৫ জানুয়ারির ভোট ভোটারবিহীন নয়: প্রধানমন্ত্রী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। ৭ জানুয়ারি রোববারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- তুলে নিয়ে বিয়ে করলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার!-দৈনিক যুগান্তর
- নাজমুল হুদার আবেদন খারিজ, আত্মসমর্পণ করতে হবে-দৈনিক ইত্তেফাক
- নিজের ছকেই নেই নির্বাচন কমিশন-প্রথম আলো
- পদত্যাগ করেছেন ৩ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল-দৈনিক মানবজমিন
- এমপিরা আবারো মনোনয়ন পাচ্ছেন ভাবলে ভুল হবেদলীয় বৈঠকে শেখ হাসিনা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- জনগণের সমর্থন আছে বলেই সরকার চার বছর পূর্ণ করেছে : প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- মোদীর চিন্তা কৃষি, ঘাটতি নিয়েও চাপ-দৈনিক আনন্দবাজার
- আধার তথ্য ফাঁস প্রকাশ্যে এনে বিপাকে সংবাদমাধ্যম, দায়ের এফআইআর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- বাংলা অ্যাকাডেমির সভাপতির ছাড়তে চান শাঁওলি মিত্র-দৈনিক আজকাল
প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
নিজের ছকেই নেই নির্বাচন কমিশন-প্রথম আলো
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের ঘোষণা করা কর্মপরিকল্পনা ঠিক সময়ে বাস্তবায়ন করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ডিসেম্বরের মধ্যে মোটা দাগে যে তিনটি কাজ করার কথা ছিল, সেগুলো শুরু হলেও শেষ হয়নি। কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন কমিশন গত ১৬ জুলাই নিজেদের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।
২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাতটি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে ইসি। এগুলো হচ্ছে আইনি কাঠামো পর্যালোচনা ও সংস্কার, নির্বাচনপ্রক্রিয়া সহজ ও যুগোপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ গ্রহণ, সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও সরবরাহ, ভোটকেন্দ্র স্থাপন, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও নিবন্ধিত দলের নিরীক্ষা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা বাড়ানো।
এগুলোর মধ্যে গত ডিসেম্বরে তিনটি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, এগুলোই ছিল কমিশনের মূল কাজ। কিন্তু ৩০০ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ চূড়ান্ত করার কথা থাকলেও তা হয়নি। এ সময়ের মধ্যে আইন সংস্কারের খসড়া প্রস্তুত করার কথা ছিল, তা–ও চূড়ান্ত হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে কিছু আইনি সংস্কারের খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে। এ ছাড়া পরামর্শ নেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়ে সংলাপ করতে পারলেও সুপারিশ চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করতে পারেনি ইসি।
৫ জানুয়ারির ভোট ভোটারবিহীন নয়-প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইনকিলাব
দশম সংসদ নির্বাচনকে ভোটারবিহীন বলে বিএনপির সমালোচনাকে নাকচ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওই নির্বাচনে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
আর জনগণের সমর্থন আছে বলেই সরকার চার বছর পূর্ণ করেছে। বিএনপি বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত দাবি করলেও শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা করা আমাদের লক্ষ্য ছিল। খালেদা জিয়া চেয়েছিল এদেশে যেন গণতান্ত্রিক ধারা না থাকে।
এমপিরা আবারো মনোনয়ন পাচ্ছেন ভাবলে ভুল হবেদলীয় বৈঠকে শেখ হাসিনা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপিদের পুনরায় সতর্ক করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান এমপিরা আবারো মনোনয়ন পাচ্ছেন এমনটি ভেবে থাকলে ভুল হবে। এমপিদের মধ্যে কারা কী কাজ করছেন তার সব রিপোর্ট আমার কাছে আছে। সবাইকে কাজ করতে হবে। কেবলমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতেই মনোনয়ন দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গতকাল শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
