মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে: রিজভী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৫ অক্টোবর সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে: রিজভী-প্রথম আলো
- ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধন চেয়ে রাস্তায় সম্পাদকরা-দৈনিক ইত্তেফাক
- কমিশন গঠনের প্রস্তাব রেখে সম্প্রচার আইন অনুমোদন-কালেরকণ্ঠ
- যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন এসকে সিনহা-দৈনিক যুগান্তর
- বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগে কমিশন সভা বর্জন মাহবুব তালুকদারের-মানবজমিন
- প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ স্থগিত-নয়া দিগন্ত
ভারতের শিরোনাম:
- হাফিজ সাইদের টাকায় মসজিদ হয়েছে হরিয়ানায়, জানাল এনআইএ; দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ছাত্রছাত্রীদের সামনেই খুন প্রধানশিক্ষক-দৈনিক আজকাল
- ভোটের মুখে মধ্যপ্রদেশে মন্দির যাত্রা শুরু রাহুলের, সারলেন প্রচারও-সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব। জনাব সিরাজুল ইসলাম কথাবার্তার আসরে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি।
কথাবার্তার প্রশ্ন (১৫ অক্টোবর)
১. গতকাল যুব সম্মেলনে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য একটি তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এক-তৃতীয়াংশ যুবক বেকার। তার এ বক্তব্য সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?
২. সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগি নিখোঁজের ঘটনায় তুরস্কের পেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ফোন করেছেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ। আপনার কী মনে হয় এই ফোনালাপের পর বিষয়টির কোনো সমাধান হবে?
মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে: রিজভী-প্রথম আলো-প্রথম আলো
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে এবং হাসতেও ভয় পায়। মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে রিজভী বলেছেন, ‘আপনার নির্বাচনে ভোটারদের কোনো অস্তিত্ব নেই। আপনার অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে, তা ভোট ডাকাতি।’ রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। রিজভী গতকাল রোববার মাওয়া ও শিবচরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। রিজভী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজগুবি, উদ্ভট, স্ববিরোধী নানা কথা বলেছেন, যা জাতিকে হতবাকই করেনি, মানুষ মুচকি হেসেছেও। আসলে তিনি তাঁর বক্তব্যে নিজ দলের অনাচারগুলো অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে বক্তব্য রেখেছেন।’
রিজভী বলেন, এবারে ক্ষমতায় এসে বিএনপির মন্ত্রী-এমপি থেকে শুরু করে যুবনেতা-ছাত্রনেতাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে গুম করেছে, যা প্রত্যক্ষভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, মানুষ ভুলে যায়নি ১৯৭২ থেকে ৭৫-এ হাজার হাজার প্রগতিশীল নেতা-কর্মীর হত্যার কথা। ভুলে যায়নি প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারের হত্যাকাণ্ড ও এই হত্যাকাণ্ডের পর আস্ফালন। এরপরও কি আপনাদের শান্তির বার্তাবাহক বলতে হবে?
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধন চেয়ে রাস্তায় সম্পাদকরা-দৈনিক ইত্তেফাক
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৯টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরা। সোমবার বেলা ১১টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম। তিনি সম্পাদক পরিষদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ডেইলি নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মনিরুজ্জামান, বনিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দৈনিক সমকালে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তাফিজ শফি, দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। মানববন্ধনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা ডিজিটাল আইনের বিরুদ্ধে নই। আমরা এই আইনের বিশেষ কতকগুলো ধারার সংশোধন দাবি করছি। আমরা চাই-আগামী সংসদ অধিবেশনে এই আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হোক। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই সংশোধন করতে হবে।’
কমিশন গঠনের প্রস্তাব রেখে সম্প্রচার আইন অনুমোদন-কালেরকণ্ঠ
সাত সদস্যের একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের প্রস্তাব রেখে ‘সম্প্রচার আইন ২০১৮’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘এটি একটি নতুন আইন। স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে কনসাল্ট করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, খসড়া আইনে সাত সদস্যের একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কমিশনের সদস্যদের নির্বাচনের জন্য একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সদস্যদের নাম প্রস্তাব করবেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর কমিশন গঠন করা হবে। সচিব বলেন, এ কমিশন সম্প্রচার যন্ত্রপাতির লাইসেন্স দেবে। অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিশনের একক কর্তৃত্ব থাকবে। এ ছাড়াও খসড়া আইনে সম্প্রচার কমিশন গঠনের পাশাপাশি কমিশনারদের নিয়োগ, যোগ্যতা-অযোগ্যতা, মেয়াদ, পদত্যাগ, অপসারণ, পদপর্যাদা, পারিশ্রমিক ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া আছে বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় পেলেন এসকে সিনহা-দৈনিক যুগান্তর
