ধরপাকড় অব্যাহত-সারা দেশে ১৩ দিনে ৪ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিএনপির দাবি
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১২ ফেব্রুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয়: কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
- ব্যাংকে হঠাৎ টাকায় টান-দৈনিক প্রথম আলো
- ধরপাকড় অব্যাহত-সারা দেশে ১৩ দিনে ৪ হাজার ছাড়িয়েছে-দৈনিক যুগান্তর
- ‘চিরকাল আমিও ক্ষমতায় ছিলাম না, আওয়ামী লীগও থাকবে না-এরশাদ-দৈনিক মানবজমিন
- মানববন্ধনে ঢল : খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবো না : ফখরুল-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- রূপা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- নীতি থাকলে কি এমন জোট করত বিজেপি-মানিক সরকার?’-দৈনিক আনন্দবাজার
- বেসরকারি হাসপাতাল জানাল এডস, ‘ভুল’ রিপোর্টের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- সংবাদ প্রতিদিনের অন্য একটি খবরের শিরোনাম-দেশের জওয়ানদের অপমান করেছেন মোহন ভাগবত, তোপ রাহুলের
- এবার মুখ খুললেন সাবেক আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষ-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
মানববন্ধনে ঢল : খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবো না : ফখরুল-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে `ভিত্তিহীন বানোয়াট' মামলায় সাজা প্রদানের প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে ঢাকাসহ সারাদেশে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বিএনপি। আজ সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঢাকা সহ সারাদেশে মানববন্ধন পালন করা হয়। মানববন্ধনে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছিল।
মানবন্ধনে দলের মহাসচিব ও জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়েছে। তাই খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাবো না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকেবেন আর দেশে ভোট হবে, এমনটি হবে না।
দৈনিক ইত্তেফাকের খবর-সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। তবে জেলখানা আর গুলশানের বাসভবন এক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। কক্সবাজারে ওবায়দুল কাদের বলেছেন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম একটি শিরোনামে লেখা হয়েছে, খালেদা জিয়াকে নাশকতার তিন মামলায় গ্রেফতার দেখাবে পুলিশ।
কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে-দৈনিক প্রথম আলো
বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল থেকে সরবে না আ. লীগ।
• খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি মামলা আছে।
• শঙ্কায় বিএনপি।
• নির্বাচনে খালেদার অংশ নেওয়া নিয়ে সংশয়।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ হতে পারে। তাঁর বিরুদ্ধে যে চারটি মামলায় এখন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তা কার্যকর করা হবে। এই চার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। খালেদা জিয়াসহ অন্য যেসব নেতার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি ৩০ জানুয়ারি থেকে পুলিশ দেশব্যাপী যে ধরপাকড় অভিযান শুরু করেছিল, তা অব্যাহত থাকবে। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দেশে সহিংসতার যে আশঙ্কা করেছিল পুলিশ, তা হয়নি। বরং বিএনপি নমনীয় অবস্থানে রয়েছে। আওয়ামী লীগ ও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। রায়ের পরের পরিস্থিতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর ভেতরেও একধরনের স্বস্তি রয়েছে। এভাবে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল থেকে সরে আসবে না ক্ষমতাসীন দল।
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিবেদন-বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়-পরবর্তী পরিস্থিতি বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারা মনে করছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।
ধরপাকড় অব্যাহত-সারা দেশে ১৩ দিনে ৪ হাজার ছাড়িয়েছে-দৈনিক যুগান্তর
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার রাত থেকে রোববার বিকাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীসহ ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ১৩ দিনে গ্রেফতারের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন শেষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ব্যাংকে হঠাৎ টাকায় টান-দৈনিক প্রথম আলো
দেশের ব্যাংক খাতে হঠাৎ করেই ঋণ দেওয়ার মতো অর্থের টান পড়েছে। বেশ কিছু ব্যাংক নতুন করে ব্যবসায়ীদের ঋণ দিচ্ছে না। প্রায় সব ব্যাংকই বাড়িয়েছে সুদের হার। এমনকি কিছু ব্যাংকের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের দেওয়া ঋণের টাকা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মাস দু-এক আগেও ব্যাংকগুলো বড় গ্রাহকদের ৮-৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিত, যা এখন ২-৩ শতাংশ বেশি দিতে হচ্ছে। একইভাবে বেড়ে গেছে ভোক্তা ও গৃহঋণের সুদের হারও।
ব্যাংকাররা হঠাৎ এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ দেখছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংকের আমানতের বিপরীতে ঋণ বিতরণের সীমা কমিয়ে দেওয়া। এ ছাড়া সুদের হার কম হওয়ায় ব্যাংকে আমানত কমে যাওয়া, ডলার বিক্রি করে ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নেওয়া এবং বেসরকারি একটি ব্যাংকের সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিও পরোক্ষভাবে এ সংকটে ঘি ঢেলেছে
রূপা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে গণধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ড্রাইভার এবং তিন হেলপারের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত
মাত্র ১৪টি কর্মদিবসের পর টাঙ্গাইলের চাঞ্চল্যকর রূপা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যার মামলার রায়ে চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলায় একজনের সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়ার আদালতে আজ সোমবার এ রায় দেন। রায়ে আজ আদালত বলেছেন, যে বাসে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনাটি ঘটেছিল, সেই জব্দ হওয়া বাসটির মালিকানা রূপার পরিবারকে দিতে হবে।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকের কয়েকটি খবর এরকম যে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে ৩শ’ মোবাইল ফোন ‘ব্লকড করা হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ইন্টারনেট আড়াই ঘণ্টা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। আজ সকালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়। দৈনিকটির একটি মন্তব্য প্রতিবিদনে লেখা হয়েছে, প্রশ্ন ফাঁসকে জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হোক।
এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত
বেসরকারি হাসপাতাল জানাল এডস, ‘ভুল’ রিপোর্টের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
বিংশ শতাব্দীতেও এডস নিয়ে কুসংস্কার আর ছুঁৎমার্গের শেষ নেই। তার উপর আবার মূলত অসুরক্ষিত যৌনতা বা একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে সাধারণত শরীরে এই মারণরোগের সংক্রমণ হয়। তাই এডস রোগীকে ভাল চোখে দেখে না সমাজ। এইসব সাত-পাঁচ ভেবেই দু-দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বীরভূমের ইলামবাজারের এক যুবক। কারণ, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের পরীক্ষায় ওই যুবকের রক্তে মারণ রোগের জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু, বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এরপর কলকাতা ও বর্ধমানের দুটি ল্যাবে ফের তাঁর রক্ত পরীক্ষা করান পরিবারে লোকেরা। তাতে জানা যায়, ওই যুবক আদৌও এডসে আক্রান্ত নন। ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে ওই যুবকের পরিবার। যদিও দুর্গাপুরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে দাবি, তাদের রিপোর্টই সঠিক।
‘নীতি থাকলে কি এমন জোট করত বিজেপি-মানিক সরকার?’-দৈনিক আনন্দবাজার
নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে আনন্দবাজারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, গত বেশ কিছু দিন ধরে বিজেপি-র লাগাতার আক্রমণের লক্ষ্য তিনি। ত্রিপুরায় নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলে গিয়েছেন, মানিক পাল্টে হিরে আনুন।
এ বারের নির্বাচন তিনি বলেছেন, ‘‘ভোটের রাজনীতি তো সবসময়েই চ্যালেঞ্জের। কারণ এটা হচ্ছে উচ্চতর পর্যায়ের রাজনৈতিক সংগ্রাম। কিন্তু তা কি রাজনৈতিক মতাদর্শগত বা নীতির লড়াই? মানিকের জবাব ছিল এরকম ‘‘নীতির উপরে থাকলে তারা (বিজেপি) আইপিএফটি (ইন্ডিজেনাস পিপল’স ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা)-র মতো একটা সংগঠনের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা করে কী করে?’’ উপজাতীয় সংগঠন এই আইপিএফটি। গত সেপ্টেম্বরে ত্রিপুরায় সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডে নাম জড়িয়েছে এদের কয়েকজন কর্মীর। তফসিলি উপজাতি এলাকার এই সংগঠনের সঙ্গে এ বারে জোট বেঁধেছে বিজেপি।
দেশের জওয়ানদের অপমান করেছেন মোহন ভাগবত, তোপ রাহুলের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
অপমান করেছেন ভারতের জওয়ানদের। অপমান করেছেন প্রত্যেক দেশবাসীকে এবং জাতীয় পতাকাকে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে এভাবেই ক্ষোভ উগরে দিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী।
তিরিশ ঘণ্টার রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে পর মুক্ত জম্মুর সেনাঘাঁটি। পাঁচ জওয়ান নিহত হয়েছে। লাগাতার হামলায় সেনাবাহিনী যখন প্রশ্নের মুখে তখন চাপ আরও বাড়িয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। কার্যত সেনার ব্যর্থতাকে তুলে ধরে ভাগবত জানিয়ে দিলেন, প্রয়োজন পড়লে দেশের জন্য তাঁদের সংগঠনই সেনাবাহিনী গড়বে। ভাগবতের এই মন্তব্যের পরই গোটা দেশে শোরগোল পড়ে। তাহলে কি দেশের সেনাকে কর্মক্ষমতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলেন তিনি? ঠিক এই প্রশ্নই উসকে দিয়ে রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ভাগবতের এই মন্তব্য প্রত্যেক দেশবাসীর অপমান।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১২