বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর চায় চীন
-
পত্রপত্রিকার পাতার বিশ্লেষণ
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৯ এপ্রিল বৃহষ্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিল- দৈনিক ইত্তেফাক
- ছয়টি ধারা নিয়ে সম্পাদকদের আপত্তি, আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধনের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর-দৈনিক যুগান্তর
- বিচ্ছিন্ন আন্দোলনে লাভ হবে না, যদি না গণতন্ত্রের আন্দোলন হয়: ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলোকোটা সংস্কার আন্দোলন পুঞ্জীভূত
- ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ: কাদের সিদ্দিকী-দৈনিক মানবজমিন
- বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর চায় চীন-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- প্রবাসীদের ভোটার বানাতে প্রধান সমস্যা দ্বৈত নাগরিকত্ব -সিইসি-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- শুনানি শেষ, পঞ্চায়েতে কী হবে, আগামিকাল হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়-দৈনিক আনন্দবাজার
- বাংলায় বামেদের রক্তক্ষরণ অব্যাহত, সদস্য কমল ষাট হাজার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ধর্ষককে বাঁচাতে জাতীয় পতাকার ব্যবহারও অপরাধ, এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বললেন কাঠুয়া কাণ্ডের আইনজীবী -দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি কথাবার্তার আসরে। প্রথমে আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইবো-
কথাবার্তা: চীন চায় বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হোক.... এমন একটি খবর দিয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠ। অন্যদিকে, ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে ইত্তেফাকসহ বেশ কয়েকটি পত্রিকা একটি খবর ছেপেছে। এতে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা মন্তব্য করা হয়েছে যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে- বিএনপিকে নিয়ে সন্দিহান ভারত। খবর দুটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য।
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন-বিএনপিকে নিয়ে সন্দিহান ভারত- ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ-দৈনিক ইত্তেফাক
বাংলাদেশে অতীতে বিএনপি সরকারের দুই মেয়াদে ইসলামী জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করেছিল এবং ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদিরা পাকিস্তানের সমর্থন পেয়েছিল। অথচ বিএনপি বিষয়টি না দেখার ভান করেছে। এসব কারণে ভারত বিএনপির ব্যাপারে সন্দিহান। একইসঙ্গে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কারও ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনাকে ভারত কিছুটা উদ্বেগের চোখে দেখে। বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে নয়াদিল্লিভিত্তিক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) এক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্মানিত ফেলো মনোজ যোশীর মতে, আগামী নির্বাচন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিতে পারে। বিশ্লেষণে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের চিন্তা-ভাবনাও উঠে এসেছে। গতকাল বুধবার অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন এই বিশ্লেষণটি প্রকাশ করে।
কথাবার্তা: নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছে, দেশের নদীগুলো রক্ষায় সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। তা না হলে দেশের নদী থাকবে না এবং দেশ বাঁচবে না। কী বলবেন আপনি?
কথাবার্তা: এবার আমরা একটু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে নজর দিতে পারি। ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন নিয়ে গত মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক বিষয়ক কমিটিতে শুনানি হয়েছে। তাতে সৌদি আরবের কাছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিনেটররা। অন্যদিকে আগ্রাসনে মার্কিন সমর্থনের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের লোকজন। বিষয়টি যদি একটু বিশ্লেষণ করেন।
বিচ্ছিন্ন আন্দোলনে লাভ হবে না, যদি না গণতন্ত্রের আন্দোলন হয়: ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ছাত্রদের বা একটা শ্রেণির অধিকার আদায়ের যে বিচ্ছিন্ন আন্দোলন, এটা করে কিন্তু কোনো লাভ হবে না; যদি না গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা হয়। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (অ্যাব) প্রতিবাদ সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এ সভা হয়। সভায় বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের প্রতিনিধিত্ব থাকলেই তো সেই সরকার জনগণের কথা চিন্তা করবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার চাই, কিন্তু সেই গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার কীভাবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। নির্বাচন কীভাবে হবে। অবশ্যই একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে। এর বাইরে নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু হবে না, গ্রহণযোগ্য হবে না।’