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে (এসকে সিনহা) রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তাকে ইচ্ছামতো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস এবং কাজের অনুমতিও দিয়েছে সে দেশের সরকার। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে সিনহার করা একটি আবেদন শুক্রবার মঞ্জুর করে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর। একাধিক দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্প্রতি সিনহার আবেদনের ওপর একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি, কংগ্রেস প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তায় কাজ করা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে এসকে সিনহার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনটি গৃহীত হয়। এর আগে ওয়াশিংটন প্রেস ক্লাবে বহুল আলোচিত ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিনহা জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পররাষ্ট্র দফতরে আবেদন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) আমার কোনো পরিচয় (স্ট্যাটাস) নেই। আমি শুধু একজন আশ্রয় প্রার্থী। তাই আমি এখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ওই অনুষ্ঠানে সিনহা দাবি করেন, তাকে হাউস অব কমন্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণে তিনি যাননি। তিনি বলেন, আমি নিরাপদবোধ করছি না। আমি ভীত থাকি, ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা আমার বাসা সব সময় মনিটরিং করে এবং যারা আমার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়।
বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগে কমিশন সভা বর্জন মাহবুব তালুকদারের-মানবজমিন
বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগে নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের সভা বর্জন করেছেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। আজ কমিশন সভা শুরুর পাঁচ মিনিট পর আনঅফিসিয়াল (ইউও) নোট দিয়ে বের হয়ে আসেন তিনি। বের হওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের সভা বর্জনের বিষয় নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত কিছু বলেননি। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কমিশনের ৩৬ তম সভা শুরু হয়। সভায় বাকস্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ তুলে কয়েকটি বিষয়ে নোট দিয়ে সভা থেকে বের হয়ে আসেন মাহবুব তালুকদার। সভা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা এবং সরকারের সঙ্গে সংলাপ ইস্যুতে কমিশন সভায় লিখিত প্রস্তাব উত্থাপনের সুযোগ চেয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। গত ৮ই অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ইউও (আনঅফিসিয়াল) নোটের মাধ্যমে এসব বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব উত্থাপন করতে বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। কিন্তু তিনজন কমিশনার ওই প্রস্তাব উত্থাপন না করার জন্য সিইসিকে পাল্টা অনুরোধ করেন।
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ স্থগিত-নয়া দিগন্ত
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও বিজ্ঞপ্তিতে ফল স্থগিতের কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি এর আগে বেলা ১১টার দিকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভর্তি পরীক্ষার ফল আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
এরপরই দুপুর ১টা ৪ মিনিটে আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপাচার্য দফতরের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসারের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথাসময়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত পৌনে ১ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তরসহ হাতে লেখা প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। এর সাথে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। তবে প্রশ্নফাঁসের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পূর্বনির্ধারিত সময়ানুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরীক্ষা শুরুর প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ, বেলা ৯টা ১৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত এক সাংবাদিকের কাছে হাতে লেখা প্রশ্ন-উত্তরের অনেকগুলো (১৪) ছবি পাঠানো হয়। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ১ ঘণ্ট আগে অনেক ভর্তিচ্ছুর হোয়াটস অ্যাপ, ইমো, ফেসবুক মেসেঞ্জারসহ অন্যান্য মাধ্যমে সাদা কাগজে লেখা এই প্রশ্ন-উত্তর আসে। এগুলো পড়ে তারা পরীক্ষার হলে গেছেন বলেও জানা গেছে।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি...
