জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ ১৩:০৮ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৯ জানুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম: 

  • খালেদা জিয়া-তারেক ছাড়া ভোটে যাবে না বিএনপি-দৈনিক ইত্তেফাক
  • সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন-দৈনিক যুগান্তর
  • জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধ অবমাননার শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড-দৈনিক যুগান্তর
  • মাদক মানে বিষ- ইয়াবার গ্রামে কোটিপতি বাসিন্দা-দৈনিক প্রথম আলো
  • ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হবেন না : খালেদা জিয়া-দৈনিক মানবজমিন
  • এমপিদের সুপারিশের হাজার সেতু অপ্রয়োজনীয়-নির্বাচনকে সামনে রেখে চাহিদা বেড়েছে-দৈনিক ইনকিলাবদেশে ইয়াবা
  • ফেনসিডিলের প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • সচ্ছল সংসারে এত অশান্তি কেন? কারণ খুঁজুক বিজেপি-দৈনিক আনন্দবাজার
  • অমর্ত্য সেন ‘বিশ্বাসঘাতক’, নোবেলজয়ীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • সংখ্যালঘু তোষণ নয়,উন্নয়নই মোদি সরকারের মন্ত্র:‌ কোবিন্দ-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

খালেদা জিয়া-তারেক ছাড়া ভোটে যাবে না বিএনপি-দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না বিএনপি। সেই সাথে নির্বাচন প্রতিহত করা হবে। দলের নেতারা দাবি করছেন, বেগম জিয়াকে ’মাইনাস’ করে আগামী নির্বাচন করতে চাইছে সরকার। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছে বিএনপির প্রতিনিধিদল। ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত  হয়। এদিকে, আরপিও অনুযায়ী, আগামি নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ষড়যন্ত্রে বিভ্রান্ত হবেন না। 

আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আ’লীগের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।

মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যারা আন্দোলনে পরাজিত হয় তারা নির্বাচনেও পরাজিত হয়

দৈনিক যুগান্তরের খবর- জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধ অবমাননার শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড;আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হবে

খবরে লেখা হয়েছে, বহুল আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। খসড়ায় জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা, প্রচারণার মদদ দেয়ার শাস্তি অনধিক ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত করে ইলেকট্রনিক মাধ্যম বা ওয়েবসাইটে প্রচার করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের শাস্তি সাত বছর কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী মন্ত্রিসভায় অনুমোদন-দৈনিক যুগান্তর

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এখন ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রাখার বিধান রয়েছে এবং আগামী বছর জানুয়ারিতে এ বিধানের মেয়াদ শেষ হবে। তবে তার আগেই সরকার আগামী ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়াতে সংবিধানে নতুন সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে।

মাদক মানে বিষ- ইয়াবার গ্রামে কোটিপতি বাসিন্দা-দেনিক প্রথম আলো

ইয়াবা ব্যবসার মূল কেন্দ্র কক্সবাজারের টেকনাফ। এখান থেকেই সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সর্বনাশা এই মাদক। ব্যবসাটা চলে এভাবে-ঢাকা থেকে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হয় টেকনাফের বিশেষ একজনকে। জানাতে হয় কী পরিমাণ ইয়াবা লাগবে, কোথায় পাঠাতে হবে। ইয়াবা চলে যায় সেই ঠিকানায়। আর টাকা পাঠানোও এখন তো অনেক সহজ। ব্যাংক হিসাব তো আছেই, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তা এখন আরও সহজ। দ্রুত টাকা চলে যায় সেখানে। আর এভাবেই টেকনাফ থেকে প্রতিনিয়ত ইয়াবার চালান ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকাসহ সারা দেশে। আর্থিক, সামাজিক, মানবিক—নানাভাবে মাদক ইয়াবার আগ্রাসন দেশজুড়ে। বছরে এই বড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪০ কোটির মতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা (প্রতিটি দেড় শ টাকা দাম হিসেবে)। এই টাকার অর্ধেকই চলে যাচ্ছে ইয়াবার উৎসভূমি মিয়ানমারে। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার শুরু হয় ২০০৬ সাল থেকে।

ইয়াবা আসক্ত হলে ধ্বংস অনিবার্য-চাকরি হারাতে বসা ইয়াবা আসক্ত দুই পুলিশের উপলব্ধি-দৈনিক ইত্তেফাক

৪৭ বছর বয়সী পুলিশ কনস্টেবল শাহীন (ছদ্মনাম)। চাকরি করতেন নোয়াখালীর একটি থানায়। এখন তিনি মাদকাসক্ত। চিকিৎসা নিচ্ছেন রাজধানীর একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। অন্যদিকে সাব ইন্সপেক্টর হাফিজ (ছদ্মনাম)ও একই নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সারত। বয়স তার ৩৬ বছর। চাকরি করতেন একই জেলার একটি থানায়।

 তাদের কর্মস্থল থেকেই রাজধানীর ওই নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ওই নিরাময় কেন্দ্রে কথা হয় তাদের সঙ্গে। শাহীন বললেন, নোয়াখালীর ওই থানায় থাকাকালীন প্রায়ই মাদকবিরোধী অভিযানে ডিউটি করতেন। সেখান থেকেই ইয়াবা পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। ইয়াবা সেবনকারীদের কাছে জানতে পারেন, ইয়াবা সেবন করলে যৌন উত্তেজনা বাড়ে। এ কথা শুনেই ইয়াবার প্রতি তার আগ্রহ বাড়ে। ইয়াবাসক্তদের কাছ থেকেই সেবন করার সব নিয়ম-কানুন রপ্ত করে ফেলেন। এভাবে ধীরে ধীরে ইয়াবার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েন শাহীন। জানা যায়, শাহীন ও হাফিজ সবার মতোই পুলিশে চাকরি করতোন। ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তারা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ইয়াবা সেবন করে পুরোপুরি ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়েন। কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে গালমন্দ এমনকি গায়ে হাত তুলতেও দ্বিধা করেন না। তখন তাদের নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। গত কয়েক মাস ধরে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সা নিচ্ছেন শাহীন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চান। পুলিশের এই কনস্টেবল বলেন, এখন চাকরি হারানোর পথে। আমি তো মরছি। পুলিশের অন্য কেউ যেন এ পথে পা না বাড়ায়। পবিত্র পোশাক পরেও লোভ সামলাতে পারিনি। তবে খুব কাছ থেকে দেখেছি এই জগতটাকে। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছে গেছে ইয়াবা। আমাদের পুলিশের লোকও মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়। তাদের ঘুষ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।

দেশে ইয়াবা ফেনসিডিলের প্রবেশ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। খবরটি দৈনিক নয়া দিগন্তের ছাপা হয়েছে।

এমপিদের সুপারিশের হাজার সেতু অপ্রয়োজনীয়-নির্বাচনকে সামনে রেখে চাহিদা বেড়েছে-দৈনিক ইনকিলাব

গ্রামীণ জনপদে সেতু নির্মাণে জনগুরুত্বের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে থাকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সাধারণত হাটবাজার, স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালে যাওয়ার পথে সেতু নির্মাণে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। এর বাইরে স্থানীয় এমপিদের সুপারিশেও সেতু নির্মাণ করে এলজিইডি। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরকম প্রায় দুই হাজার সেতু নির্মাণের সুপারিশ জমা পড়েছে এলজিইডিতে। কিন্তু প্রাথমিক মূল্যায়নে এসব সুপারিশের প্রায় অর্ধেক সেতুই অপ্রয়োজনীয় বলে চিহ্নিত করেছে এলজিইডি।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

সচ্ছল সংসারে এত অশান্তি কেন? কারণ খুঁজুক বিজেপি-দৈনিক আনন্দবাজার

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এই মুহূর্তে সাফল্যের তুঙ্গে। ভারতের যতগুলি রাজ্য এখন বিজেপি তথা এনডিএ-র শাসনে, এর আগে কখনও ততগুলি রাজ্যে একসঙ্গে ক্ষমতায় আসেনি এই জোট। সংসদেও রয়েছে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা, এনডিএ-র ইতিহাসে বেনজির। এত সচ্ছল যে সংসার, সেখানে পর পর কেন মাথাচাড়া দেবে সমস্যা? কেনই বা কোনও সমস্যাই মিটবে না সহজে? কেনই বা ফাটলগুলো মিলিয়ে যাওয়ার বদলে প্রতিটি ক্ষেত্রে শুধু প্রশস্তই হতে থাকবে? এনডিএ নেতৃত্বকে তথা বৃহত্তম শরিক বিজেপি-কে কিন্তু এখন তলিয়ে ভাবতেই হবে এ বিষয়টা। উত্তরটা যত দ্রুত সম্ভব খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

অমর্ত্য সেন ‘বিশ্বাসঘাতক’, নোবেলজয়ীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। অমর্ত্য সেনকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তাঁর অভিযোগ, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়ালে দেশের টাকা লুট করা ছাড়া আর কিছুই করেননি অমর্ত্য সেন।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। বিজেপি সরকার বেছে বেছে আরএসএস নেতাদের ‘পদ্ম’ পুরস্কার দিচ্ছে বলে অভিযোগে সরব হয় কংগ্রেস। ওই অভিযোগের পালটা বক্তব্যে সংবাদ সংস্থা এএনআই সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বলেন, ‘আরএসএস কর্মীরাও ভারতের নাগরিক। তাঁরা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে দেশের সেবা করে চলেছে কোনও পুরস্কারের লোভ ছাড়াই।’ এরপরই অমর্ত্য সেনকে নিশানা করে স্বামী বলেন, ‘এনডিএ সরকার অমর্ত্য সেনকে ভারতরত্ন দিয়েছে। কী এমন করেছেন তিনি? নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে লুট করেছেন শুধুমাত্র। বাম ঘেঁষা ও সোনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদেই ওই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।’

সংখ্যালঘু তোষণ নয়,উন্নয়নই মোদি সরকারের মন্ত্র:‌ কোবিন্দ-দৈনিক আজকাল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম বাজেট অধিবেশনের যৌথসভায় বক্তৃতা করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। আর সেই ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু মোদি সরকারের প্রশংসাই করে গেলেন তিনি। দ্বরাজ গলায় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের রাজনীতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের তোষণ নয়, মোদি সরকারের মন্ত্রই হল উন্নয়ন। কৃষকদের কথা অত্যন্ত সমবেদনার সঙ্গে চিন্তা করে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে বদ্ধ পরিকর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।  কেন্দ্রের এবং কৃষকদের যৌথ প্রচেষ্টাতেই এবার দেশে রেকর্ড ফলন হয়েছে। প্রায় ২৭৫ মিলিয়ন টন খাদ্য উৎপাদিত হয়েছে দেশে। এর থেকেই স্পষ্ট কেন্দ্র কতটা কৃষকদের কথা ভাবনাচিন্তা করে। তাঁদের উন্নয়নের জন্য সর্বদা কাজ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে যে দেশের অর্থনীতির উন্নত হবে না,সেই লক্ষ্যেই উন্নয়নের পথে হাঁটছে মোদি সরকার।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৯