আসাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা
-
পত্রপত্রিকার পাতা
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। ৪ জানুয়ারি বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডি : ৮ এজেন্ট গ্রেফতার-দৈনিক ইত্তেফাক
- আট দিবস পালন বাধ্যতামূলক করতে রিট-প্রথম আলো
- শীর্ষ সোনা চোরাচালানি নাগাল থেকে উধাও-দৈনিক প্রথম আলো
- খাল নিয়ে নোয়াখালীর আর দুঃখ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
- নতুন বিমানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ মেননের-দৈনিক যুগান্তর
- আসাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা-দৈনিক মানবজমিন
- মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- যে কোনো মূল্যে কাল সমাবেশ করবে বিএনপি -রিজভী-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- অসমে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর, গ্রেফতারির দাবি-দৈনিক আনন্দবাজার
- বাঙালি বিএসএফ জওয়ানকে হত্যার বদলা নিল ভারত, খতম ১৫ পাক রেঞ্জার্স-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- জানেন কি, হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আপনার আধার নম্বর-দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
খাল নিয়ে নোয়াখালীর আর দুঃখ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক যুগান্তর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হোয়াংহো আর চীনের দুঃখ নাই। আমি চাই- খালও আর নোয়াখালীর দুঃখ হয়ে থাকবে না।’বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নোয়াখালী এলাকার খাল সংস্কার ও পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এসব প্রকল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হবে। বাস্তবায়ন করা হবে নদী ড্রেজিংসহ খাল খনন কর্মসূচি’। তিনি আরও বলেন, ‘যখনই আমি নোয়াখালী গিয়েছি, তখনই আমি শুনেছি- নোয়াখালী খালের কথা। এই খালটা কেটে দিলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা খালটা করে দেব’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘হোয়াংহো আর চীনের দুঃখ নাই। আমি চাই- খালও আর নোয়াখালীর দুঃখ হয়ে থাকবে না।’
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নোয়াখালী এলাকার খাল সংস্কার ও পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এসব প্রকল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও হবে। বাস্তবায়ন করা হবে নদী ড্রেজিংসহ খাল খনন কর্মসূচি’। তিনি আরও বলেন, ‘যখনই আমি নোয়াখালী গিয়েছি, তখনই আমি শুনেছি- নোয়াখালী খালের কথা। এই খালটা কেটে দিলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা খালটা করে দেব’।
শিক্ষকদের আমরণ অনশন চলছে, অসুস্থ ১০১-দৈনিক মানবজমিন
পঞ্চম দিনের মতো এমপিওভুক্তির দাবিতে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছে। গত ৩১শে ডিসেম্বর থেকে টানা এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। তবে এখন পর্যন্ত সরকার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ফল পাননি নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এরই অনশন কর্মসূচি পালন করতে এসে এ পর্যন্ত ১০১ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নতুন বিমানমন্ত্রীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ মেননের-দৈনিক যুগান্তর
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া নতুন মন্ত্রী লক্ষ্মীপুরের এমপি একেএম শাহজাহান কামালকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাশেদ খান মেনন।
বৃহস্পতিবার দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিদায়ী বক্তৃতায় মেনন বিমানমন্ত্রীকে এ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিমানের কিছু ব্যর্থতায় মন্ত্রণালয়ের সব অর্জন শেষ হয়েছে। এ জন্য সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।
মেনন বলেন, আপনার একটা বক্তব্য টেলিভিশনে খুব জোরেশোরে প্রচার হচ্ছে। এটি ঠিক যে বিমান নিয়ে অনেক সংকট আছে। এটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গালি খাবেন। বিমানের এমডি সাহেবের সামনেই বলছি, আমাদের যত অর্জন সব বিমানেই শেষ হয়ে যায়।
বর্তমান সরকারের শুরু থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তাকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে পাঠিয়ে বিমান ও পর্যটনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে শাহজাহান কামালকে।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, বিমানকে লাভজনক করতে প্রয়োজনে রক্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। মন্ত্রিত্ব পাওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শীর্ষ সোনা চোরাচালানি নাগাল থেকে উধাও-দৈনিক প্রথম আলো
