ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ ১৩:৩৭ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক 
  • ‘শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ প্রশ্নফাঁসের সমাধান নয়’-দৈনিক ইত্তেফাক
  • পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নও ফাঁস!-দৈনিক প্রথম আলো
  • খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়: কাদের-দৈনিক যুগান্তর
  • দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসবে-ফখরুল-দৈনিক মানবজমি
  • ন৪০ কেজি টমেটোর দাম ৬০ টাকা!-দৈনিক নয়া দিগন্ত
  • প্রকল্প বাস্তবায়নে শঙ্কা-দৈনিক ইনকিলাব

ভারতের শিরোনাম:

  • এই অসৌজন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়-দৈনিক আনন্দবাজার
  • বায়ুদূষণ থেকে জন্ম নেয় অপরাধমূলক মানসিকতা! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • সবচেয়ে গরিব মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায় দ্বিতীয় মমতা-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

অবস্থান কর্মসূচিতে ফখরুল-দেশের মানুষ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিয়ে আসবে-দৈনিক মানবজমিনের এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানোর কারণে তার শক্তি অনেক বেড়ে গেছে।

বিএনপির মানববন্ধন

দেশনেত্রীকে কারাগার থেকে এ দেশের মানুষ অতিসত্বর বের করে আনবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার মনে করেছে- দলের ভেতরে ভাঙন শুরু হবে। নেতাকর্মীর শূণ্যতায় ভুগবে বিএনপি। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মানুষ খালেদা জিয়ার পেছনে রয়েছেন। আর প্রথম আলোতে লেখা হয়েছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে একটি জীর্ণ ও পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা হয়েছে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর বিচার হবে।

নির্বাচনের পথে নির্ভার আ.লীগ-দৈনিক প্রথম আলো

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজার পর দেশের ভেতরে বা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কায় সরকার আগাম নানা প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেমন প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়নি। ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য যে পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এগোচ্ছিল, তা বাস্তবায়নে এখন অনেকটাই নির্ভার দলটি।

বাংলাদেশের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আর দৈনিক যুগান্তরের একটি খবরে লেখা হয়েছে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আজ বলেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। তিনি আরো বলেছেন, বিএনপি ভাঙুক তা আমি চাই না।

দৈনিক মানবজমিনের দেশ বিদেশ- চ্যাপ্টারে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক করেসপন্ডেন্ট জাস্টিন রাউলাতের একটি লেখার অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। শিরোনামটি এরকম  'ক্লান্ত হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ'।ম্যাকিয়াভেলি থেকে সান জু’র কথা বাদ রাখুন। যদি আপনি জানতে চান কিভাবে শত্রুকে পরাজিত করতে হয় এবং ক্ষমতা ধরে রাখতে হয় তাহলে এর বাস্তব ক্ষেত্র হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতি। 

দেশে সবচেয়ে শীর্ষে থাকা দু’নারীর মধ্যে কয়েক দশক ধরে চলছে লড়াই। বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির প্রধান খালেদা জিয়াকে শাস্তি দেয়া হলো তার সর্বশেষ সুবিধা নেয়া।কিন্তু তাদের মধ্যে যে সংঘাত তা নারীসুলভ কিছু নয়। 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ঘোর বিরোধী বিএনপির খালেদা জিয়ার মধ্যে ভয়াবহ শত্রুতা দেশকে সহিংসতার সর্পিল পথে টেনে নিয়ে গেছে। বাসে বোমা মারা, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বিরক্তিকরভাবে নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তবে ঘটনা সব সময় এমন ছিল না। বাংলাদেশিরা মনে করছেন এই ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে তারা শেষ হয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যক্তিগত শত্রুতাই এখন রাজনীতিতে বড় ঘটনা। এতেও বাংলাদেশের রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে আছেন এই দু’নারী। তারা থামবেন না, যদিও তাদের বয়স এখন ৭০ উত্তীর্ণ। কিন্তু কেউই সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আজও একাধিক খবর পরিবেশিত হয়েছে জাতীয় দৈনিকগুলোতে।

অধ্যাপক জাফর ইকবাল

প্রথম আলো লিখেছে- পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্নও ফাঁস। দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে লেখা হয়েছে, অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এর সঠিক সমাধান নয়। প্রশ্নফাঁসের মূল কারণ উদ্ঘাটন করে এর সমাধান করাটাই সব চেয়ে বেশি প্রয়োজন। কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে তা আগে খুঁজে বের করতে হবে। দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, চট্টগ্রামে এসএসসির প্রশ্ন ফাঁস, আটক ৫৬ পরীক্ষার্থী। আর যুগান্তরের খবরে বলা হয়েছে, পরীক্ষার এক ঘণ্টা আগে বাসভর্তি শিক্ষার্থীর হাতে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্ন। আজ মঙ্গলবার সিলেটের মীরের ময়দানে বিশ্ব বেতার দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা বলেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক

মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় সে ব্যাপারে চাপ অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভ্যাটিক্যান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে, এর সমাধানও বের করতে হবে মিয়ানমারকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও মিয়ানমারের কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি।

 শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয় মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।

এদিকে বেশ কয়েকটি দৈনিকের খবরে লেখা হয়েছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা (ডাব্লিউএফপি) র নির্বাহী পরিচালক বলেেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেহা রোহিঙ্গাদের খাওয়ানোর ব্যাপারে দাতা সংস্থার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।

