঁরা জানতেও পারছেন না এই সহানুভূতি পুঁজি করে আসলে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে এই সংস্থাগুলি।
এই খবর ছড়িয়ে যাওয়ার পর মাসখানেক গা ঢাকা দেয় এই ভাঁওতাবাজরা। তবে পরিস্থিতি একটু থিতোতেই ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবীর মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রতারকরা। শুক্রবারই উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকায় এই সংস্থার এক কর্মীকে হাতে নাতে ধরেন এলাকার লোকেরা। ধরা পড়ার পর তিনি জানান, এক মাস কাজ বন্ধ রাখতে বলেছিল ‘মঙ্গলদ্বীপ’-এর মালিক বিশ্বনাথ গোস্বামী। তবে কয়েকদিন আগেই সে কর্মীদের জানায়, “সব মিটে গিয়েছে। আবার ফাইল আর কুপন নিয়ে নেমে পড়।”
একা মঙ্গলদ্বীপ নয়। কোথাও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট, কোথাও ফাউন্ডেশনের নাম নিয়ে রোগে আক্রান্ত বাচ্চার ছবি দেখিয়ে টাকা তুলছে বহু সংস্থা। হিসাব কষে দেখা যায়, এই প্রতারণা করে মাসে কয়েক লক্ষ টাকা পকেটে পুরছে এই সংস্থার মালিক। হাজার হাজার কামাচ্ছে কর্মী বা এজেন্টরা। মঙ্গলদ্বীপ নামে এই চক্রের পান্ডা বিশ্বনাথ গোস্বামী জানিয়েছিল, দশ টাকার কুপনে দিনে হাজার টাকা কালেকশন হয়েই যায়। যে এজেন্ট টাকা তোলে সে কালেকশনের অর্ধেক পায়, মানে পাঁচশো, বাকিটা সংস্থার। সে জানায়, তার সংস্থায় ৩০ থেকে ৩৫ জন কাজ করে। অর্থাৎ, একজন গড়ে দিনে হাজার টাকা করে কালেকশন করলে প্রতিদিন তার আয় পাঁচশো টাকা। আর ৩০ জনের থেকে পাঁচশো করে নিয়ে এই সংস্থার আয় মাসে সাড়ে চাল লাখ টাকা।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৩১