পাসপোর্ট ফেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে গেছেন শীর্ষ সোনা চোরাচালানি মতিয়ার রহমান ওরফে খলিল। গত ২৫ ডিসেম্বর সকালে শ্রীলঙ্কা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি কলম্বো যাচ্ছিলেন। তাঁর বিদেশ ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই মতিয়ার রহমান গত তিন বছরে (২০১৫-১৭ সময়ে) ১৬৫ বার বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ৭৮ বার, আর ভারতে ৬৪ বার। দুবাই, কলম্বো, হংকং ও সিঙ্গাপুরেও তিনি কম যাননি। এতবার বিদেশে গেলেও কখনো তাঁকে কোনো জেরার মুখে পড়তে হয়নি। বরং অভিবাসন পুলিশ সব সময় তাঁকে ছাড় দিয়ে গেছে। এবার মতিয়ার রহমান বিপদে পড়েছেন সিঙ্গাপুরের কারণে। তবে এবারও পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিমানবন্দর থেকে পালিয়ে যান তিনি।
বাংলাদেশ হচ্ছে সোনা চোরাচালানের একটি বড় রুট বা পথ। প্রায় প্রতিদিনই পাচার হয়ে আসা সোনা ধরা পড়ছে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে। সোনা পাচারের সময় এর বাহকেরা কখনো কখনো ধরা পড়লেও এর মূল মালিক বা অর্থলগ্নিকারী ব্যক্তিরা ধরা পড়েন না। তাঁরা সব সময়ই থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে এই প্রথম সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরও শীর্ষ এই চোরাচালানিকে পুলিশ ধরতে পারেনি। পুলিশের সূত্রগুলোই সন্দেহ করছে, তাঁকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
আট দিবস পালন বাধ্যতামূলক করতে রিট-দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণের শিরোনাম
মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা ও শহীদ বুদ্ধিজীবী কেন্দ্রিক আটটি দিবস রাজনৈতিক দলসহ সব নাগরিকের পালন বাধ্যতামূলক করতে নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। রিটের ওপর আগামী সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার রিটের শুনানি নিয়ে পরবর্তী এ দিন ধার্য করেন।
বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডি : ৮ এজেন্ট গ্রেফতার-দৈনিক ইত্তেফাক
রেমিট্যান্সের অর্থ অবৈধভাবে বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডি করায় আটজন বিকাশ এজেন্ট গ্রেফতার করেছে সিআইডি। বুধবার গভীর রাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানি লন্ডারিং মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতারদের নাম পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
রেমিটেন্সের অর্থ অবৈধভাবে বিকাশের মাধ্যমে হুন্ডি করার অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে তাদের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
আসাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকা-দৈনিক মানবজমিন
আসাম পরিস্থিতির উপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে বাংলাদেশ। তবে এ নিয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে চায় না সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা বলছেন, দিল্লির তরফে আসাম প্রশ্নে বিশেষ করে সেখানে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ রয়েছেন মর্মে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি। দিল্লির কোনো বক্তব্য বা যোগাযোগ না থাকায় আসামের ঘটনাগুলোকে
দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই মনে করছেন তারা। স্পর্শকাতর এ ইস্যুতে মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লিস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আসামের গোয়াহাটিস্থ সহকারী হাইকমিশনকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে এবং তারা নিয়মিত তা-ই করছেন।
মাদক নির্মূলে প্রয়োজন দেখামাত্র গুলি’-প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার
মাদককে এক নম্বর সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে মাদক নির্মূলে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। মঙ্গলবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এমন আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, দরকার নির্মূল। আর মাদক নির্মূলে প্রয়োজন ‘শ্যুট অন সাইট’ (দেখামাত্র গুলি করা)। উন্নত বিশ্বে এটি আছে। মন্ত্রী বলেন, কে এমপি’র ছেলে, কে মন্ত্রীর, জজ না ব্যারিস্টারের ছেলে- এসব দেখার সুযোগ নেই। এককথায়, মাদক নির্মূলে দেখামাত্র গুলি করা উচিত।
এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া না হলে লিখে রাখেন- আমার মৃত্যুর একশ’ বছর পরও মাদক নির্মূল সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, চোখের সামনে একটি দেশ গড়া হলো। সেটি কিছু লোকের কারণে ধ্বংস হয়ে যাবে, এটি সচেতন নাগরিক হিসেবে মেনে নেয়া কঠিন।
মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা অঙ্গীকার করছি- মাদকমুক্ত দেশ গড়বো। এখন সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে মাদককেও হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে নানামুখী বিশ্লেষণ-দৈনিক নয়া দিগন্ত
মন্ত্রিসভায় নতুন তিনজনের অন্তর্ভুক্তির পরদিনই চারজনের দফতর বদল নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে মন্ত্রিসভায় এ পরিবর্তনকে অনেকেই বলছেন তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই রাজনৈতিকভাবে অপরিচিত মুখ।
সরকারি দলের মধ্যে তাদের তেমন কোনো অবস্থান নেই বলা চলে। তা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন তারা। আবার গতকাল বুধবার যে চারজনের দফতর বদল হয়েছে তার মধ্যে তিনজনই মহাজোটের শরিক দলের। ফলে নতুন অন্তর্ভুক্তি ও রদবদল নিয়ে শুরু হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণ।
আওয়ামী লীগ ও শরিক দলগুলোর একাধিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার যে চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন তারা কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ নন। আওয়ামী লীগে পুরনো ও সক্রিয় এমন অনেকেই আছেন যারা মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখেন। কিন্তু সরকার সে দিকে যায়নি। বেশ কিছু দিন পর নতুন মুখ হিসেবে যারা এসেছেন তারা সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট হলেও ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে-বাইরে তাদের তেমন কোনো প্রভাব নেই। তাদের মধ্যে একজন বর্তমান সরকারের সিনিয়র একজন মন্ত্রীর সম্পর্কে বেয়াই। অপর একজন ব্যবসায়ী। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সমর্থক হলেও মন্ত্রী হয়েছেন টেকনোক্র্যাট কোটায়।
জাতীয় নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়ার কথা এ যাবৎ ঘুণাক্ষরেও শোনা যায়নি। অপর একজনকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছে। যিনি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তাকে কোন বিবেচনায় সামনে আনা হয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই তা বুঝতে পারছেন না।
আলাপকালে সরকারি দলের একাধিক নেতা জানান, কাউকে মন্ত্রী করা না করা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি সরকারের মেয়াদের শেষে হয়তো নেতাদের এ বার্তাই দিতে চান, সরকার ও দলের ভালো-মন্দ বিবেচনায় তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। অন্য কিছু চিন্তা করে কোনো ফল হবে না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সরকার পরিচালনায় আনুগত্যের বিষয়কেই বর্তমানে গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। কর্মদক্ষতা থাকলেও রাজনৈতিক আনুগত্যে কারো ঘাটতি থাকলে তাকে কোনোভাবেই বিবেচনায় নেয়া হয় না। সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা রদবদলের ক্ষেত্রেও সরকারপ্রধান বিষয়টি বিবেচনা করেছেন।
একাধিক সূত্র জানায়, বেশ কিছু দিন শরিক দলগুলোর মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল নেতাদের কিছু বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করে। দলের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। মন্ত্রিসভায় দফতর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তাদের বোঝানো হয়েছে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সরকার প্রধানের একান্ত। আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী থাকা অবস্থায় সমালোচনা কিংবা নেতিবাচক তৎপরতা দৃষ্টিগোচর হলে সরকার তা উপেক্ষা করবে না। সে ক্ষেত্রে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়া এবং তা বাস্তবায়নের অধিকার সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রুলস অব বিজনেসে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এসব মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দফতর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, সরকারের মেয়াদের শেষে এসে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করার ক্ষেত্রে ভোটের রাজনীতিরও একটা বড় সমীকরণ কাজ করেছে।
যেসব এলাকা থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ওই এলাকার কেউই এর আগে ঠাঁই পাননি। ফলে রাজনীতিতে তাদের অবস্থান না থাকলেও আগামী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন মন্ত্রিসভায় তাদের যুক্ত করা হয়েছে। তারা আরো জানান, মন্ত্রিসভায় যারা আছেন তারা কতটুকু যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এরপর আবার মন্ত্রিসভার কলেবর বৃদ্ধি। নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগ দিয়ে আসলে একটা চমক দেয়া হয়েছে।
তবে নতুন যে মন্ত্রীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের মূলত নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের মনরার প্রয়োজনেই সামনে আনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে যেন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায় সে জন্য নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেয়া হয়েছে।
যে কোনো মূল্যে কাল সমাবেশ করবে বিএনপি -রিজভী-দৈনিক ইনকিলাব
৫ জানুয়ারি উপলক্ষে আগামীকাল শুক্রবার যে কোনো মূল্যে বিএনপি সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টার দিকে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, ফের উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন ৫ জানুয়ারি ঘিরে দুই দলের কর্মসূচি।খবরটিতে লেখা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি। ২০১৪ সালে এই দিনে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখনো দেশ-বিদেশে চলছে বিতর্ক। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে প্রতিবছর দেশের বড় দুই দল দিবসটি পালন করে বিপরীত মেরু থেকে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিবসটি পালন করে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে। আর মাঠের বিরোধী দল বিএনপি দিবসটি পালন করে ‘গণতন্ত্র হত্যা’। ২০১৫ সালে দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বাধা দেয়ায় টানা ৯২দিন হরতাল-অবরোধ হয়েছে। সেই ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ শিক্ষার্থী বহিষ্কার হচ্ছেন-দৈনিক প্রথম আলো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ায় ১৫ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ (ডিবি)। আজ সকালে পরিষদের এক বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।
বৈঠক শেষে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামান প্রথম আলোকে সুপারিশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের সভায় এই সুপারিশ কার্যকর করা হবে।
বিভিন্ন বিভাগের এই ১৫ শিক্ষার্থী ২০১৬ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রব্বানী প্রথম আলোকে বলেন, শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশই চূড়ান্ত। এটা আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), গণমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুসন্ধানের এই ১৫ জনের জালিয়াতির বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে।
এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত
অসমে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর, গ্রেফতারির দাবি-দৈনিক আনন্দবাজার
অসমের সরকার থেকে বিরোধীপক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে এক সুরেই সমালোচনা করছে সবাই। এর মধ্যেই সে রাজ্যের দিসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ‘কৃষক শ্রমিক কল্যাণ পরিষদ’-এর তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা করেছেন মমতা। সেই সঙ্গে অসমে জাতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতারের দাবি তুলেছে তারা।
অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) প্রথম খসড়া ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বীরভূমের জনসভায় ঘোষণা করেন, ‘‘বাঙালিদের গায়ে হাত পড়লে আমি ছেড়ে কথা বলব না।’’
গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে এনআরসির প্রথম খসড়াটি প্রকাশ হয়েছে। প্রায় সওয়া তিন কোটি আবেদনের মধ্যে ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের তথ্যপ্রমাণ যাচাই করার পর এই খসড়া তৈরি হয়েছে। এই ‘বিদেশি বাছাই’ নিয়ে সরব অসমের বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বিভিন্ন বাংলাভাষী সংগঠন। মমতারও আশঙ্কা, এর পরে অসমের বাঙালিদের উপরে আঁচ পড়বে। এবং ‘‘অসম পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য। সেখানে গোলমাল হলে তার প্রভাব আমাদের রাজ্যেও পড়বে,’’ বলেছেন মমতা। কেন্দ্র ও অসমের বিজেপি সরকারের নাম না করেই এ দিন তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘আগুন নিয়ে খেলবেন না।’’ অসমের শাসক দল বিজেপি, বিরোধী দল কংগ্রেস-সহ অসমের সব দলের নিশানাতেই এখন মমতার এই মন্তব্য। বিজেপির তরফে বলা হয়, মমতা হয় নাগরিক পঞ্জি ব্যাপারটা বোঝেনই নি, না হলে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য এমন মন্তব্য করেছেন। বিজেপি মুখপাত্র রূপম গোস্বামীর মতে, মমতা নিজে ভোট ব্যাঙ্ক মজবুত করতে বাংলাদেশিদের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় দিয়েছেন। এখন অসম বিদেশিমুক্ত রাজ্য তৈরির জন্য যে পদক্ষেপ করছে তা যদি বাংলাতেও লাগু হয় তাহলে দিদির ভোটব্যাঙ্ক শেষ হয়ে যাবে। সেই ভয়েই হয়ত এমন সব উক্তি। বিজেপির দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে হওয়া আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এমন মন্তব্য খোদ সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা।
বাঙালি বিএসএফ জওয়ানকে হত্যার বদলা নিল ভারত, খতম ১৫ পাক রেঞ্জার্স-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
এক বিএসএফ জওয়ানকে হত্যার অপরাধে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দিল ভারত। সূত্রের খবর, বুধবার তিনটি পাক সেনাঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ভারতীয় জওয়ানরা। নিকেশ করেছেন অন্তত ১৫ জন পাক সেনাকে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর এত বড় মাপের অভিযান চালায়নি ভারত। ভারতের এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কোনও দুশমনকেই দেশের আব্রুর দিকে চোখ তুলে তাকাতে দেবে না ভারতের সশস্ত্র সেনা।
বুধবার বিকেল চারটে নাগাদ জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টরে ৫০ বছরের বিএসএফের হেড কনস্টেবল বাঙালি রাধাপদ হাজরার দিকে বিনা প্ররোচনায় গুলি চালায় পাক রেঞ্জার্স। গুলিতে প্রাণ হারান রাধাপদবাবু। এরপরই বিএসএফ শপথ নেয়, যে তিনটি পাক ফরোয়ার্ড পোস্ট থেকে গুলি চলেছে, সূর্য ওঠার আগেই সেগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। সেই মতো ছক কষে আজ ১৫ পাক রেঞ্জার্সকে খতম করল ভারতীয় সেনা। যদিও বিএসএফ বা প্রতিরক্ষামন্ত্রক এখনও এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেনি।
জানেন কি, হোয়াটসঅ্যাপে মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আপনার আধার নম্বর-দৈনিক আজকাল
আধার নম্বরটা অনেকটা ডেবিট কার্টের পাসওয়ার্ডের মত হোয়েগিয়েছে। কেউ জেনে ফেললে বিপদ হতে পারে। আধার নম্বর লিক হওয়া মানে আপনার যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে এসে পড়া। এই নিয়ে আধার প্রস্তুত কারক সংস্থাকে কড়া বার্তাও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নাগরিকদের যাবতীয় ব্যক্তিগত তথ্য যাতে গোপন থাকে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু জানেন কী এত সাবধানতার পরেও মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়ে যাচ্ছে আপনার আধার নম্বরের যাবতীয় তথ্য। একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে চলছে এই লেনদেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লাখ লোকের আধার নম্বর ওই হোয়াটসঅ্যাপ মারফৎ মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়ে গিয়েছে। দ্য ট্রিবিউন নামে এক ইংেরজি দৈনিকের হাতে উঠে এসেছে এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য। দৈনিকের এক সাংবাদিক খবরটি জানার পর নিজেই গ্রাহক সেজে ওই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে আধার নম্বর কেনার আগ্রহ দেখায়। কয়েক মুহূর্ত কথা বার্তার পর পেটিএম–এ মাত্র ৫০০টাকা দিয়ে তিনি পেয়ে যান একটি আধার নম্বর। সেই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে এক এজেন্ট তাঁকে আধার সাইনের লগ ইন এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে দেয়। যেখানে আধার নম্বরটি লিখলেই যাবতীয় নথি পেয়ে যান তিনি। নাম, ঠিকানা, ছবি, ফোননম্বর, মেল আইডি পর্যন্ত পেয়ে যান তিনি। এখানেই থেমে থাকে না কর্মকাণ্ড এর পরে ওই এজেন্ট তাঁকে একটি সফট ওয়্যার দেন যার মাধ্যমে ওই আধারকার্ডটি তিনি প্রিন্ট করতে পারেন। তার জন্য অবশ্য আরও ৩০০ টাকা তাঁকে দিতে হয়েছে। ইউআইডিআইকে পুরো ঘটনার তথ্য দিতেই তাঁরা চমকে ওঠেন। তদন্তে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ৬ মাস আগে ঘটনাটি শুরু হয়েছিল।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৪