আর দৈনিক যুগান্তরের খবরে লেখা হয়েছে, আগুন দিয়ে যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, আগামী নির্বাচনে বাংলার মানুষ তাদের সমর্থন করবে না বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
মন্ত্রিসভায় কেন হঠাৎ পদবদল?-প্রথম আলো
প্রথম আলোর কালের পুরাণে- কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান তার বিশ্লেষণে লিখেছেন, শেখ হাসিনার একটানা ক্ষমতার নয় বছর এবং ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের চার বছরের আগমুহূর্তে মন্ত্রিসভায় সামান্য যোগ এবং অসামান্য দপ্তর বদলের পেছনে কী গূঢ় রহস্য আছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন চলছে।
মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক পরিবর্তনে লক্ষণীয় বিষয় হলো, আওয়ামী লীগের বাইরে থেকে আসা মন্ত্রীদের দপ্তরগুলোতেই বেশি পরিবর্তন এসেছে। কারও কারও সঙ্গে একজন করে প্রতিমন্ত্রী জুড়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভায় যে দুজন নতুন পূর্ণ মন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন, তার একজন টেকনোক্র্যাট কোটায়-মোস্তাফা জব্বার, আরেকজন শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর থেকে নির্বাচিত সাংসদ। তাঁর ভাই মাকসুদ কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি। সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। সম্প্রতি এই দপ্তরের পূর্ণ মন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যাওয়ায় পদটি খালি হয়। দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিযোগ ছিল, ৫৩ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তাঁদের মধ্য থেকে একজন পূর্ণ মন্ত্রী নেওয়া হয়নি। সবাই প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও বিবেচনায় নিয়ে থাকতে পারেন। মন্ত্রিসভার দপ্তর অদলবদলের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগার ও আওয়ামী লীগার নন-স্পষ্ট দুটো সীমারেখা টানা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন। আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন এমন কোনো জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দপ্তর বদল হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগের বাইরের তিন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দপ্তর বদল হয়েছে। অদলবদলে কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন বা হারালেন, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো কিসের ভিত্তিতে এই পরিবর্তন আনা হলো? এ ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা অগ্রাধিকার পেয়েছে নাকি অন্য কিছু? যাঁরা একাধারে চার বছর একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, আগামী এক বছর ভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সুবিধা করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও আছে। আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে জোটের শরিক মন্ত্রীদের ব্যাপারে নানা রকম আপত্তি ও সমালোচনা আছে। দলের যেসব কেন্দ্রীয় নেতার কপালে মন্ত্রিত্ব জোটেনি, তাঁরাই এ ব্যাপারে বেশি সরব। মন্ত্রিসভায় দপ্তর অদলবদলের সঙ্গে আগামী নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ থাকাটাও অস্বাভাবিক নয়। কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন, সেটিও বিচার্য বিষয় হতে পারে।
তুলে নিয়ে বিয়ে করলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার!-দৈনিক যুগান্তর