ছয়টি ধারা নিয়ে সম্পাদকদের আপত্তি, আলোচনার ভিত্তিতে সংশোধনের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর-দৈনিক যুগান্তর
প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ছয়টি ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বাধা বলে আখ্যায়িত করেছে সম্পাদক পরিষদ। সচিবালয়ে সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে তারা ধারাগুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশ কয়েকটি ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের উদ্বেগ যৌক্তিক। আলোচনার ভিত্তিতে আইনটি সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, আগামী ২২ এপ্রিল সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ আইন নিয়ে আলোচনার জন্য সম্পাদকদের নিয়ে বসার প্রস্তাব জানানো হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তিন মন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
শুনানি শেষ, পঞ্চায়েতে কী হবে, আগামিকাল হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়-দৈনিক আনন্দবাজার
পঞ্চায়েত মামলায় শুনানি শেষ। আগামিকাল, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এই মামলায় রায়দান করবে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানালেন হাইকোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। সেই সঙ্গে আরও এক দিন বাড়ল পঞ্চায়েত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জারি হওয়া স্থগিতাদেশের মেয়াদ। আদালত জানিয়েছে, রায়দান পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ চলবে। এই রায়ের উপরে নির্ভর করছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ। শুনানীতে মনোনয়নের দিন বাড়ানোর জন্য কী ভাবে কমিশনকে পরামর্শ দিতে পারে রাজ্য সরকার— তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি তালুকদার।কমিশনের দাবি ছিল, “নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
বাংলায় বামেদের রক্তক্ষরণ অব্যাহত, সদস্য কমল ষাট হাজার-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
রক্তক্ষরণ চলছেই। বামের ভোট যাচ্ছে রামের ঝুলিতে। নির্বাচনী ফলাফলেই তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। একটার পর একটা নির্বাচন যায় আর লাল শিবির থেকে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর হিরিক পড়ে যায়। রক্তক্ষরণ বন্ধের চিকিৎসায় সংগঠনের মাথায় এক ডাক্তারবাবুকে বসিয়েও যে রোগ সারেনি সিপিএমের সাংগঠনিক রিপোর্টেও তা স্পষ্ট। রিপোর্টের ছত্রেছত্রে স্বীকার করে নিয়েছেন দেশের কমরেডকুলের শীর্ষনেতা পার্টির সাধারন সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণেই যে রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়নি তাও স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। গোটা দেশের মধ্যে বাংলার ক্ষয় সবচেয়ে বেশি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলার ক্ষয়ের প্রভাব পড়েছে দেশের সংগঠনেও
ধর্ষককে বাঁচাতে জাতীয় পতাকার ব্যবহারও অপরাধ, এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বললেন কাঠুয়া কাণ্ডের আইনজীবী-দৈনিক আজকাল
‘আমি একজন হিন্দু। লড়াই করছি আরেক হিন্দুর বিরুদ্ধে। এক মুসলিম শিশুকে সুবিচার পাইয়ে দিতে।’ গাড়ির হর্নের শব্দ ভেসে আসছিল ফোনের ওপার থেকে। কাঠুয়া ধর্ষণ কাণ্ডে লড়াইরত আইনজীবী দীপিকা সিং রাজওয়াতের গলার তীব্রতা ছাপিয়ে যাচ্ছিল সবকিছুই। বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, লড়াইয়ের ঝাঁঝটা বুঝেই তিনি নেমেছেন ময়দানে। হাতে সময় খুব কম। কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর তিনি দেবেন, বলে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, একটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। এখন এই কেস নিয়ে বেশি কিছু বলাটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, কাঠুয়া কাণ্ডের কেস নেওয়ার পর থেকেই আমাকে যেভাবে হোক বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে কোনও একটি দল। কিন্তু আমি সেই ফাঁদে পা দেওয়ার লোক নই। বরং আমি আইনি পথেই এর প্রতিবাদ করছি।
দীপিকা আরো বলেন,আমি মামলা হাতে নেওয়া পর থেকেই আমাকে একের পর এক হুমকি শুনতে হচ্ছে। এমনকী কোর্ট রুমের মধ্যেও আমাকে কাশ্মীর বার অ্যাসোসিয়েশনের বাধার সামনে পড়তে হয়েছে। কথাই বলতে দেওয়া হয়নি। আমি জানি না, কেন এমনটা করা হচ্ছে। দিনের পর দিন আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে প্রাণে মারারও।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৯