দেশের কৃষি বিষয়ক একটি খবরে তাদের কষ্ট করে ফলানো শবজির দাম নিয়ে একটি রিপোর্ট করেছে

দৈনিক নয়া দিগন্ত। শিরোনামটি এরকম যে-৪০ কেজি টমেটোর দাম ৬০ টাকা! খবরে লেখা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বাইশমৌজা বাজারে মাত্র পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক ঝুড়ি পাঁকা টমেটো। এর প্রতিটি ঝুড়িতে ৩০/৪০ কেজি টমেটো রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে জমি থেকে উঠিয়ে বাজারে নিয়ে আসার ভাড়া ও শ্রমের দামও পাচ্ছেন না কৃষকরা। এসব টমেটো সংরক্ষণের জন্য আশপাশে কোনো কোল্ড স্টোরেজ ব্যাবস্থা না থাকায় পাইকারদের কাছে তেমন চাহিদা নেই। তাই বাধ্য হয়েই পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকের ঘাম জড়ানো এই কষ্টের ফসল।

প্রকল্প বাস্তবায়নে শঙ্কা-দৈনিক ইনকিলাব

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র আট মাস। নির্বাচনকে সামনে রেখে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকার কাজ শেষ করতে চায় সরকার। বরাদ্দকৃত এ টাকার মধ্যে ৩০ জুন শেষ হতে পারে ২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ। ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত অর্থাৎ বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রথম দফার প্রকল্প এখনও শেষ হয়নি, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে।

এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

সবচেয়ে গরিব মুখ্যমন্ত্রীর তালিকায় দ্বিতীয় মমতা-দৈনিক আজকাল

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী

সাদামাটা জীবনযাপনের জন্যই তিনি পরিচিত। মমতা ব্যানার্জি সম্পর্কে সেই একই তথ্য ফের উঠে এল ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ ডেমোক্রেটিক রিফর্ম’–এ। দেশের ২৯ রাজ্য ও ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীদের সম্পদের তালিকা প্রকাশ করেছে এই সংস্থা। সেই তালিকা অনুযায়ী দেশের ধনীতম মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। দরিদ্রতম ত্রিপুরার মানিক সরকার। তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ২৬ লক্ষ টাকা। দরিদ্র মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মানিকের পরেই রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। মমতার সম্পত্তির পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি। তাঁর সম্পদ ৫৫ লক্ষ টাকার। ভোটে লড়ার আগে নিজেদের সম্পত্তির পরিমাণ জানিয়ে হলফনামা পেশ করতে হয়। সেই পরিমাণের বিচারেই বানানো হয়েছে এই তালিকা।

বায়ুদূষণ থেকে জন্ম নেয় অপরাধমূলক মানসিকতা! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

বায়ু দূষণ

বায়ু ছাড়া এই পৃথিবীতে জীবনধারণ অসম্ভব। কিন্তু এই বায়ুতে মাঝেমধ্যে বিভিন্নরকম বিষাক্ত বস্তু যোগ হতে পারে। ফলে সৃষ্টি হয় বায়ুদূষণ। আর এই বায়ুদূষণ থেকে হতে পারে ত্বকে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি জাতীয় রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু  নতুন গবেষণার ফল এই বায়ুদূষণ থেকেই জন্ম নেয় অপরাধমূলক মানসিকতা। কারণ যে সব জায়গায় দূষণ যত বেশি, সেইসব জায়গায় মানুষের মধ্যে অপরাধমূলক মানসিকতা তত বেশি দেখা যায়।

এর ব্যাখা দিতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাতাসে দূষণ যত বেশি থাকবে, ততই তার প্রভাব মানুষের মনের উপর পড়বে। আর এর থেকে মন মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাবে। যারফলে সেখান থেকেই জন্ম নেবে অপরাধমূলক মানসিকতা। কলম্বিয়া বিজনেস স্কুল প্রায় নয় বছর ধরে আমেরিকার ৯৩৬০টি শহরে গবেষণা চালিয়ে এই নতুন তথ্যটি সকলের সামনে নিয়ে এসেছেন।

এই অসৌজন্য গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়-দৈনিক আনন্দবাজার

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে সব বইপত্র বা দলিল-দস্তাবেজ রয়েছে, তাতে প্রশাসনিক রীতিনীতি, পদ্ধতি-পক্রিয়া সম্পর্কে অনেক কথাই খুব স্পষ্ট করে লেখা থাকে। কিন্তু অনেক প্রয়োজনীয় কথা আবার লেখা থাকেও না। গণতান্ত্রিক সৌজন্য হল তেমনই এক উপাদান,সম্প্রতি এই সৌজন্য খুব বিপদেই রয়েছে।সম্প্রতি সৌজন্য কথাটাই সম্ভবত খেয়াল রাখতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওমান সফরে গিয়ে দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে নরেন্দ্র মোদী নিজের মন্ত্রিসভার ভাবমূর্তি সম্পর্কে অনেকগুলো কথাই খরচ করেছেন। শুধুতাই নয় বিরোধীপক্ষের প্রতি এবং পূর্ববর্তী মন্ত্রিসভাগুলির প্রতি কটাক্ষও ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এহেন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৩