কেনই বা সে আমাকে জোর করে বিয়ে করল, কেনই বা ৪ মাস সংসার করল আর কেনই বা আমাকে জেলে পাঠাল- তা বুঝতে পারছি না। আমি কোনো প্রতারক নই। আমি ডিআইজি মিজানের বৈধ স্ত্রী। সে আমার সঙ্গে এতদিন সংসার করল। কিন্তু স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ছবি আপলোড করায় চরম ক্ষেপে যায়। বাসা ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। এখন শুনছি, আমার বিরুদ্ধে ভুয়া কাবিন করার অভিযোগ এনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। যে কারণে আমি প্রথম মামলায় জামিন পেলেও দ্বিতীয় মামলায় ফের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আমি রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে এর সুবিচার চাই। কেন আমার মতো অবিবাহিত মেয়ের জীবন এভাবে একজন ক্ষমতাধর ডিআইজি ছিন্নভিন্ন করে দিল?’ কথাগুলো মরিয়ম আক্তার ইকোর। বয়স আনুমানিক ২৫। সম্প্রতি প্রতিবেদক তার সাক্ষাৎকার নিতে সক্ষম হন। এতে এ বিয়ের আগে-পরের চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ৫০ লাখ টাকার ভুয়া কাবিনসংক্রান্ত মামলার তথ্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে অকল্পনীয় ও নজিরবিহীন এ ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা শোনা যায়। যা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুন্দরী মেয়েকে ফাঁদে ফেলে কিভাবে তার কানাডার বিয়ে ভেঙে দেয়াসহ পুরো পরিবারের সুখস্বপ্ন চুরমার করে দেয়া হয়েছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জনৈক সংবাদ পাঠিকার সংযোগও পাওয়া যায়। যার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে পড়ে।
যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মরিয়ম আক্তার ইকোর চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য : বললেন- ‘ডিআইজি মিজান (ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার) আমাকে বাসার নিচ থেকে জোরপূর্বক তুলে রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে মারধর করে রাতে তার বেইলি রোডের বাসায় নিয়ে আসেন। সুস্থ করার নামে একজন ডাক্তারের উপস্থিতিতে ওষুধ খাইয়ে আমাকে অজ্ঞান করা হয়। এ সময় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের ডাক্তার বন্ধু বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন গাজী শামীম হাসান উপস্থিত ছিলেন। মরিয়ম ইকো পরদিন দুপুর ১২টার দিকে ঘুম থেকে জেগে দেখতে পান তার পরনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানের স্লিপিং ড্রেস এবং তিনি তার বেডরুমে। বুঝতে পারেন, তার সর্বনাশ হয়ে গেছে। এরপর কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আত্মহত্যা করবেন বলে দৌড়ে রান্নাঘর খুঁজতে থাকেন। এ সময় তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দু’জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী ও গাড়িচালক। ওদের ঠেলে ফেলে তিনি রাগে-ক্ষোভে-দুঃখে রান্নাঘরে ঢুকে গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে ওড়নায় আগুন লাগিয়ে দেন। এ সময় খবর পেয়ে ডিএমপি কার্যালয় থেকে ছুটে আসেন মিজানুর রহমান। ইকোকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। আশ্বাস দেন তাকে দ্রুত তার বাসায় রেখে আসবেন। ইকোর প্রশ্নের মুখে তিনি আগের রাতে ড্রেস খুলে ফেলাসহ খারাপ আচরণের জন্য ক্ষমা চান। কিন্তু তাকে শান্ত করতে না পেরে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলেন। এভাবে ১৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ৩ দিন মেয়েটিকে বাসায় আটকে রাখেন তিনি। ইকোর বাবা বেঁচে নেই। খবর দেয়া হলে বগুড়া থেকে তার মা কুইন তালুকদার ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় ডিআইজির বেইলি রোডের বাসায় এসে উপস্থিত হন। মেয়েকে কেন এভাবে আটকে রাখা হয়েছে জানতে চাইলে ডিআইজি মিজান ধমক দিয়ে বসিয়ে রাখেন। এরপর বলেন, এখান থেকে মুক্তির একটাই পথ আছে। তা হল আপনার মেয়েকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে। এতে মা-মেয়ে কেউ রাজি না হলে টেবিলে ব্যক্তিগত পিস্তল রেখে মা-মেয়েকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। অনেক বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা কাবিনে মেয়েকে তার কাছে বিয়ে দিতে বাধ্য করা হয়। বিয়ে পড়ানোর জন্য মগবাজার কাজী অফিসের কাজীকে ডেকে আনা হয়। বিয়ের উকিল বাবা হন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক গিয়াসউদ্দিন। এছাড়া সাক্ষী করা হয় দেহরক্ষী জাহাঙ্গীরকে। বিয়ের পর ওই রাতে মা-মেয়েকে ছেড়ে দেয়া হয়।
পরে লালমাটিয়ায় ৫০ হাজার টাকার ভাড়া ফ্ল্যাটে নিয়ে গোপনে সংসার শুরু করেন ডিআইজি মিজান। ওই ফ্ল্যাটের নিচে সাদা পোশাকে সার্বক্ষণিক পুলিশের দু’জন সদস্যকে পাহারায় রাখা হয়। এর ফলে ইকো এক রকম গৃহবন্দি হয়ে পড়েন। তার ব্যক্তিগত জীবন বলতে কিছু ছিল না। অনেকটা জেলখানার মতো। অনেক চেষ্টা করেও নিজের ভাইকে ফ্ল্যাটে রাখার অনুমতি পাননি। কথায় কথায় তাকে মারধর করতেন ডিআইজি মিজান। এভাবেই কেটে যায় ৪ মাস। একদিন তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজানকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অফিসে মুডে থাকা একটি ছবি ফেসবুকে আফলোড করেন। এতেই চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন মিজানুর রহমান। এ ছবির বিষয়টি পুলিশের উপর মহলে জানাজানি হয়ে যায়। ফেসবুক থেকে দ্রুত ছবিটি সরিয়ে ফেলতে তিনি লালমাটিয়ার বাসায় ছুটে আসেন। সেখানে বিষয়টি নিয়ে স্ত্রী ইকো, শাশুড়ি কুইন তালুকদারের সঙ্গে তার চরম মাত্রায় বাকবিতণ্ডা হয়।
এদিকে সেপ্টেম্বরের এ ঘটনার পর তাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। ইকো সমাজিকভাবে ডিআইজি মিজানের স্ত্রী পরিচয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অটল থাকেন। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় গোপন রেখে বাসা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলা করা হয়। এ মামলায় ইকোকে ১২ ডিসেম্বর পুলিশ গ্রেফতার করে। ১৩ ডিসেম্বর আদালতে হাজির করার পর তার জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় তাকে কারাগারে যেতে হয়। পরে তার বিরুদ্ধে ভুয়া কাবিন করার অভিযোগ এনে আরও একটি মামলা করা হয়। আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদক ভুয়া কাবিননামার মামলাটি অনুসন্ধান করতে গেলে একে একে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বিস্তারিত বেরিয়ে আসে। সূত্র বলছে, যুগান্তরের তথ্যানুসন্ধানের বিষয়টি আঁচ করতে পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিজান প্রভাব খাটিয়ে কৌশলে তার জামিনের ব্যবস্থা করেন। ২১ দিন কারাভোগের পর তিনি ১ ডিসেম্বর জামিন পান। কিন্তু তাকে জামিন দেয়া হয় ভুয়া কাবিননামার মামলার বাদী কাজী সেলিম রেজার জিম্মায়। এর মধ্যে প্রতিবেদক তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিতে সক্ষম হন। তবে বর্তমানে ইকো কোথায় আছেন তা জানা সম্ভব হয়নি।
পদত্যাগ করেছেন ৩ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল-দৈনিক মানবজমিন
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন তিন সহকারী অ্যাটর্নি জেলারেল। রোববার দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন এ তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগকারীরা হলেন- সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মামুন, এআরএম হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল ও জাহাঙ্গীর হোসেন। সম্প্রতি ৩৪ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল করেছে সরকার।
ঘুষগ্রহণের মামলায় নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ-দৈনিক ইত্তেফাক
ঘুষগ্রহণের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে নাজমুল হুদা নিজেই শুনানি করেন। এ সময় দুদকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
খুরশীদ আলম বলেন, লিভ টু আপিলের জন্য এফিডেভিট করতে অনুমতির আবেদন করেছেন নাজমুল হুদা। আদালত আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন। এখন হাইকোর্টের রায় পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত
মোদীর চিন্তা কৃষি, ঘাটতি নিয়েও চাপ-দৈনিক আনন্দবাজার
গুজরাটের গ্রামের কৃষকদের ভোট না মেলায় নরেন্দ্র মোদীর কপালে চিন্তার ভাঁজ ছিলই। এ বার আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসে কৃষিতে বৃদ্ধির হার ২.১ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা কার্যত ঘুম কেড়ে নিয়েছে মোদী সরকারের।
নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০২২-এ তিনি কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করে দেখাবেন। প্রশ্ন উঠেছে, এত কম বৃদ্ধি নিয়ে কী ভাবে তা সম্ভব হবে?
গুজরাতের ভোটের পরেই প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে অর্থ মন্ত্রকে স্পষ্ট নির্দেশ গিয়েছিল, বাজেটে কৃষির হাল ফেরানোর দাওয়াই চাই। কৃষিতে বৃদ্ধির হার যে ভাবে কমছে, তার পরে বাজেটে কৃষি ক্ষেত্রের জন্য দরাজ হওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির সামনে।কৃষকেরা বহু দিন ধরেই ফসলের নায্য দামের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
আধার তথ্য ফাঁস প্রকাশ্যে এনে বিপাকে সংবাদমাধ্যম, দায়ের এফআইআর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
এক পরিচয়ে বাঁধা পড়ছে গোটা দেশ। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ফোন নম্বর- জরুরি হচ্ছে আধার। সেই আধারেরই তথ্য কিনা ফাঁস হচ্ছে হোয়্যাটসঅ্যাপের খোলা বাজারে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ট্রিবিউন-এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পরই হইচই পড়েছিল গোটা দেশে। এবার ওই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের নামে এফআইআর দায়ের করল ইউআইডিএআই।
ইউআইডিএআই-এর তরফে ডেপুটি ডিরেক্টর বিএম পট্টনায়েক সংবাদপত্রটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর এফআইআর-এ নাম আছে সাংবাদিক রচনা খায়রা ও আরও তিন জনের। খবর প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাঁরাও প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছিল, সোর্স মারফত এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ট্রিবিউন-এর এক সাংবাদিক। ওই এজেন্টকে ৫০০ টাকা দেওয়া হয় পেটিএমে। ১০ মিনিটের মধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপে চলে আসে একটি লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড। ওই লগ ইন ও পাসওয়ার্ড দিতেই খুলে যায় আধারের বিপুল তথ্যভাণ্ডার। এখানেই শেষ নয় কেলেঙ্কারির। ওই এজেন্টকে আরও ৩০০ টাকা দিলেই হাতে আসবে এমন একটি সফটওয়্যারের সিডি, যার সাহায্যে আপনি যত খুশি আধার কার্ড প্রিন্ট করতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবেই এ খবর প্রকাশমাত্র দেশে শোরগোল পড়ে।
বাংলা অ্যাকাডেমির সভাপতির ছাড়তে চান শাঁওলি মিত্র-দৈনিক আজকাল
কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছে। যে কাজের জন্য তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাইই ঠিকঠাক করা হয়ে উঠছে না। ফলে পদে থাকার কোনও যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। বাংলা আকাদেমির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব শাঁওলি মিত্র।
রাজ্যে পরিবর্তনের অন্যতম মুখ ছিলেন পদ্মশ্রী এই অভিনেত্রী। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম গণআন্দোলনের সময় সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে সেদিন দ্বিধা করেননি। পালাবদলের পর বাংলা আকাদেমির কাজে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হয় তাঁকে। আকাদেমির উদ্যোগে রবীন্দ্র রচনাবলী প্রকাশের কাজ শুরু করেন। পরে মহাশ্বেতা দেবীর প্রয়াণের পর আকাদেমির সাধারণ কাজের ভারও তাঁর উপর গিয়েই পড়ে। সে কাজ তিনি করেও চলেছিলেন। কিন্তু তাল কাটে সম্প্রতি। শাঁওলি জানাচ্ছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে তাঁর। যে কাজ, যেভাবে করতে চাইছেন তা করতে পারছেন না। পরিকাঠামোগত কিছু সমস্যা হচ্ছে। কোনও কারণে সরকার তার সুরাহাও করতে পারছে না।
বাজপেয়ী-প্রণব মুখোপাধ্যায়কে কি ছাড়তে হবে সরকারি বাসভবন?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
তাঁরা প্রাক্তন। মসনদ থেকে বহু দূরে। আপাতত ঠিকানা সরকারি আবাস। কিন্তু সেখানে প্রণব মুখোপাধ্যায়, মনমোহন সিং কিংবা অটলবিহারী বাজপেয়ী আর কতদিন থাকতে পারবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল গোপাল সুব্রহ্মণ্যমের পরামর্শ সুপ্রিম কোর্ট মেনে নিলে সমস্যায় পড়তে পারেন প্রাক্তনরা। তাঁদের বাসভবন ছাড়তে হবে। উদ্বেগের তালিকায় রয়েছেন প্রতিভা পাটিল, দেবেগৌড়ারাও।
দিল্লি সরকারের জমিতে থাকেন দেশের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতিরা। প্রাক্তন হয়ে যাওয়ার পর এভাবে সরকারের জমিতে থাকা আসলে দখল করার শামিল। এমনই যুক্তি দেখিয়ে কয়েক মাস আগে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৭