খালেদা জিয়ার কিছু হলে সমস্ত দায় সরকারের : মির্জা ফখরুল
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২১ এপ্রিল শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- খালেদা জিয়ার কিছু হলে সমস্ত দায় সরকারের : মির্জা ফখরুল- দৈনিক ইত্তেফাক
- ‘নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার চেষ্টা হলে কঠোর হাতে দমন’-ডিএমপি কমিশনার-দৈনিক যুগান্তর
- সেই শর্ত মেনে নেওয়া মানে দেশে একটা অপরাধতন্ত্রকে মেনে নেওয়া: তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
- বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা-দৈনিক মানবজমিন
- সেনা মোতায়েনে ভয় কেন : আমীর খসরু-দৈনিক নয়া দিগন্ত
- দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক ইনকিলাব
ভারতের শিরোনাম:
- শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড, অর্ডিন্যান্স পাশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়-দৈনিক আনন্দবাজার
- কমিশনের সঙ্গে বিবাদে সর্বদল বৈঠক বয়কট, ফের হাই কোর্টে যাচ্ছে বিজেপি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ধর্ষণে ফাঁসি, আইন আনছে কেন্দ্র, সায় মন্ত্রিসভার-দৈনিক আজকাল
- পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি কথাবার্তার আসরে। প্রথমে আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইবো-
কথাবার্তা: বিএনপি বলেছে, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে পুরো দায়-দায়িত্ব সরকারের। বিএনপি’র এই বক্তব্য কেন?
খালেদা জিয়ার কিছু হলে সমস্ত দায় সরকারের : মির্জা ফখরুল-দৈনিক ইত্তেফাক
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তার সঙ্গে দলটির সিনিয়র নেতারা ও আত্মীয় স্বজনকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এর পেছনে সরকারের ভয়ঙ্কর কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে। আমরা তার বিনা সুচিকিৎসার কারণে অবনতিশীল শারীরিক অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন। মিথ্যা মামলায় প্রতিহিংসার বিচারে বর্ষিয়ান একজন নেত্রীকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
ফখরুল সরকারকে সাবধান করে দিয়ে বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি হলে বা কোনো কিছু হলে তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব শেখ হাসিনা সরকারের। বয়স্ক অসুস্থ একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আর জেলে রাখবেন না।তাকে জামিন দিন।
সেই শর্ত মেনে নেওয়া মানে দেশে একটা অপরাধতন্ত্রকে মেনে নেওয়া: তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক প্রথম আলো
বিএনপি ও দলটির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দণ্ডিত কোনো অপরাধীর মুক্তি নির্বাচনের অংশগ্রহণের শর্ত হলে সেই শর্তের ভিত্তিতে নির্বাচন হবে না। এ বিষয়ে যদি কেউ বাজি ধরে, তাহলে সেই বাজিতে সায় দেওয়া হবে না।
আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সেই শর্ত মেনে নেওয়া মানে দেশে একটা অপরাধতন্ত্রকে মেনে নেওয়া। সুতরাং যদি কেউ দণ্ডিত অপরাধীদের মুক্তির শর্তে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটা গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপরে কুঠারাঘাত। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার পাঁয়তারা করছে। সেই পাঁয়তারার অংশ হিসেবেই দণ্ডিত অপরাধীর মুক্তির প্রশ্নটা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন।
কথাবার্তা: ঢাকার সড়কে বাস, চালক ও ব্যবস্থাপনা কোনোটাই ঠিক নেই। এটা প্রথম আলোর খবর। পত্রিকাটি যখন এমন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেদিনই ঢাকার পত্রপত্রিকাগুলোর আরেকটি খবর হচ্ছে- দুই বাসের প্রতিযোগিতায় পা গেছে তরুণীর। কেন এই অবস্থা?
কথাবার্তা: এবার আমরা একটু আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দিকে নজর দিতে পারি। সিরিয়ায় সম্প্রতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছিল রাশিয়া। কিন্তু পরবর্তীতে দেশটি সরাসরি কোনো সংঘাতে যায় নি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আপনি কী বলবেন?
