ডিসেম্বর ১১, ২০১৮ ১৬:৫২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১১ ডিসেম্বর মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • মির্জা ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা-দৈনিক প্রথম আলো
  • টেকনোক্র্যাটদের ৪ দপ্তর তিনজনের দায়িত্বে ‘-দৈনিক ইত্তেফাক
  • নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ হামলা: ফখরুল -দৈনিক যুগান্তর
  • লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়েছে’-হাসানুল হক ইনু-দৈনিক মানবজমিন
  • সারাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র : মিলার-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • লোকসভা নির্বাচনের সেমিফাইনালে ভরাডুবি বিজেপির, কী বললেন মোদি?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন 
  • সংসদকে অচল করবেন না, দেশের স্বার্থে আলোচনা চাই, সব দলকে আহ্বান মোদীর-দৈনিক আনন্দবাজার
  • সেমিফাইনাল প্রমাণ করল বিজেপি কোথাও নেই, টুইট মমতার-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে এ হামলা: ফখরুল -দৈনিক যুগান্তর

ফখরুলের গাড়ি বহরে হামলা

ঠাকুরগাঁওয়ে গাড়িবহরে হামলার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে থেকে দূরে রাখতে এ হামলা হয়েছে। আমি আমার লোকজনকে বলেছি, কোনো উসকানিতে পা দেবেন না। আমরা নির্বাচনে যাব এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেখব। মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বানারহাট এলাকায় এ হামলা হয়। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন ঘটনার অনেক পর সেখানে আসে। আর দৈনিক মানবজমিনের শিরোনাম-পথে পথে বাধা, ভাংচুর, গুলি, আহত অর্ধশত, মওদুদের পথসভা পণ্ড। দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন অভিযোগ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে গণগ্রেপ্তার চলছে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রক্যাশ্যে নৌকার পক্ষে মহড়া দিচ্ছে। পুলিশ এসব অপরাধের কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের প্রতি সিইসির নির্দেশ-দৈনিক ইত্তেফাক

ভোট দিয়ে নিরাপদে যাতে বাড়ি ফিরতে পারে মানুষের মধ্যে সেই আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের ব্রিফিংকালে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সিইসি বলেন,  আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, আপনারা যদি মাঠে থাকেন, আপনাদের পদচারণায় এই নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর হবে। মানুষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। মানুষ যেনো ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন। সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

 একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-মারমুখী নয়, পুলিশ থাকবে সতর্ক-দৈনিক যুগান্তর

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ- পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বর্তমান সরকারের পক্ষে কাজ করছে। নির্বিচারে তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ এবং ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ ৭০ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার বদলি চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দিয়েছে তারা।

এমন প্রেক্ষাপটে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পুলিশ সদর দফতর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

চলতি হিসাবে বড় ঘাটতি-মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা-দৈনিক যুগান্তর

সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। এ কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চলতি হিসাবে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ঘাটতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এতে কমে যাচ্ছে টাকার মান, যা মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রচণ্ড চাপ ফেলেছে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যেতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি চলতি হিসাব পরিচালনা করে। এতে ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, আর ওই চাপ মোকাবেলায় করণীয় বের করতে একটি সমীক্ষা চালাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ২৮৯ কোটি ডলার। নভেম্বরে এই ঘাটতি আরও বেড়ে ৩৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

সংসদকে অচল করবেন না, দেশের স্বার্থে আলোচনা চাই, সব দলকে আহ্বান মোদীর-আনন্দবাজার

দলের স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থেই অধিবেশনকে সচল রাখতে হবে। শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই সমস্ত সাংসদ ও মন্ত্রীর উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “আশা করি সাংসদরা শুধু নিজেদের বা দলের কথা না ভেবে দেশবাসীর কল্যাণের স্বার্থেই পার্লামেন্টকে সচল রাখবেন।”

শীতকালীন অধিবেশনের ‘ওয়ার্ম আপ’ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই অধিবেশন যে মোদীর পক্ষে স্বস্তিদায়ক হবে না তার আঁচ ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। রাফাল চুক্তি, কৃষক সমস্যা, সিবিআই-দ্বন্দ্বের মতো সমস্যা তো ছিলই, সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত পটেলের ইস্তফা বিরোধীদের হাতে আক্রমণের নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। সব মিলিয়ে শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধীরা যে মোদীর সরকারের উপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করতে চলেছেন সেটা বলাই বাহুল্য।

অধিবেশন অচল হতে পারে এমনই একটা আশঙ্কার মেঘ দেখা দিয়েছে।  সেটা আঁচ করতে পেরেই মোদী সব দলের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, সরকার সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।বিরোধীরাও সংসদ সচল রেখে সরকারকে সহযোগিতা করে। 

সেমিফাইনাল প্রমাণ করল বিজেপি কোথাও নেই, টুইট মমতার-দৈনিক আজকাল

‘পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ফলাফলের ট্রেন্ডই বলে দিচ্ছে সেমিফাইনালেই বিজেপি কোথাও নেই। ২০১৯–এর লোকসভা নির্বাচনের আগে এটাই গণতন্ত্রের জয়। মানুষই ম্যান অব দ্য ম্যাচ গণতন্ত্রে। দেশবাসীর জয়। তিন রাজ্যের সম্ভাব্য জয়ীদের আমার শুভেচ্ছা।’ টুইট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।  কেন্দ্রে জোট সরকার গড়ার সূত্রটা তিনিই বেঁধে দিয়েছেন। তাঁরই নেতৃত্বে একমঞ্চে এসেছে ২১টি রাজনৈতিক দল। এই ঐতিহাসিক জোটের যে মধ্যমণি তিনিই সেটা সোমবারই রাজধানী দিল্লির বৈঠকে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। 

কর্ণাটকে জোট সরকার গড়ার কৌশলটা তৃণমূল নেত্রীই বাতলে দিয়েছিলেন কংগ্রেসকে। সেই সূত্র মেনেই বিজেপিকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল কংগ্রেস। এবার পাঁচ রাজ্যেও সেই থিওরি মেনেও যে কাজ হয়েছে তা অনস্বীকার্য। 

লোকসভা নির্বাচনের সেমিফাইনালে ভরাডুবি বিজেপির, কী বললেন মোদি?-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভোটের  ফলাফলের ট্রেন্ডে ধরাশায়ী গেরুয়া শিবির৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সভাপতি হিসাবে দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই বড় সাফল্য রাহুল গান্ধীর৷ এদিকে, সেমিফাইনালে এহেন ভরাডুবিতে চিন্তিত মোদি ব্রিগেড৷ সংসদে শীতকালীন অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এক্কেবারে প্রতিক্রিয়াহীন দলের ক্যাপ্টেন৷ নির্বাচনে পিছিয়ে থাকার বিষয়ে কোনও মন্তব্যই করলেন না নরেন্দ্র মোদি৷  সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিন রাজ্যে ভরাডুবির প্রসঙ্গে একটিও শব্দ খরচ করেননি তিনি৷ 

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১১