জানুয়ারি ২২, ২০১৮ ১২:২৪ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২২ জানুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • জাতীয় পার্টির ৯ বছ‌রে দেশে কোনো গুম খ‌ুন হয়‌নি : এরশাদ-দৈনিক কালের কণ্ঠ
  • জনগণ কোন দুর্নীতিবাজকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায় না: হানিফ-দৈনিক ইত্তেফাক
  • জোরালো ভূমিকা নেয়নি নির্বাচন কমিশন-দৈনিক প্রথম আলো
  • তিন জেলায় মাদকের ৬৮ গডফাদার-দৈনিক মানবজমিন
  • সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই শিক্ষামন্ত্রীর পিওসহ ৩ জনকে গ্রেফতার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • তিন কারণে শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসাতে হবে-তারানা হালিম-দৈনিক যুগান্তর

ভারতের শিরোনাম:

  • ক্ষমতা ভাল, তার অকারণ প্রদর্শন বিপজ্জনক-আনন্দবাজার
  • মোদির আমলে আম আদমির সুরাহা হয়নি, ধনী আরও ধনী হয়েছে-দৈনিক আজকাল
  • নিয়ন্ত্রণরেখায় ফের গোলাবর্ষণ পাক সেনার, নিহত ১ ভারতীয়-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

প্রিয় পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

রাজনীতির নানামুখী খবর ছাপা হয়েছে আজকের জাতীয় দৈনিকগুলোর অনলাইন সংস্করণ ও অনলাইন পোর্টালগুলোতে। 

তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম

দৈনিক যুগান্তরের খবর-তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, তিন কারণে শেখ হাসিনাকে আবার প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। এগুলো হল- উন্নয়ন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন ও জাতিকে মাথা উঁচু করে চলা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

দৈনিক প্রথম আলোর একটি খবরে লেখা হয়েছে- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ নয়াপল্টনে বলেছেন, নেতাদের  জেলে রেখে কোনো ভোট হবে না। তিনি আরো বলেছেন, সরকার সর্বক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে।

দৈনিক কালের কণ্ঠের খবর-জাতীয় পা‌র্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ব‌লে‌ছেন, জাতীয় পা‌র্টির সাম‌নে আশার আলো এসে‌ছে। জাতীয় পার্টির ৯ বছ‌রে দেশে কোনো গুম খ‌ুন হয়‌নি, দেশের মানুষ ওই সময়ে ফিরে যে‌তে চায়।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আবারও প্রমাণ করবে তারা আর কোন দুর্নীতিবাজকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন স্থগিত নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্থগিত ঢাকা উত্তর  সিটি করপোরেশন নির্বাচন- জোরালো ভূমিকা নেয়নি নির্বাচন কমিশন এ শিরোনামের খবরে দৈনিক প্রথম আলো লিখেছে, তফসিল ঘোষণার পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং দুই সিটির নতুন যুক্ত হওয়া ওয়ার্ডের নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবিধানের ১২৫ (গ) অনুচ্ছেদ অনুসরণ না করায় প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়েও। আলোচনা হচ্ছে, রিট দায়েরের খবর জানার পর শুনানিতে তাদের অংশ না নেওয়া এবং এর বিপরীতে গণমাধ্যমে আদালতের আদেশ জানার পর তফসিল স্থগিত করার ক্ষেত্রে ইসির দ্রুত উদ্যোগের বিষয়টি নিয়ে।

২০১১ সালে ইসির পরামর্শে সংবিধানে একটি অভূতপূর্ব বিধান যুক্ত হয়েছিল। সেই ১২৫ (গ) বিধানে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে ‘যুক্তিসংগত নোটিশ ও শুনানির’ সুযোগ না দিয়ে আদালত কোনো আদেশ দেবেন না।

পদবঞ্চিতদের তোপের মুখে ওবায়দুল কাদের-দৈনিক সমকাল/প্রথম আলো

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পদ নিয়ে গতকাল শনিবার পদবঞ্চিতদের তোপের মুখে পড়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তার সামনেই ক্ষোভ এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পদবঞ্চিতরা। 

তিন জেলায় মাদকের ৬৮ গডফাদার-দৈনিক মানবজমিন

তিন জেলায় ৬৮ মাদক গডফাদার

তিন জেলার মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে ৬৮ গডফাদার। আর এ মাদক বিক্রিতে জড়িত ৩০৬ কারবারি। ১২৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সহায়তা করছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলায় কে কীভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তার বিস্তারিত  তুলে ধরা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক জেলা চট্টগ্রাম ও সীমান্তবর্তী জেলা কুমিল্লা এবং ব্রাক্ষণবাড়িয়ার জেলার কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

তাদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)- সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসৎ সদস্য সহায়তা করছে। তাদের সহায়তা পেয়ে রাজনৈতিক নেতা নামধারী মাদক ব্যবসায়িরা ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসা করে অল্প সময়ের মধ্যে বিত্ত-বৈভবের মালিক হচ্ছে।

নিহত বৃদ্ধকে মারধরের কথা রিমান্ডে স্বীকার সাজ্জাদের-দৈনিক যুগান্তর

নিহত নাজমুল হক

উচ্চস্বরে গানের প্রতিবাদ করায় নিহত বৃদ্ধ নাজমুল হককে মারধরের কথা রিমান্ডে স্বীকার  করেছে আসামি সাজ্জাদ।এ আসামি ঘটনার মূল হোতা ও রামকৃষ্ণ মিশন রোডের ৪৪ নম্বর বাড়ির ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেনের ছেলে।