হাফিজ সইদের টাকায় মসজিদ হয়েছে হরিয়ানায়, জানাল এনআইএ; দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার টাকায় মসজিদ বানানো হয়েছে হরিয়ানায়। গরিব গ্রামগুলিতে মেয়েদের বিয়ে দিতেও দেদার টাকা বিলোচ্ছে কট্টর জঙ্গি হাফিজ সইদের হাতে গড়া সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। ওই মসজিদের ইমামকে জেরা করে এ কথা জানতে পেরেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দায়ে মসজিদের ইমাম মহম্মদ সলমন আর তাঁর দুই সাগরেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের নাম মহম্মদ সেলিম ও সাজ্জাদ আবদুল ওয়ানি। মসজিদটি বানানো হয়েছে হরিয়ানার পালওয়াল জেলার উট্টাওয়ার গ্রামে। মসজিদটির নাম- ‘খুলাফা-ই-রাশিদিন। ওই মসজিদের ইমাম মহম্মদ সলমন জেরায় এনআইএ-কে জানিয়েছেন, লাহোরের একটি অসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘ফালাহ-ই-ইনসানিয়াৎ ফাউন্ডেশন (এফআইএফ)’-এর কাছ থেকে তিনি ওই টাকা নিয়েছিলেন। পাকিস্তানের ওই অসরকারি সংস্থা এফআইএফ চালায় হাফিজ সইদের হাতে গড়া রাজনৈতিক সংগঠন ‘জামাত-উদ-দাওয়া (জেইউডি)’। কট্টর সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা যার ছাতার তলায় রয়েছে। এফআইএফ-এরও নাম রয়েছে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকায়।
এনআইএ-র এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, হরিয়ানার গ্রামে ওই মসজিদের ইমাম মহম্মদ সলমনকে জেরা করে জানা গিয়েছে, দুবাইয়ে থাকার সময় তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে।এনআইএ-র কর্তাটি বলেছেন, ‘‘হাফিজ সইদের দলের চালানো ওই অসরকারি সংস্থাটি হরিয়ানার উট্টাওয়ার গ্রামে মসজিদটি বানানোর জন্য ইমাম মহম্মদ সলমনকে ৭০ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্যেও টাকা দেওয়া হয়েছিল ওই ইমামকে। মসজিদটি এখন কার টাকায় চলছে, আর সেই টাকা কী ভাবে খরচ করা হচ্ছে, এখন আমরা তার তদন্ত করছি।’
ছাত্রছাত্রীদের সামনেই খুন প্রধানশিক্ষক-দৈনিক আজকাল
রবিবারের বিশেষ ক্লাস নেওয়ার সময় ছাত্রছাত্রীদের সামনেই খুন হলেন স্কুলের প্রধানশিক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্কালুরুর অগরাহরা দসরাহাল্লি অঞ্চলের হাভানুর পাবলিক স্কুলে। রবিবার দশম শ্রেণির ২০ জন ছাত্রছাত্রীর বিশেষ ক্লাস নিচ্ছিলেন প্রধানশিক্ষক রঙ্গনাথ। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রছাত্রীদের বয়ান অনুযায়ী, ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ৬ জনের একটি দল ভিতরে গাড়িতে স্কুলে এসে ক্লাসে ঢুকে পড়ে। তারপর তাদের সামনেই রঙ্গনাথকে কুপিয়ে খুন করে ওই গাড়িতেই চম্পট দেয় আততায়ীরা। ঘটনাস্থলেই রক্টাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ৬০ বছরের প্রধানশিক্ষক। আতঙ্কিত ছাত্রছাত্রীরাই পরে স্কুলের কর্মীদের খবর দিলে তাঁরা পুলিসে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিস পৌঁছে রঙ্গনাথকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাতেই এক আততায়ীকে বেঙ্গালুরুরই মহালক্ষ্মী লেআউট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। পুলিসকে দেখেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল ওই আততায়ী। পুলিস পাল্টা গুলি চালালে গুলি তার পায়ে লেগে জখম হয় আততায়ী যুবক। গ্রেপ্তারির পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, জমি বিবাদের জেরেই এই খুন।
ভোটের মুখে মধ্যপ্রদেশে মন্দির যাত্রা শুরু রাহুলের, সারলেন প্রচারও-সংবাদ প্রতিদিন
এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়। ভোটের আগে সাধারণত নেতারা প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন। কেউ প্রতিশ্রুতি দেন রাস্তার, কেউ প্রতিশ্রুতি দেন বিনামূল্যে খাদ্যশস্যের আবার কেউ প্রতিশ্রুতি দেন ঋণ মকুবের। সামনে মধ্যপ্রদেশে ভোট, সেরাজ্যেও একই ছবি, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিজেপি, কংগ্রেস দুই শিবিরের নেতারাই। কিন্তু মধ্যভারতের রাজ্যটিতে এসবকেই ছাপিয়ে গিয়েছে ধর্ম নিয়ে টানাটানি। কে বেশি হিন্দু, কংগ্রেস না বিজেপি, তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে ভোটের বাদ্যি বাজার আগে থেকেই। কংগ্রেস বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করছে বিজেপি হিন্দুদের জন্য কিছুই করেনি, শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেনতেন প্রকারে হিন্দুদের মধ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করতে। এই ট্রেন্ডটি অবশ্য নতুন নয়, গুজরাট-কর্ণাটকেও ছিল, তবে মধ্যপ্রদেশে আরও বেশি পরিমাণে।
সোমবার মধ্যপ্রদেশে প্রচার শুরু করলেন কংগ্রেস সভাপতি, বলা ভাল মন্দির দর্শন শুরু করলেন। কারণ জনসভার আগেই কংগ্রেস সভাপতি গেলেন মধ্যপ্রদেশের দাটিয়ায় দীগম্বর শক্তিপীঠে। সেখানে হিন্দু রীতিনীতি মেনে পুজোও দেন কংগ্রেস সভাপতি। সঙ্গে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কমল নাথ এবং দলের তরুণ মুখ জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। এর আগে ইন্দিরা গান্ধী এবং রাজীব গান্ধীও এই শক্তিপিঠে পুজো দিয়ে এসেছেন, পূর্বসূরীদের দেখানো পথেই মন্দির দর্শন সারলেন কংগ্রেস সভাপতি।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১৫
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন