ডিসেম্বর ১৪, ২০১৮ ১৫:০০ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১৪ ডিসেম্বর শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি । আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • সরকার আর চায় না যে নির্বাচন হোক: মির্জা ফখরুল-দৈনিক প্রথম আলো
  • জনগণ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবে : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ‘তৃতীয় শক্তি’ নিয়ে সিইসির বক্তব্য সন্দেহজনক: বিএনপি-দৈনিক যুগান্তর
  • ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা-দৈনিক মানবজমিন
  • গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

ভারতের শিরোনাম:

  • রাহুলকে জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, রাফালে ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ অমিতের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • রাফাল চুক্তিতে গলদ নেই, কোনও তদন্ত নয়, জানাল সুপ্রিম কোর্ট, স্বস্তিতে কেন্দ্র-দৈনিক আনন্দবাজার
  • কর মকুবের ইস্যু মাথায় নিয়ে সোমবার শপথ নেবেন কমলনাথ-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশ-

প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সর্বস্তরের মানুষ। খবরটি প্রায়সবগুলো জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। 

এদিকে রাজনৈতিক খবরে দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম এরকম যে, সরকার আর চায় না যে নির্বাচন হোক: মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

খবরটিতে লেখা হয়েছে, আজ বগুড়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার আর চায় না যে নির্বাচন হোক। কারণ, তারা জেনে গেছে, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, সারা দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সরকারের হাতে। 

জনগণ বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবে : ওবায়দুল কাদের-দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হচ্ছে সে নির্বাচনে দেশের জনগণ সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারক-বাহক বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ কথা বলেন।

১৯৭১ সালের এ দিনে দখলদার পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। 

‘তৃতীয় শক্তি’ নিয়ে সিইসির বক্তব্য সন্দেহজনক: বিএনপি-দৈনিক যুগান্তর

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে সিইসিকে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। ‘হঠাৎ তার এই বক্তব্য গভীর সন্দেহজনক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।’ আর দৈনিক মানবজমিনের খবরে লেখা হয়েছে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে  জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে হামলা চালানো হয়।এতে বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। 

এর মধ্যে আসম আবদুর রবের গাড়ি চালককে আহত আবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল আফরিক মানবজমিনকে বলেন, আজকে যারা স্বাধীনতার পক্ষের কথা বলে তারাই শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে হামলা চালিয়ে প্রমান দিল তারা আসলে কি।

গণতান্ত্রিক অধিকার হুমকির মুখে : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-দৈনিক নয়া দিগন্ত

যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করে ও ভয় দেখিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী মত প্রকাশের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় সহিংসতা রোধে এবং সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও অন্যান্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো উচিত বলে মন্তব্য করা হয় ঐ বিবৃতিতে।

এদিকে দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশে পক্ষপাতহীন, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সর্বসম্মত বিল পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস।

একিসাথে নির্বাচনে ভোটার যেনো নির্বিঘ্নে তাদের ভোটে অংশ নিতে পারে, স্বাধীন মত প্রকাশে যেনো কোনো রকমের বাধা প্রদান না করা হয় সে বিষয়েও জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে পাস হওয়া বিলটিতে।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

রাফায়েল চুক্তিতে গলদ নেই, কোনও তদন্ত নয়, জানাল সুপ্রিম কোর্ট, স্বস্তিতে কেন্দ্র-দৈনিকত আনন্দবাজার

রাফায়েল যুদ্ধ বিমান

রাফায়েল নিয়ে শীর্ষ আদালতে স্বস্তি পেল মোদী সরকার। তদন্তের দাবি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। সাফ জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।

রাফায়েল মামলা খারিজ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের মন্তব্য, ‘‘যুদ্ধবিমান কেনার প্রযুক্তিগত এবং পদ্ধতিগত বিষয় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।’’ একই সঙ্গে বিচারপতিরা বলেন, ‘‘এমন কোনও তথ্যগত প্রমাণ আমরা খুঁজে পাইনি, যাতে মনে হয় যে কাউকে বেআইনি ভাবে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।’’ আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ।

রাহুলকে জনতার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, রাফালে ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ অমিতের-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাান্ধী

রাফায়েল মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই রাহুল গান্ধীকে একযোগে আক্রমণ বিজেপি শীর্ষ নেতাদের। একই সুরে রাহুলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে অমিত শাহর। রাফায়েল নিয়ে গোটা দেশকে বিভ্রান্ত করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। রাহুল মিথ্যে কথা বলেছেন, এই রায় মিথ্যেবাদীদের মুখে চপেটাঘাত। অভিযোগ বিজেপি সভাপতির। অমিত শাহ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সেনা এবং দেশের জনতাকে বিভ্রান্ত করে রাফালে চুক্তি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন রাহুল। এটা সেনা এবং জনতার অপমান। কংগ্রেস সভাপতির ক্ষমা চাওয়া উচিত।” রাফায়েল মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরই সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সত্যের জয় হয়েছে। সব চোর এক জায়গায় হয়ে চৌকিদারকে চোর চোর বললেই জনতা তা মেনে নেবে না।” শুধু রাহুলকে মিথ্যেবাদী বলেই ক্ষান্ত হননি বিজেপি সভাপতি, সেই সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতির উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি প্রশ্নও ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।

কর মওকুফের ইস্যু মাথায় নিয়ে সোমবার শপথ নেবেন কমলনাথ-দৈনিক আজকাল

 দু’দিনের স্নায়ুর লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কমলনাথের নাম ঘোষণা করে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। বৃহস্পতিবার নির্বাচিত কংগ্রেস প্রার্থীদের বৈঠকে কমলনাথকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এরপরই তাঁর মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসার রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যায়। কমলনাথকে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ পাঠান রাজ্যপাল। শুক্রবার রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেলের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেন কমলনাথ।

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৩