‘নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার চেষ্টা হলে কঠোর হাতে দমন’-ডিএমপি কমিশনার-দৈনিক যুগান্তর
নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের সহিংসতা করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুশিয়ারি করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।
শনিবার সকালে রাজধানীর সবুজবাগ থানার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং মাদকবিরোধী সমাবেশে ডিএমপি কমিশনার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই ২০১৮ সালকে ঘিরে যদি কেউ কোনো রকম ২০১৩, ১৪, ১৫, ১৬-এর মতো অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, কঠোর হাতে তাদের দমন করব ইনশা আল্লাহ। কোনোভাবেই সেই বোমা সন্ত্রাস আর অগ্নিসন্ত্রাসের পুরনাবৃত্তি এই ঢাকার মাটিতে ঘটতে দেয়া হবে না।
সেনা মোতায়েনে ভয় কেন : আমীর খসরু-দৈনিক নয়া দিগন্ত
জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে ভয় কেন ? প্রশ্ন রেখে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ভয় পায় বলেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সেনা মোতায়েন চায়না। তিনি বলেন, দেশের যে কোনো ধরনের দুর্যোগ উত্তরণে সেনাবাহিনীর অগ্রনী ভুমিকা রয়েছে। তাহলে একটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে এই বাহিনীর ভুমিকা থাকলে ক্ষতি কি?
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় রয়েছে উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা-দৈনিক মানবজমিন
বাংলাদেশের মানবাধিকারের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে যেসব খাতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ২০১৭ সালের ওপর প্রণীত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুত্বর যেসব মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে তার মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, নির্যাতন, খেয়ালখুশিমতো ও বৈআইনিভাবে আটকে রাখা, নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের হাতে জোর করে গুম করা, নাগরিক স্বাধীনতা সীমাবদ্ধতা। রয়েছে সংবাদ মাধ্যম, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় সীমাবদ্ধতা। সীমাবদ্ধতা রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের স্বাধীনতা নেই।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি।
শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড, অর্ডিন্যান্স পাশ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়-দৈনিক আনন্দবাজারের শিরোনাম। দৈনিকটির এ সম্পর্কিত আরো দুটো শিরোনাম এরকম যে,শিশু ধর্ষণে মৃত্যুদণ্ড মেরে ফেলার প্রবণতাই বাড়াবে, ধর্ষণ: আইন অনেক হয়েছে, কিন্তু আসল ছবিটা কী?
এসম্পর্কে দৈনিক আজকালের খবরের শিরোনাম-১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ধর্ষণে ফাঁসি, আইন আনছে কেন্দ্র, সায় মন্ত্রিসভার
খবরটিতে লেখা হয়েছে, ১২ বছর পর্যন্ত শিশুর ধর্ষণে ফাঁসির সাজা, অবশেষে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা পাস হল বিল। বিদেশ থেকে ফিরেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিল পাস করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লন্ডনে প্রবাসী ভারতীয়দের সভায় কাঠুয়া গণধর্ষণকাণ্ড নিয়ে প্রথম মুখ খুলেছিলেন তিনি। সর্বসমক্ষে বলেছিলেন ধর্ষণটা ধর্ষণই, এই নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয়। এর জন্য সরকারকে দায়ী করা অমূলক। ধর্ষণ রোধে কড়া পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেখানেই। যে বিলটি মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে তাতে বলা হয়েছে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ধর্ষণে পক্সো আইনে মামলা দায়ের হবে এবং সর্বোচ্চ সাজা ফাঁসি দেওয়া হবে। বিলটি মন্ত্রিসভায় পেশ করেন নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মানেকা গান্ধী। বিলটি এবার সংসদের দুই কক্ষে পাস হলেই আইনে পরিণত হবে। কাঠুয়া গণধর্ষণকাণ্ড নিয়ে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরেই এই নিয়ে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।
কমিশনের সঙ্গে বিবাদে সর্বদল বৈঠক বয়কট, ফের হাই কোর্টে যাচ্ছে বিজেপি-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
ফের মামলার গেরোয় থমকে যেতে বসেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ শনিবার সর্বদল বৈঠক বয়কট করে রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ জানাতে কলকাতা হাই কোর্টে গেরুয়া শিবির৷ আর তাতেই নতুন করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা৷
আজ, শনিবার দুপুরে পঞ্চায়েত ভোটের ভাগ্য নির্ধারণের লক্ষ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সর্বদল বৈঠক ডাকে৷ কিন্তু, সর্বদল বৈঠকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে বিজেপি৷ কমিশনের বাধার মুখে পড়ে আজ গোসা করে সর্বদল বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব৷গতকালই কমিশনের তরফে রাজ্যের প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে সর্বদলে অংশ নিতে আবেদন করা হয়৷#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২১