গত শুক্রবার সকালে ওই বাড়িতে আলতাফের নেতৃত্বে নাজমুল হক ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়। এতে একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে মারা যান বৃদ্ধ নাজমুল।ওই দিনই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আলতাফ, তার ছেলে সাজ্জাদ, মেয়ে রায়য়ান হাসনিন ও তাদের আত্মীয় মির্জা জাহিদ হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই শিক্ষামন্ত্রীর পিওসহ ৩ জনকে গ্রেফতার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক নয়া দিগন্ত

খবরে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সে বিষযে আগামী দু-একদিনের মধ্যে জানানো হবে বলেও মন্ত্রী জানান।

পাঁচ বছরের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ঢাকাবাসী কানে কম শুনবে-দৈনিক যুগান্তরের প্রতিবেদন

শব্দ দূষণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ঢাকায় নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে গড়ে প্রায় দেড় গুণ বেশি শব্দদূষণ হচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শব্দদূষণের কারণে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ঢাকার মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ কানে কম শুনবে।

ঢাকায় শব্দদূষণের মূলে রয়েছে যানবাহন ও হর্নের শব্দ। তবে উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজানো, টাইলস লাগানো ও ড্রিল মেশিনের কারণেও তীব্র শব্দদূষণ হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শব্দদূষণের কারণে শ্রবণশক্তি হ্রাস, বধিরতা, হৃদরোগ, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, আলসার ও বিরক্তির মতো রোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানও শব্দদূষণে ক্ষতির শিকার হয়। ফলে শিশুদের শ্রবণশক্তি খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

নিয়ন্ত্রণরেখায় ফের গোলাবর্ষণ পাক সেনার, নিহত ১ ভারতীয়-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

কাশ্মির সীমান্তে গোলাগুলিতে এক ভারতীয় নিহত

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে ফের অবিরাম গোলাবর্ষণ করেছে পাক রেঞ্জার্সরা। রবিবার রাত থেকে বিএসএফ-এর ছাউনি লক্ষ্য করে পাক রেঞ্জার্সরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। ওই হামলায় নিহত হয়েছেন এক ভারতীয় নাগরিক। পাক আক্রমণের পালটা জবাব দিয়েছে বিএসএফ।

বড় সাফল্য দিল্লি পুলিশের, গ্রেপ্তার ভারতের ‘বিন লাদেন’-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

২০০৮ গুজরাট বিস্ফোরণের মূলচক্রী আবদুল সুভান কুরেশি ওরফে তওকিরকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। কুখ্যাত এই জঙ্গিকে বহুদিন ধরেই খুঁজছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সিমি ও ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সদস্য কুরেশি দেশের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের তালিকার একেবারে উপরের দিকে থাকা একটি নাম।

তাকে কবজায় আনাটা সহজ হয়নি একেবারেই। কুরেশির ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা পুলিশকে লক্ষ করে গুলি চালায়। পালটা গুলি চালান স্পেশ্যাল সেলের অফিসাররাও। রীতিমতো এনকাউন্টার চলে। বোমা বানাতে ওস্তাদ কুরেশিকে জীবন্ত গ্রেপ্তার করতে চাইছিল পুলিশ। কারণ, তার কাছ থেকে ভারতে ‘অ্যাক্টিভ’ স্লিপার সেল ও জঙ্গিদের নাশকতামূলক কাজকর্মের বহু তথ্য রয়েছে। ধৃতকে জেরা করে ভারতে জঙ্গিদের কোমর ভেঙে দেওয়া সম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে।

মোদির আমলে আম আদমির সুরাহা হয়নি, ধনী আরও ধনী হয়েছে-দৈনিক আজকাল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমলে দেশে সম্পদের অসম বণ্টন হয়েছ বলে জানালো একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষা। মানে ধনী আরও ধনী হয়েছে। তাদের হাতেই দেশের সম্পদ জমা হচ্ছে। অক্সফাম ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর দেশে উৎপাদিত সম্পদের ৭৩ শতাংশই কুক্ষিগত হয়েছে মাত্র এক শতাংশের হাতে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই এক শতাংশের মধ্যে নেই আম আদমি। আরও ভয়াবহ হল, ৬৭ কোটি গরিব ভারতীয়ের হাতে এসেছে মাত্র এক শতাংশ সম্পদ। রিপোর্ট অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে ধনী এক শতাংশের হাতে ২০১৭ সালে ২০.‌৯ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে। যা দেশের ২০১৭–১৮ সালের কেন্দ্রীয় সরকারের মোট বাজেটের সমান।

ক্ষমতা ভাল, তার অকারণ প্রদর্শন বিপজ্জনক-আনন্দবাজার

অধ্যাপক শঙ্খ ঘোষ

ক্ষমতা থাকা আর ক্ষমতা দেখানো এক বিষয় নয়। ক্ষমতাবান হওয়া দোষের নয়, কিন্তু ক্ষমতার দেখনদারিতে বড় বিপদ রয়েছে। শঙ্খ ঘোষের কণ্ঠ থেকে এল কথাগুলো, এল আপ্তবাক্যের মতো হয়ে।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেছেন কবি। প্রেসিডেন্সির বর্তমান গতিপ্রকৃতি বা চালচলনের বিষয়ে নিশ্চয়ই প্রাসঙ্গিক কথাগুলো। কিন্তু শুধুমাত্র প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, এ কথনের প্রাসঙ্গিকতার প্রেক্ষাপটটা আজ অনেকটা বড়।

এক সামান্য সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে শুরু করে শীর্ষ রাজনীতিক— ক্ষমতার আস্ফালনে উদ্‌গ্রীব এ সময়ে সকলেই। সমাজে, রাজনীতিতে, প্রশাসনে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে— সর্বত্র ক্ষমতা দেখানোর আশ্চর্য প্রতিযোগিতা, ভিড় আস্ফালনে উদগ্র অজস্র মুখের। বিপদের বীজটা ওই আস্ফালনের গর্ভেই।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২২