শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অফিসে বসে করুন: বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- জাবি ভিসি ফারজানার পুনঃনিয়োগ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্ট-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
- নির্বাচনের বছরে ইচ্ছাপূরণ প্রকল্প-দৈনিক প্রথম আলো
- জিয়া চ্যারিটেবল মামলা-খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ল-দৈনিক যুগান্তর
- দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে-দুদক চেয়ারম্যান-দৈনিক মানবজমিন
- শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অফিসে বসে করুন: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
- মহাসড়কে আরও ভোগান্তির শঙ্কা-দৈনিক ইনকিলাব
- মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এনে অর্থপাচার-নজরদারি বাড়িয়েছে এনবিআর-দৈনিক কালের কণ্ঠ
- দুই শতাধিক বিদেশী নার্স বছরে নিয়ে যাচ্ছে অর্ধশত কোটি টাকা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- ভাত চাই! ক্ষুব্ধ গ্রামে পোস্টার-দৈনিক আনন্দবাজার
- রাজ্যপাল ও সরকারের বিবাদের কারণেই পড়ছে রাজ্যের শিক্ষার মান’-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-
দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে-দুদক চেয়ারম্যান-দৈনিক মানবজমিন
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ‘দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে, এটি বলতেই হবে।’ তিনি আরো বলেন, কোনো সরকারের লেজুড়বৃত্তি করতে দুদকের জন্ম হয়নি। এটি জনগণের প্রতিষ্ঠান। ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি সুশাসনের বড় অন্তরায়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে জনগণকে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।তিনি আরো বলেন, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত ফল এখনো আসেনি।
জিয়া চ্যারিটেবল মামলা-খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ল-দৈনিক যুগান্তর
জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় ১৩ মার্চ পর্যন্ত জামিনে থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেদিনই হাজিরা দেয়ার বিষয়ে আদেশ দেবেন আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান সোমবার এ আদেশ দেন।
দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচিতে বাধার প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। আর দৈনিক মানবজমিনের একটি খবরে লেখা হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, মিথ্যা সাজানো ও বানোয়াট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালোদা জিয়াকে সাজা দিয়ে বর্তমান সরকার চোরাবালিতে আটকে গেছে।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি অফিসে বসে করুন: ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঘরে বা কার্যালয়ে করার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘আপনারা (বিএনপি) শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচিকে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে কোনো সভা-সমাবেশ করা যাবে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন। আপনারা যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন তাহলে ঘরে-অফিসে করুন, রাস্তায় কেন? জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন কেন?
নির্বাচনের বছরে ইচ্ছাপূরণ প্রকল্প-দৈনিক প্রথম আলো
নির্বাচনের বছরে নিজের এলাকায় কোথায় কী হবে, তা সাংসদেরাই ঠিক করে দিচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির—সবকিছুর জন্য বিশেষ বরাদ্দ পাচ্ছেন তাঁরা। সাংসদের ইচ্ছায় নিজের সংসদীয় এলাকায় এসব ভবন নির্মাণের জন্য চলতি অর্থবছরেই তিনটি প্রকল্প পাস করা হয়েছে। এমন আরও তিনটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ভোটারদের মন জয় করতেই স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন। পাস হওয়া তিন প্রকল্পে ১৬ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা খরচ হবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ এ সম্পর্কে প্রথম আলোকে বলেন, সবগুলোই ভোটের প্রকল্প। বর্তমান সাংসদদের অনেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আগামী নির্বাচনের আগে নিজেদের এলাকায় তাঁরা ভোটব্যাংক তৈরি করতে চাচ্ছেন। তিনি মনে করেন,
প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করেই অপরিকল্পিতভাবে সাংসদের ইচ্ছায় স্কুল-মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।
মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এনে অর্থপাচার-নজরদারি বাড়িয়েছে এনবিআর-দৈনিক কালের কণ্ঠ
মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। এগুলো দেশের বাজারে বিক্রি করে একদিকে তারা মোটা অঙ্কের টাকা পকেটে ভরছে, অন্যদিকে অবৈধ পণ্য আমদানির নামে অর্থ পাচার করা হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বন্দরসংশ্লিষ্ট শুল্ক শাখার কর্মকর্তারা গত বছর এ ধরনের অবৈধ পণ্যের ১৯টি চালান জব্দ করেছেন।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা এসব চালানের পণ্য আমদানির দাম হিসেবে ৪২ কোটি ৩৬ লাখ ১২ হাজার টাকা বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
মহাসড়কে আরও ভোগান্তির শঙ্কা-দৈনিক ইনকিলাব
সারাদেশে গত বছর প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা অবস্থায় ছিল। বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আরও কয়েক কিলোমিটার। বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, রংপুর, কুড়িগ্রামসহ দেশের কয়েকটি স্থানের মহাসড়ক। ভাঙাচোরা সেই সব সড়ক-মহাসড়ক অস্থায়ী মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে আরও অনেক সড়ক-মহাসড়ক ভেঙে একাকার হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক মেরামতের জন্য সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। চিঠিতে সারাদেশের সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের জন্য প্রায় তিন হাজার ২৯ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে। তবে এ খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র এক হাজার ৮০৪ কোটি টাকা। বরাদ্দকৃত এই টাকায় সড়ক-মহাসড়ক কোনোভাবেই মেরামত হবে না। পাশাপাশি আগামী বর্ষায় সড়কগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাতে চরম ভোগান্তিতে পড়বে সারাদেশের মানুষ।
দুই শতাধিক বিদেশি নার্স বছরে নিয়ে যাচ্ছে অর্ধশত কোটি টাকা-দৈনিক নয়া দিগন্ত
বিদেশি চিকিৎসকই নন, নার্সরাও বাংলাদেশ থেকে বছরে অর্ধশত কোটির বেশি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন অবৈধভাবে। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল রয়েছে যেখানে বিদেশি নার্সরা নামাত্র অনুমতি নিয়ে এবং বেশির ভাগই বিনা অনুমতিতে বছরের পর বছর ধরে কাজ করছেন। এদের বেশির ভাগই ভিজিট ভিসায় এ দেশে আসেন এবং পরে নানা কারণ দেখিয়ে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে এ দেশে অবস্থান করেন। জানা গেছে, নার্সদের বেশির ভাগই প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আসছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে বাংলাদেশে বিদেশি নার্সের কোনো প্রয়োজন নেই। এ দেশে নার্সিং কারিকুলাম যথেষ্ট উন্নত মানের। বাংলাদেশে শুধু নার্সই নয়, রয়েছেন কয়েক শ’ ভারতীয় ডাক্তার। এরা টেকনোলজি ট্রান্সফার, এ দেশের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অধীনে সেবা করার নামে বাংলাদেশে কাজ করছেন এবং বছরে কয়েক শ’ কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন।
এবার কোলকাতার দৈনিকগুলোর কয়েকটি খবরের বিস্তারিত
রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ-দৈনিক আজকাল
যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে এই নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। সূত্রের খবর দক্ষিণের কোনও এক রাজ্যের রাজ্যপাল নাকি রাজভবনের মহিলাকর্মীর কাছে যৌন অনুগ্রহ চেয়েছেন। সেই ঘটনার পরেই স্বারাষ্ট্র মন্ত্রকে অভিযোগ জানান ও মহিলাকর্মী। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও কোন রাজ্যের রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।
সরকার ঘটনার নিয়ে তদন্তে সক্রিয় হয়েছে। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠাকে কোনওভাবেই লঘু করে দেখতে নারাজ সরকার। দোষ প্রমাণিত হলে রাজ্যপালকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে বলা হবে।
রাজ্যপাল ও সরকারের বিবাদের কারণেই পড়ছে রাজ্যের শিক্ষার মান’-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
রাজ্যপাল-রাজ্য সরকার সংঘাতই উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বড় বাধা। রাজ্যপালের সামনেই এহেন মন্তব্য করলেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সেসের প্রাক্তন অধিকর্তা পদ্মনাভন বলরাম। তিনি দেশের নামী বিজ্ঞানী। রবিবার পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একথা বলেন ওই বিজ্ঞানী। ইতিমধ্যেই পদ্মনাভন বলরামের এই মন্তব্য ঘিরে কানাঘুষো শুরু হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীর বক্তব্যের সময় একপ্রকার নিরুত্তাপ ছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলেও কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। যদিও এই মন্তব্যের রেশ ছড়িয়েছে শিক্ষামহলের অন্দরে।
ভাত চাই! ক্ষুব্ধ গ্রামে পোস্টার-দৈনিক আনন্দবাজার
জনশূন্য মোবারকপুরে কথা বলার কেউ নেই, ক্ষোভের আঁচ সর্বত্র। সর্বত্রই সাদা কাগজে লাল কালিতে লেখা লেখা—ভাত চাই’।
পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের ওই গ্রামে শনিবার স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধান নান্টু প্রধানের লাশ পাওয়া যায়। ঘটনায় বিজেপি-সিপিএমের দিকে তৃণমূল নেতৃত্ব আঙুল তুললেও, এলাকায় কিন্তু অন্য গল্প শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ, জোর করে চাষজমিকে মাছের ভেড়িতে রূপান্তরিত করতেন নান্টু ও তাঁর দলবল। কেউ রাজি না হলে জুটত মারধর কিন্তু চিংড়ির চাষে জমি নষ্ট হয়। তাই অনেকেই বেঁকে বসেছিলেন। সেই সংঘাতেই নান্টুকে মরতে হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। গ্রামের এক কৃষক বললেন, ‘‘আমার ২৫ কাঠা জমিতে জোর করে নোনা জল ঢুকিয়ে দিয়েছিল। চাষ না করলে খাব কী?’’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৬